দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

কলম্বিয়ার প্রেসিডেন্ট গুস্তাভো পেত্রো বলেছেন, তার দেশ এখন যুক্তরাষ্ট্রের সম্ভাব্য সামরিক হামলার একটি ‘বাস্তব হুমকি’র মুখে রয়েছে। বিবিসিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ক্রমেই অন্য দেশগুলোকে নিজের ‘সাম্রাজ্যের অংশ’ হিসেবে দেখছে।
ডোনাল্ড ট্রাম্প কলম্বিয়ার বিরুদ্ধে সামরিক পদক্ষেপের হুমকি দেওয়ার পর পেত্রোর এই মন্তব্য আসে। পেত্রোর ভাষায়, যুক্তরাষ্ট্র এভাবে চলতে থাকলে ‘বিশ্বকে নিয়ন্ত্রণ করা শক্তি’ থেকে একসময় ‘বিশ্ব থেকে বিচ্ছিন্ন’ দেশে পরিণত হতে পারে।
পেত্রো যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ও কাস্টমস এনফোর্সমেন্ট বা আইসের কর্মকাণ্ডেরও তীব্র সমালোচনা করেন। তিনি বলেন, আইসের এজেন্টরা ‘নাৎসি বাহিনীর মতো’ আচরণ করছে। ট্রাম্প প্রশাসন অবৈধ অভিবাসন ও অপরাধ দমনের নামে আইসের কার্যক্রম ব্যাপকভাবে বাড়িয়েছে।
বিবিসি এ বিষয়ে হোয়াইট হাউসের মন্তব্য জানতে চেয়েছে। ভেনেজুয়েলায় মার্কিন সামরিক অভিযান ও নিকোলাস মাদুরোকে আটক করার পর ট্রাম্প বলেছিলেন, কলম্বিয়াকে লক্ষ্য করে সামরিক অভিযান ‘ভালোই শোনায়’। ট্রাম্প একাধিকবার পেত্রোকে ‘নিজেকে সামলাতে’ বলেছেন বলেও উল্লেখ করেন কলম্বিয়ার প্রেসিডেন্ট, যা তিনি তীব্রভাবে নিন্দা করেন।
বুধবার সন্ধ্যায় ট্রাম্প ও পেত্রোর মধ্যে ফোনালাপ হয়। এরপর ট্রাম্প জানান, তিনি শিগগিরই হোয়াইট হাউসে কলম্বিয়ার প্রেসিডেন্টের সঙ্গে সাক্ষাৎ করবেন। নিজের ট্রুথ সোশ্যাল প্ল্যাটফর্মে ট্রাম্প ওই কথোপকথনকে ‘বড় সম্মান’ বলে উল্লেখ করেন। কলম্বিয়ার এক কর্মকর্তা তখন জানান, উভয় পক্ষের বক্তব্যে ‘১৮০ ডিগ্রি পরিবর্তন’ দেখা গেছে।
তবে বৃহস্পতিবার পেত্রোর বক্তব্যে বোঝা যায়, সম্পর্কের বড় ধরনের উন্নতি হয়নি। তিনি বলেন, ফোনালাপটি প্রায় এক ঘণ্টা ছিল এবং আলোচনার বড় অংশই তিনি কথা বলেছেন। সেখানে মাদক পাচার, ভেনেজুয়েলার পরিস্থিতি ও লাতিন আমেরিকা নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের ভূমিকা উঠে আসে।
পেত্রো আবারও আইসের অভিযানের কড়া সমালোচনা করে বলেন, সংস্থাটি শুধু লাতিন আমেরিকানদের নিপীড়ন করছে না, এখন মার্কিন নাগরিকদেরও হত্যা করছে। মিনিয়াপোলিসে এক অভিযানে ৩৭ বছর বয়সী এক মার্কিন নারী নিহত হওয়ার ঘটনার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, এটি অত্যন্ত উদ্বেগজনক।
পেত্রোর মতে, এই পরিস্থিতি চলতে থাকলে যুক্তরাষ্ট্র একা হয়ে পড়বে। তিনি বলেন, বহু দশক ধরে যুক্তরাষ্ট্র বিশেষ করে লাতিন আমেরিকার দেশগুলোর সঙ্গে আইন উপেক্ষা করে সাম্রাজ্যবাদী আচরণ করেছে।
ভেনেজুয়েলায় মার্কিন সামরিক অভিযানের পর পেত্রো অভিযোগ করেন, ওয়াশিংটন তেল ও কয়লার জন্য যুদ্ধ চায়। তার দাবি, প্যারিস জলবায়ু চুক্তি থেকে যুক্তরাষ্ট্র সরে না গেলে এমন সংঘাত হতো না এবং বিশ্ব আরও গণতান্ত্রিক ও শান্তিপূর্ণ থাকত।
কলম্বিয়ার বিরুদ্ধে সামরিক হুমকির পর দেশটিতে সার্বভৌমত্ব ও গণতন্ত্রের পক্ষে বিক্ষোভ হয়েছে। পেত্রো বলেন, ট্রাম্পের মন্তব্য সত্যিই একটি ‘বাস্তব হুমকি’ এবং কলম্বিয়ার অতীত ইতিহাস, বিশেষ করে পানামা হারানোর অভিজ্ঞতা, তাকে উদ্বিগ্ন করে।
হামলার মুখে কলম্বিয়া কীভাবে আত্মরক্ষা করবে—এই প্রশ্নে পেত্রো বলেন, তিনি সংঘাত নয়, সংলাপকেই অগ্রাধিকার দিতে চান। তবে তিনি যোগ করেন, কলম্বিয়ার ইতিহাস দেখায় দেশটি কীভাবে বড় সেনাবাহিনীর মোকাবিলা করেছে। তার ভাষায়, আধুনিক অস্ত্র না থাকলেও জনগণ, পাহাড় ও জঙ্গলের ওপর ভর করেই তারা প্রতিরোধ গড়ে তুলেছে।
পেত্রো জানান, তিনি ভেনেজুয়েলার ভারপ্রাপ্ত প্রেসিডেন্ট ডেলসি রদ্রিগেজের সঙ্গেও কথা বলেছেন এবং তাকে কলম্বিয়া সফরের আমন্ত্রণ জানিয়েছেন। তিনি অভিযোগ করেন, বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থা দীর্ঘদিন ধরে ভেনেজুয়েলায় হস্তক্ষেপ করছে এবং কলম্বিয়াতেও গোপন তৎপরতার চেষ্টা হচ্ছে।
ট্রাম্প সম্প্রতি এয়ার ফোর্স ওয়ানে পেত্রোকে নিয়ে কটূক্তি করে বলেন, তিনি যুক্তরাষ্ট্রে কোকেন পাঠান। পেত্রো এই অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, তিনি ২০ বছর ধরে মাদক কার্টেলের বিরুদ্ধে লড়াই করছেন এবং এই কারণে তার পরিবারকে নির্বাসনে যেতে হয়েছে।
একসময় গেরিলা সদস্য থাকা পেত্রো ক্ষমতায় এসে ‘সম্পূর্ণ শান্তি’ নীতির কথা বলেন এবং সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর সঙ্গে সংলাপে জোর দেন। সমালোচকদের মতে, এই নীতি খুবই নমনীয় হওয়ায় কোকেন উৎপাদন রেকর্ড পরিমাণে বেড়েছে। তবে পেত্রোর দাবি, কোকা চাষের বৃদ্ধি এখন ধীর হয়েছে এবং শান্তি আলোচনা ও সামরিক অভিযান—এই দুই পথ একসঙ্গে অনুসরণ করা হচ্ছে।
সুত্র: বিবিসি
এমএস/