দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

ইরানজুড়ে চলমান বিক্ষোভ ও যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক হস্তক্ষেপের হুমকিতে উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছে আরব উপসাগরীয় দেশগুলো। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তেহরানের বিরুদ্ধে সামরিক পদক্ষেপের কথা বলায় অঞ্চলজুড়ে অস্থিরতা ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা করছেন তারা।
এই পরিস্থিতিতে পর্দার আড়ালে কূটনৈতিক তৎপরতা জোরদার করেছে সৌদি আরব, কাতার ও ওমান। সৌদি আরব যুক্তরাষ্ট্রকে ইরানে হামলা থেকে বিরত রাখতে তদবির করছে বলে জানা গেছে। অন্যদিকে কাতার ও ওমান ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের কর্মকর্তাদের মধ্যে যোগাযোগ পুনরায় চালুর চেষ্টা করছে। বুধবার ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে যোগাযোগ ভেঙে পড়ার খবর ছড়িয়ে পড়ার পর এসব দেশের কূটনৈতিক উদ্যোগ আরও জোরালো হয়।
বিশ্লেষকদের মতে, যুক্তরাষ্ট্রের উদ্দেশ্য কী—তা স্পষ্ট না হওয়ায় উপসাগরীয় সহযোগিতা পরিষদের দেশগুলো চরম উদ্বেগে ছিল। ট্রাম্প ইরানে রক্তপাতের ঘটনায় সামরিক হস্তক্ষেপের হুমকি দেওয়ার পর থেকেই উত্তেজনা বাড়তে থাকে। ইরানের দাবি, বিক্ষোভে সংঘর্ষে তাদের শতাধিক নিরাপত্তা সদস্য নিহত হয়েছে। আর বিরোধী পক্ষ বলছে, নিহত বিক্ষোভকারীর সংখ্যা হাজার ছাড়িয়েছে।
উপসাগরীয় দেশগুলোর আশঙ্কা, ইরানে হামলা হলে তেলের দাম অস্থির হয়ে পড়বে, ব্যবসাবান্ধব অঞ্চল হিসেবে তাদের ভাবমূর্তি ক্ষতিগ্রস্ত হবে এবং পাল্টা হামলার লক্ষ্য হতে পারে তাদের ভূখণ্ডই। অতীতে এমন নজিরও আছে। ২০১৯ সালে ইয়েমেনের হুতি বিদ্রোহীদের হামলায় সৌদি আরবের তেল স্থাপনায় বড় ধাক্কা লাগে। গত বছর যুক্তরাষ্ট্রের হামলার জবাবে ইরান কাতারের আল উদেইদ ঘাঁটিতে আঘাত হানে।
ইরান ইতিমধ্যে সতর্ক করেছে, যুক্তরাষ্ট্র হামলা চালালে সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত ও তুরস্কসহ বিভিন্ন দেশে থাকা মার্কিন ঘাঁটিতে আঘাত হানা হবে। এর পর কাতারের আল উদেইদ ঘাঁটি থেকে কিছু মার্কিন সদস্য সরিয়ে নেওয়ার খবর পাওয়া যায়।
হোয়াইট হাউসে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলতে গিয়ে ট্রাম্প বলেন, ইরানে হত্যা বন্ধ হয়েছে এবং মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের কোনো পরিকল্পনা নেই। তবে তিনি সামরিক পদক্ষেপের সম্ভাবনাও নাকচ করেননি।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, উপসাগরীয় দেশগুলোর সবারই ইরানের সঙ্গে আলাদা সম্পর্ক আছে, কিন্তু তারা সবাই ভয় পাচ্ছে—হঠাৎ করে ইরানের নেতৃত্ব বদলে গেলে বা ব্যবস্থা ভেঙে পড়লে কী হবে। ২০০৩ সালে ইরাকে যুক্তরাষ্ট্রের আগ্রাসনের পর যে বিশৃঙ্খলা তৈরি হয়েছিল, তা তারা আবার দেখতে চায় না।
সৌদি আরব ও ইরান দীর্ঘদিনের প্রতিদ্বন্দ্বী হলেও সাম্প্রতিক বছরগুলোতে উত্তেজনা নিয়ন্ত্রণে যোগাযোগ বজায় রাখার পথে হাঁটছে দুই দেশ। সৌদি আরব বিশেষভাবে আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা চায়, কারণ দেশটি বড় অর্থনৈতিক সংস্কার ও পর্যটন খাত সম্প্রসারণের পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করছে।
সৌদি পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী আদেল আল-জুবেইর বলেন, তাদের লক্ষ্য স্থিতিশীলতা ও শান্তি নিশ্চিত করা, যাতে জনগণের জন্য ভালো ভবিষ্যৎ গড়া যায়। বিশ্লেষকদের মতে, ইরানে ধীরে ধীরে পরিবর্তন এলে সৌদি আরব আপত্তি নাও করতে পারে, তবে হঠাৎ শাসনব্যবস্থা ভেঙে পড়া পুরো অঞ্চলের জন্যই বিপজ্জনক হবে।
সূত্র: আল জাজিরা
এমএস/