দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

দক্ষিণ কোরিয়ার নেতা চীনে রাষ্ট্রীয় সফরে যাওয়ার সময় উত্তর কোরিয়া তাদের পূর্ব উপকূলে একাধিক ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণ করেছে। এটি চলতি বছরের প্রথম ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা বলে জানানো হয়েছে।
দক্ষিণ কোরিয়ার সামরিক বাহিনীর তথ্য অনুযায়ী, স্থানীয় সময় রোববার (৪ জানুয়ারি) সকাল ৭টা ৫০ মিনিটে ক্ষেপণাস্ত্রগুলো উৎক্ষেপণ করা হয়। খবর আল জাজিরা
খবরে বলা হয়, ক্ষেপণাস্ত্রগুলো প্রায় ৯০০ কিলোমিটার দূরত্ব অতিক্রম করে সাগরে উৎক্ষেপণ করা হয়।
দক্ষিণ কোরিয়ার সামরিক কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, দক্ষিণ কোরিয়া ও যুক্তরাষ্ট্র যৌথভাবে ক্ষেপণাস্ত্রগুলোর প্রযুক্তিগত দিক বিশ্লেষণ করছে এবং উভয় দেশই সর্বোচ্চ প্রস্তুতি বজায় রেখেছে।
এশিয়া-প্যাসিফিক অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী এক বিবৃতিতে জানায়, এই উৎক্ষেপণগুলো তাৎক্ষণিকভাবে যুক্তরাষ্ট্র, তাদের ভূখণ্ড বা মিত্র দেশগুলোর জন্য সরাসরি কোনো হুমকি তৈরি করেনি।
জাপানের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ও জানিয়েছে, অন্তত দুটি ক্ষেপণাস্ত্র যথাক্রমে প্রায় ৯০০ ও ৯৫০ কিলোমিটার দূরত্ব অতিক্রম করেছে।
এ বিষয়ে জাপানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী শিনজিরো কোইজুমি বলেন, উত্তর কোরিয়ার পারমাণবিক ও ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক শান্তি ও স্থিতিশীলতার জন্য গুরুতর হুমকি এবং এটি কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।
এর আগে গত ৭ নভেম্বর উত্তর কোরিয়া সর্বশেষ ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা চালিয়েছিল।
উত্তর কোরিয়ার রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম জানিয়েছে, শনিবার দেশটির নেতা কিম জং উন একটি অস্ত্র কারখানা পরিদর্শন করেন। সেখানে তিনি কৌশলগত নির্দেশিত অস্ত্রের উৎপাদন সক্ষমতা বাড়ানোর নির্দেশ দেন। সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে কিম একাধিক অস্ত্র কারখানা ও একটি পারমাণবিক শক্তিচালিত সাবমেরিন পরিদর্শন করেছেন এবং আসন্ন নবম ওয়ার্কার্স পার্টি কংগ্রেসের আগে বিভিন্ন সামরিক কার্যক্রম তদারকি করেছেন। এই কংগ্রেসে চলতি বছরের শেষ দিকে গুরুত্বপূর্ণ নীতিগত সিদ্ধান্ত নেওয়া হতে পারে।
সিউলের ইনস্টিটিউট ফর ফার ইস্টার্ন স্টাডিজের অধ্যাপক লিম ইউল-চুল বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে বলেন, এই ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণের মাধ্যমে পিয়ংইয়ং মূলত চীনের প্রতি একটি বার্তা দিতে চেয়েছে, যাতে দক্ষিণ কোরিয়ার সঙ্গে বেইজিংয়ের ঘনিষ্ঠতা নিরুৎসাহিত হয় এবং উত্তর কোরিয়ার পারমাণবিক নিরস্ত্রীকরণ ইস্যুতে চীনের অবস্থানের বিরোধিতা প্রকাশ পায়।
তিনি আরও বলেন, এটি উত্তর কোরিয়ার শক্তি প্রদর্শনের অংশ, যার মাধ্যমে তারা নিজেদের অবস্থান ও সক্ষমতার কথা আন্তর্জাতিক মহলে স্পষ্ট করতে চাইছে।
এবি/