দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

ভেনেজুয়েলার বিরোধী নেত্রী ও নোবেল শান্তি পুরস্কারপ্রাপ্ত মারিয়া কোরিনা মাচাদো যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের হাতে নিজের নোবেল শান্তি পুরস্কারের মেডেল তুলে দিয়েছেন। তিনি বলেছেন, ভেনেজুয়েলার স্বাধীনতার পক্ষে ট্রাম্পের অবস্থানের স্বীকৃতি হিসেবেই এই উপহার দেওয়া হয়েছে।
হোয়াইট হাউসে ট্রাম্পের সঙ্গে প্রথমবারের মতো সরাসরি সাক্ষাতের পর মাচাদো বলেন, ভেনেজুয়েলার জনগণের জন্য এটি একটি ঐতিহাসিক দিন। কয়েক সপ্তাহ আগে যুক্তরাষ্ট্রের বাহিনী কারাকাসে ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে আটক করে মাদক পাচারের মামলায় অভিযুক্ত করার পর এই বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।
ট্রাম্প সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মাচাদোর এই উদ্যোগকে পারস্পরিক সম্মানের চমৎকার নিদর্শন বলে মন্তব্য করেন। তবে নোবেল কমিটি স্পষ্ট করেছে, নোবেল শান্তি পুরস্কার বা এর মর্যাদা হস্তান্তরযোগ্য নয়।
২০২৪ সালের বিতর্কিত নির্বাচনে নিজের আন্দোলনের বিজয়ের দাবি থাকলেও ট্রাম্প এখনো মাচাদোকে ভেনেজুয়েলার নতুন নেতা হিসেবে সমর্থন দেননি। তিনি বর্তমানে দেশটির অন্তর্বর্তী প্রধান ডেলসি রদ্রিগেজের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছেন, যিনি মাদুরোর সাবেক ভাইস প্রেসিডেন্ট। তবুও ট্রাম্প মাচাদোর সঙ্গে সাক্ষাৎকে বড় সম্মান বলে উল্লেখ করেন এবং তাকে একজন সাহসী নারী হিসেবে প্রশংসা করেন।
হোয়াইট হাউস থেকে বেরিয়ে মাচাদো সমর্থকদের উদ্দেশে বলেন, ভেনেজুয়েলার জনগণ প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের ওপর ভরসা রাখতে পারে। সাংবাদিকদের তিনি জানান, যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্টকে নোবেল শান্তি পুরস্কারের মেডেল দেওয়া হয়েছে ভেনেজুয়েলার স্বাধীনতার প্রতি তার বিশেষ অঙ্গীকারের স্বীকৃতি হিসেবে।
এর আগে নোবেল কমিটি জানায়, কোনো নোবেল পুরস্কার একবার ঘোষণা হলে তা বাতিল, ভাগ বা অন্যের কাছে হস্তান্তর করা যায় না। নোবেল শান্তি কেন্দ্রও বলেছে, মেডেলের মালিকানা বদলাতে পারে, কিন্তু নোবেল বিজয়ীর মর্যাদা বদলায় না।
মাচাদো তার বক্তব্যে যুক্তরাষ্ট্র ও ভেনেজুয়েলার ঐতিহাসিক সম্পর্কের কথাও উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, স্বাধীনতার সংগ্রামে দুই দেশের জনগণের ভ্রাতৃত্বের প্রতীক হিসেবেই এই মেডেল উপহার দেওয়া হয়েছে।
ওয়াশিংটন সফরে মাচাদো কংগ্রেসের সিনেটরদের সঙ্গেও বৈঠক করেন। এ সময় তার সমর্থকেরা ভেনেজুয়েলার পতাকা হাতে ‘মারিয়া, প্রেসিডেন্ট’ স্লোগান দেন।
এদিকে মাদুরো আটক হওয়ার পর যুক্তরাষ্ট্র দ্রুত ভেনেজুয়েলার তেল খাত নিয়ে পদক্ষেপ নেয়। সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্র প্রথমবারের মতো ভেনেজুয়েলার তেল বিক্রি সম্পন্ন করেছে বলে জানানো হয়েছে। একই সঙ্গে নিষেধাজ্ঞার আওতায় থাকা তেল পরিবহনের অভিযোগে একাধিক তেলবাহী জাহাজ জব্দ করেছে মার্কিন বাহিনী।
অন্যদিকে ভেনেজুয়েলার অন্তর্বর্তী নেতা ডেলসি রদ্রিগেজও ওয়াশিংটনের সঙ্গে কূটনৈতিক যোগাযোগে আগ্রহ প্রকাশ করেছেন। তিনি বলেন, প্রয়োজনে যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সম্মানের সঙ্গে কূটনৈতিক আলোচনা করবেন। সম্প্রতি ট্রাম্প ও রদ্রিগেজের মধ্যে ফোনালাপও হয়েছে, যা উভয় পক্ষই সৌহার্দ্যপূর্ণ ও সম্মানজনক বলে বর্ণনা করেছে।
সূত্র: বিবিসি
এমএস/