দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদের তারলাই এলাকায় খাদিজা আল-কুবরা ইমামবাড়ায় জুমার নামাজের সময় ভয়াবহ বিস্ফোরণে অন্তত ২৪ জন নিহত ও ১০১ জন আহত হয়েছেন। জেলা প্রশাসনের একজন মুখপাত্র এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
বিস্ফোরণের পরপরই পুলিশ ও রেসকিউ ১১২২ সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার কার্যক্রম শুরু করেন। নিরাপত্তা বাহিনী পুরো এলাকা ঘিরে ফেলে এবং আহতদের বিভিন্ন হাসপাতালে পাঠানো হয়। ইসলামাবাদের পলিক্লিনিক, পাকিস্তান ইনস্টিটিউট অব মেডিক্যাল সায়েন্সেস পিমস এবং সিডিএ হাসপাতালে জরুরি অবস্থা জারি করা হয়েছে। পিমস হাসপাতালের মুখপাত্র জানান, প্রধান জরুরি বিভাগ, অর্থোপেডিক, বার্ন সেন্টার ও নিউরোলজি বিভাগ সক্রিয় করা হয়েছে এবং আহতদের সেখানে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।
ইসলামাবাদ ক্যাপিটাল টেরিটরি পুলিশের মুখপাত্র তাকি জাওয়াদ বলেন, বিস্ফোরণের ধরন সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া এখনো সম্ভব হয়নি, তবে প্রাথমিকভাবে এটি আত্মঘাতী হামলা বলে ধারণা করা হচ্ছে।
এই হামলার সময় উজবেকিস্তানের প্রেসিডেন্ট শাভকাত মিরজিয়োয়েভ দুই দিনের সরকারি সফরে ইসলামাবাদে অবস্থান করছিলেন।
বিস্ফোরণের ঘটনায় পাকিস্তানের প্রেসিডেন্ট আসিফ আলী জারদারি গভীর শোক প্রকাশ করেছেন। তিনি বলেন, নিরীহ মানুষকে লক্ষ্য করে হামলা মানবতার বিরুদ্ধে অপরাধ এবং আহতদের দ্রুত আরোগ্য কামনা করেন। প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফও হামলাটির তীব্র নিন্দা জানিয়ে নিহতদের পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়েছেন।
সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী তারিক ফজল চৌধুরী একে ‘কাপুরুষোচিত সন্ত্রাসী হামলা’ উল্লেখ করে বলেন, এ ধরনের সহিংসতা জাতির মনোবল ভাঙতে পারবে না এবং শান্তি ও স্থিতিশীলতার জন্য সবাইকে ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে। সিনেটের বিরোধীদলীয় নেতা আল্লামা রাজা নাসির আব্বাস বলেন, রাজধানীতে এ ধরনের সন্ত্রাসী হামলা মানবজীবন রক্ষায় প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ব্যর্থতার প্রশ্ন তোলে। তিনি যুবসমাজকে রক্তদানের মাধ্যমে আহতদের সহায়তায় এগিয়ে আসার আহ্বান জানান।
এর আগে গত বছরের ১১ নভেম্বর ইসলামাবাদের জি-১১ এলাকায় জেলা ও দায়রা জজ আদালতের বাইরে আত্মঘাতী বিস্ফোরণে ১২ জন নিহত এবং ৩০ জনের বেশি আহত হয়েছিলেন।
সূত্র: দ্যা ডন
এমএস/