দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

ভারতের পরিবেশকর্মী ও শিক্ষাবিদ সোনম ওয়াংচুক অভিযোগ করেছেন, তাকে জোর করে হাসপাতালে নেওয়ার পর ‘বন্দির মতো’ আচরণ করা হয়েছে। তিনি দাবি করেছেন, দিল্লির সফদরজং হাসপাতালে থাকার সময় পুরো পরিবেশ ছিল ‘কারাগার বা সেনানিবাসের মতো’।
শুক্রবার রাতে ইউটিউবে প্রকাশিত এক ভিডিওতে ৫৯ বছর বয়সী ওয়াংচুক এসব অভিযোগ করেন। তিনি বলেন, ‘এটি শুধু হাসপাতাল ছিল না; এটি ছিল একটি সেনানিবাস, একটি কারাগার। এমনভাবে রাখা হয়েছিল, যা হয়তো একজন বন্দির ক্ষেত্রেও করা হয় না।’
জানা যায়, গত ২৮ জুন দিল্লির জন্তর মন্তরে অনশন শুরু করেন ওয়াংচুক। ককরোচ জন্তা পার্টির (সিজেপি) সমর্থনে আয়োজিত এই কর্মসূচিতে তিনি ছিলেন। ১৮ জুলাই সকালে পুলিশ তাকে জোরপূর্বক সরিয়ে নেয় বলে অভিযোগ করেন তিনি। পুলিশ জানিয়েছিল, চিকিৎসকদের পরামর্শ এবং দিল্লি হাইকোর্টের নির্দেশনা অনুযায়ী তাকে হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে।
ওয়াংচুক বলেন, হাসপাতালে তার চলাফেরায় কঠোর নিষেধাজ্ঞা ছিল। এমনকি কক্ষের বাইরে যাওয়ার অনুমতিও ছিল না। কারও সঙ্গে দেখা করার সুযোগ দেওয়া হয়নি। শুধু তিনজন স্বজনকে থাকার অনুমতি দেওয়া হয়েছিল।
তিনি আরও অভিযোগ করেন, তাকে মোবাইল ফোন বা ল্যাপটপ রাখার অনুমতিও দেওয়া হয়নি। সমর্থকদের জন্য কাগজের ন্যাপকিনে নোট লিখে রাখতেন, তবে সেগুলোও কখনো কখনো জব্দ করা হতো বলে দাবি করেন তিনি।
ওয়াংচুক বলেন, এটি উত্তর কোরিয়ায় থাকার মতো অনুভূতি হয়েছে।
তিনি আরও অভিযোগ করেন, দিল্লি হাইকোর্ট তাকে গুরগাঁওয়ের মেদান্তা হাসপাতালে স্থানান্তরের অনুমতি দেওয়ার পরও সফদরজং হাসপাতাল থেকে বের হতে কয়েক ঘণ্টা বাধার মুখে পড়তে হয়েছে।
তার দাবি, মেদান্তা হাসপাতালেও একই ধরনের নিরাপত্তা ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। তিনি বলেন, তার কক্ষের বাইরে পাঁচ থেকে ১০ জন পুলিশ সদস্য এবং নিচে প্রায় ২০০ থেকে ৩০০ পুলিশ সদস্য মোতায়েন ছিল।
ওয়াংচুকের স্ত্রী গীতাঞ্জলি অ্যাংমোও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি ছবি প্রকাশ করে দাবি করেছেন, ‘চারদিকে পুলিশ রয়েছে।’
তিনি লিখেছেন, ‘সফদরজং থেকে এখন মেদান্তা—সব জায়গায় পুলিশ রয়েছে। মূল ফটক, অভ্যর্থনা, লিফট এবং সোনম ওয়াংচুকের আইসিইউর বাইরেও। কার সঙ্গে তিনি দেখা করতে পারবেন, তা তারাই ঠিক করছে। আদালত যদি স্পষ্ট করে বলে থাকে তিনি আটক নন, তাহলে কোন ক্ষমতাবলে এসব করা হচ্ছে?’
সিজেপির সদস্যদের দাবির প্রতি সংহতি জানিয়ে ২৮ জুন থেকে অনশন করছিলেন ওয়াংচুক। পরীক্ষায় অনিয়ম, শিক্ষা ব্যবস্থার সংস্কার এবং শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের দাবিতে তারা জন্তর মন্তরে জড়ো হয়েছিলেন।
পরে কেন্দ্রের লিখিত আশ্বাসের পর বৃহস্পতিবার মধ্যরাতের পর অনশন ভাঙেন তিনি। আশ্বাসে বলা হয়, সিজেপির ‘সংসদ চলো’ কর্মসূচিতে অংশ নেওয়া বিক্ষোভকারীদের বিরুদ্ধে মামলা করা হবে না, পরীক্ষার সংস্কার ও প্রশ্নপত্র ফাঁস নিয়ে সংসদে বিস্তারিত আলোচনা হবে এবং নিট প্রশ্নপত্র ফাঁসের পর আত্মহত্যা করা শিক্ষার্থীদের পরিবারের ক্ষতিপূরণের বিষয়টি বিবেচনা করা হবে।
/অ