দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে আটক করতে পরিচালিত যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক অভিযানের তীব্র নিন্দা জানিয়েছে উত্তর কোরিয়া। পিয়ংইয়ং এ ঘটনাকে ভেনেজুয়েলার সার্বভৌমত্বে হস্তক্ষেপের ‘সবচেয়ে গুরুতর ও নিষ্ঠুর রূপ’ বলে আখ্যা দিয়েছে।
রোববার (৪ জানুয়ারি) উত্তর কোরিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এ প্রতিক্রিয়া জানায়। একই দিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ঘোষণা দেন, বড় পরিসরের একটি সামরিক অভিযানে ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরো ও তার স্ত্রীকে আটক করেছে ওয়াশিংটন।
উত্তর কোরিয়ার রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা কোরিয়ান সেন্ট্রাল নিউজ এজেন্সি (কেসিএনএ) প্রকাশিত বিবৃতিতে দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানায়, ‘ভেনেজুয়েলায় সংঘটিত যুক্তরাষ্ট্রের আধিপত্যবাদী কর্মকাণ্ড সার্বভৌমত্ব লঙ্ঘনের সবচেয়ে গুরুতর উদাহরণ। আমরা এর তীব্র নিন্দা জানাচ্ছি।’
এই ঘটনার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই রোববার উত্তর কোরিয়া ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণ করে। একই দিনে দক্ষিণ কোরিয়ার প্রেসিডেন্ট লি জে মিয়ং রাষ্ট্রীয় সফরে চীন যান—যে দেশটি উত্তর কোরিয়ার ঘনিষ্ঠ মিত্র। ফলে এই ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণ আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক উত্তেজনা আরও বাড়িয়ে তোলে।
দুই মাসের মধ্যে এটিই উত্তর কোরিয়ার প্রথম ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা। পিয়ংইয়ং থেকে উৎক্ষেপিত অন্তত দুটি ক্ষেপণাস্ত্র কোরীয় উপদ্বীপ ও জাপানের মধ্যবর্তী সাগরে পতিত হয়।
বিশ্লেষকদের মতে, এই উৎক্ষেপণের মাধ্যমে উত্তর কোরিয়া একাধিক বার্তা দিতে চেয়েছে। সিউলের ইনস্টিটিউট ফর ফার ইস্টার্ন স্টাডিজের অধ্যাপক লিম ইউল-চুল বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে বলেন, দক্ষিণ কোরিয়ার সঙ্গে চীনের ঘনিষ্ঠতা নিরুৎসাহিত করা এবং নিরস্ত্রীকরণ ইস্যুতে চীনের অবস্থানের পাল্টা বার্তা দিতেই এই উৎক্ষেপণ।
তিনি আরও বলেন, উত্তর কোরিয়া স্পষ্ট করে জানাতে চায়—“আমরা ভেনেজুয়েলার মতো নই”; বরং একটি পারমাণবিক ও সামরিক শক্তিধর রাষ্ট্র হিসেবে তারা যেকোনো হুমকির জবাবে “আগ্রাসী প্রতিরোধমূলক শক্তি” প্রয়োগে প্রস্তুত।
ইয়োনসেই বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিজিটিং অধ্যাপক বং ইয়ংশিক বলেন, ভেনেজুয়েলায় যা ঘটেছে, তা দেখে সবচেয়ে বেশি উদ্বিগ্ন হওয়ার কথা উত্তর কোরিয়ার নেতা কিম জং উনের।
এদিকে ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণের ঘটনায় দক্ষিণ কোরিয়া ও জাপান তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে। দক্ষিণ কোরিয়ার প্রেসিডেন্সিয়াল অফিস জানায়, জরুরি নিরাপত্তা বৈঠক ডাকা হয়েছে এবং জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের প্রস্তাব লঙ্ঘনকারী সব ধরনের উসকানিমূলক কর্মকাণ্ড বন্ধের আহ্বান জানানো হয়েছে।
জাপানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী শিনজিরো কোইজুমি বলেন, উত্তর কোরিয়ার এই কর্মকাণ্ড আঞ্চলিক শান্তি ও নিরাপত্তার পাশাপাশি আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের জন্যও হুমকি। তিনি জানান, টোকিও আনুষ্ঠানিকভাবে পিয়ংইয়ংয়ের কাছে কড়া প্রতিবাদ জানিয়েছে।
ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলে দায়িত্বপ্রাপ্ত যুক্তরাষ্ট্রের সেনা কমান্ড এক বিবৃতিতে জানায়, এই ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণ যুক্তরাষ্ট্র, তার মিত্র বা ভূখণ্ডের জন্য তাৎক্ষণিক কোনো হুমকি সৃষ্টি করেনি। তবে পরিস্থিতি ঘনিষ্ঠভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে এবং মিত্র দেশগুলোর সঙ্গে নিয়মিত পরামর্শ চলছে।
এবি/