দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

ভেনেজুয়েলায় সামরিক অভিযান চালিয়ে দেশটির প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে আটক করেছে যুক্তরাষ্ট্র। মার্কিন সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, ‘সঠিক ও নিরাপদ ক্ষমতা হস্তান্তর’ না হওয়া পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্র সাময়িকভাবে দেশটি পরিচালনা করবে।
খবরে বলা হয়েছে, স্থানীয় সময় রাত ২টা ১ মিনিটে বিশেষ বাহিনীর অভিযানে মাদুরো ও তাঁর স্ত্রী সিলিয়া ফ্লোরেসকে রাজধানী কারাকাসের বাসভবন থেকে আটক করা হয়। অভিযানের সময় কারাকাসের বিদ্যুৎ ব্যবস্থা সাময়িকভাবে বিচ্ছিন্ন করা হয় এবং একাধিক সামরিক ঘাঁটিতে হামলা চালানো হয়। যুক্তরাষ্ট্রের দাবি, অভিযানে তাদের কোনো সেনা নিহত হয়নি, অল্প কয়েকজন আহত হয়েছেন।
মাদুরো ও তাঁর স্ত্রীকে প্রথমে একটি মার্কিন যুদ্ধজাহাজে নেওয়া হয়, পরে বিমানে করে যুক্তরাষ্ট্রে পাঠানো হয়। নিউইয়র্কে তাঁদের বিরুদ্ধে অস্ত্র ও মাদকসংক্রান্ত একাধিক অভিযোগে মামলা করা হয়েছে। মার্কিন অ্যাটর্নি জেনারেল জানিয়েছেন, তাঁরা যুক্তরাষ্ট্রের আদালতেই বিচারের মুখোমুখি হবেন।
ট্রাম্প বলেন, যুক্তরাষ্ট্র আপাতত ভেনেজুয়েলার শাসনব্যবস্থা দেখভাল করবে। তিনি জানান, পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও ভেনেজুয়েলার ভাইস প্রেসিডেন্ট ডেলসি রদ্রিগেজের সঙ্গে কথা বলেছেন। দেশটির সুপ্রিম কোর্ট রদ্রিগেজকে অন্তর্বর্তী প্রেসিডেন্ট হিসেবে ঘোষণা করেছে বলে জানানো হলেও তিনি টেলিভিশনে এসে মাদুরোর মুক্তির দাবি জানিয়ে বলেছেন, মাদুরোই দেশের একমাত্র প্রেসিডেন্ট।
ভেনেজুয়েলার বিরোধী নেত্রী মারিয়া কোরিনা মাচাদো আগেই এদমুন্দো গনসালেসকে ক্ষমতায় বসানোর দাবি তুলেছিলেন। তাঁর দলের প্রকাশিত ভোটের হিসাবে গনসালেস বিপুল ভোটে জিতেছিলেন বলে দাবি করা হয়। তবে ট্রাম্প বলেছেন, মাচাদোর দেশটির ভেতরে যথেষ্ট সমর্থন নেই।
আগামী দিনগুলোতে আরও সামরিক পদক্ষেপের সম্ভাবনা উড়িয়ে দেননি ট্রাম্প। তিনি বলেন, প্রয়োজনে সেনা পাঠাতে যুক্তরাষ্ট্র পিছপা হবে না। একই সঙ্গে তিনি জানান, মার্কিন তেল কোম্পানিগুলো ভেনেজুয়েলায় কাজ শুরু করবে এবং তেল বিক্রি করে দেশটি ও যুক্তরাষ্ট্র উভয়ই লাভবান হবে।
ভেনেজুয়েলা সরকার এই হামলাকে দেশের তেল ও খনিজ সম্পদ দখলের চেষ্টা বলে আখ্যা দিয়েছে। দেশটির দাবি, এটি তাদের রাজনৈতিক স্বাধীনতা ভেঙে দেওয়ার ষড়যন্ত্র। ভেনেজুয়েলার কাছে বিশ্বের সবচেয়ে বড় প্রমাণিত তেল মজুত রয়েছে।
মাদুরোর বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র মাদক সন্ত্রাস, কোকেন পাচার, ভারী অস্ত্র রাখার মতো অভিযোগ এনেছে। তবে মাদুরো এসব অভিযোগ অস্বীকার করে আসছেন এবং বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র ‘মাদকবিরোধী যুদ্ধ’-এর অজুহাতে তাঁকে সরিয়ে তেল দখল করতে চায়।
এই ঘটনার পর বিশ্বজুড়ে প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। রাশিয়া, চীন ও ইরান যুক্তরাষ্ট্রের হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়েছে। লাতিন আমেরিকার একাধিক দেশ একে সার্বভৌমত্বের ওপর হামলা বলে মন্তব্য করেছে। জাতিসংঘের মহাসচিব এই ঘটনাকে ‘বিপজ্জনক দৃষ্টান্ত’ বলেছেন।
অন্যদিকে আর্জেন্টিনার প্রেসিডেন্ট হাভিয়ের মিলে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এই ঘটনাকে ‘স্বাধীনতার অগ্রগতি’ বলে স্বাগত জানিয়েছেন। ইউরোপীয় ইউনিয়ন বলেছে, শান্তিপূর্ণ ক্ষমতা হস্তান্তর প্রয়োজন, তবে আন্তর্জাতিক আইন মানা জরুরি।
সূত্র: বিবিসি
এমএস/