দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি দেশটির বিক্ষোভকারীদের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের পক্ষে কাজ করার অভিযোগ তুলেছেন।
তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, ‘দাঙ্গাকারীরা সরকারি সম্পত্তিতে হামলা চালাচ্ছে।’ সতর্ক করে দেন, ‘বিদেশিদের ভাড়াটে হিসেবে কাজ করা কাউকে তেহরান সহ্য করবে না।’ খবর রয়টার্স
সংবাদ সংস্থাটির প্রতিবেদনে বলা হয়, শুক্রবার ইরান কার্যত বাইরের বিশ্বের সঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে, যখন কর্তৃপক্ষ ক্রমবর্ধমান বিক্ষোভ দমনে ইন্টারনেট বন্ধ করে দেয়। ফোন কল ইরানে পৌঁছাচ্ছিল না, ফ্লাইট বাতিল করা হয় এবং ইরানি সংবাদমাধ্যমগুলো অনলাইনে মাঝেমধ্যে আপডেট হচ্ছিল।
খামেনি বলেন, ‘গত রাতে তেহরানে একদল দুষ্কৃতিকারী ও দাঙ্গাকারী এমন একটি ভবন ধ্বংস করেছে যা রাষ্ট্রের, জনগণেরই সম্পত্তি—শুধু যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্টের মন জোগাতে।’ ট্রাম্পকে উদ্দেশ্য করে তিনি বলেন, ‘নিজের দেশ সামলান।’
গত মাসের শেষ দিকে লাগামছাড়া মূল্যস্ফীতির বিরুদ্ধে শুরু হওয়া এই বিক্ষোভ ইসলামি প্রজাতন্ত্রে গত তিন বছরের মধ্যে সবচেয়ে বড় আন্দোলনে রূপ নিয়েছে। প্রতিটি প্রদেশেই অস্থিরতার খবর পাওয়া গেছে এবং মানবাধিকার সংগঠনগুলো কয়েক ডজন মৃত্যুর তথ্য নথিভুক্ত করেছে।
ইরানের বিভক্ত বিদেশি বিরোধী গোষ্ঠীগুলো শুক্রবার আরও বিক্ষোভের ডাক দেয়। প্রয়াত শাহের নির্বাসিত ছেলে রেজা পাহলভি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ইরানিদের উদ্দেশে বলেন, ‘বিশ্বের চোখ তোমাদের দিকে। রাস্তায় নেমে এসো।’
ট্রাম্প গত সপ্তাহে তেহরানকে সতর্ক করেছিলেন, তিনি বিক্ষোভকারীদের সহায়তায় এগিয়ে আসতে পারেন। শুক্রবার বলেন, তিনি পাহলভির সঙ্গে সাক্ষাৎ করবেন না এবং তাকে সমর্থন করা ‘উপযুক্ত হবে কিনা সে বিষয়ে তিনি নিশ্চিত নন।’
রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে প্রকাশিত রাতের ছবিতে দেখা যায়—যা তাদের দাবি অনুযায়ী—বাস, গাড়ি ও মোটরবাইক জ্বলছে, পাশাপাশি মেট্রো স্টেশন ও ব্যাংকে আগুন লেগেছে। কর্তৃপক্ষের অভিযোগ, ১৯৭৯ সালের ইসলামি বিপ্লবের পর ভেঙে যাওয়া একটি বিরোধী গোষ্ঠী, পিপলস মুজাহিদিন অর্গানাইজেশন (এমকেও), এই অস্থিরতার পেছনে রয়েছে।
কাস্পিয়ান সাগরের তীরবর্তী বন্দর শহর রাশতের শরিয়াতি স্ট্রিটে আগুনের সামনে দাঁড়িয়ে এক রাষ্ট্রীয় টিভি সাংবাদিক বলেন, ‘এটা যেন যুদ্ধক্ষেত্র—সব দোকান ধ্বংস হয়ে গেছে।’
ইরান এর আগেও এর চেয়ে বড় অস্থিরতা দমন করেছে, কিন্তু এবার দেশটি আরও ভয়াবহ অর্থনৈতিক সংকট এবং পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে সেপ্টেম্বর থেকে পুনরায় আরোপিত বৈশ্বিক নিষেধাজ্ঞার কারণে বাড়তি আন্তর্জাতিক চাপের মুখে রয়েছে।
শুক্রবার এক ফরাসি কূটনৈতিক সূত্র জানায়, বিক্ষোভকারীদের প্রতি ইরানের সর্বোচ্চ সংযম দেখানো উচিত।
ইসরায়েল বৃহস্পতিবার জানায়, তারা গাজায় বিদেশি চিকিৎসা ও মানবিক সহায়তাকর্মীদের প্রবেশে বাধা দিয়েছে, যেসব সংস্থা তাদের কর্মীদের ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষের কাছে নিবন্ধন করেনি।
প্রথমদিকে বিক্ষোভ ছিল মূলত অর্থনীতি কেন্দ্রিক। গত বছর রিয়াল মুদ্রার ডলারের বিপরীতে অর্ধেক মূল্য হারানো এবং ডিসেম্বরে মূল্যস্ফীতি ৪০ শতাংশ ছাড়ানোর পর পরিস্থিতি আরও খারাপ হয়। পরে এই আন্দোলন সরাসরি সরকারের বিরোধী স্লোগানেও রূপ নেয়।
বিক্ষোভকারীরা ‘স্বৈরশাসকের মৃত্যু হোক’সহ নানা স্লোগান দেয় এবং ১৯৭৯ সালে উৎখাত হওয়া সাবেক রাজতন্ত্রের প্রশংসাও করে। তবে ইরানের ভেতরে রাজতন্ত্র বা এমকেও—যা প্রবাসী ইরানিদের মধ্যে সবচেয়ে সরব গোষ্ঠীগুলোর একটি—এর প্রতি কতটা সমর্থন আছে, তা নিয়ে মতভেদ রয়েছে।
রয়টার্স জানায়, যাচাই করতে না পারা ভিডিওগুলোতে দেখা যায়, অধিকাংশ বিক্ষোভকারী তরুণ পুরুষ। এর ফলে রাতারাতি ইরান ইন্টারনেট বন্ধ করে দেয়। বিদেশ থেকে ইরানে ফোন করার চেষ্টা করলে শুক্রবার রয়টার্সের সাংবাদিকরা সংযোগ পাননি।
দুবাই বিমানবন্দর ওয়েবসাইট অনুযায়ী, শুক্রবার দুবাই ও ইরানের বিভিন্ন শহরের মধ্যে নির্ধারিত অন্তত ছয়টি ফ্লাইট বাতিল করা হয়।
এবি/