দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দক্ষিণ কোরিয়া সফর শুরু করার কয়েক ঘণ্টা আগে সমুদ্রভিত্তিক একাধিক ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্রের পরীক্ষা চালিয়েছে উত্তর কোরিয়া।
বুধবার (২৯ অক্টোবর) রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা কেসিএনএ জানিয়েছে, মঙ্গলবার ইয়েলো সাগরে এই পরীক্ষায় ক্ষেপণাস্ত্রগুলো দুই ঘণ্টার বেশি সময় উড়ে নির্ধারিত লক্ষ্যবস্তুতে সঠিকভাবে আঘাত হানে।
দেশটির শীর্ষ সামরিক কর্মকর্তা পাক জং চন পরীক্ষাটি তত্ত্বাবধান করেন। তিনি বলেন, ‘যুদ্ধ প্রতিরোধে উত্তর কোরিয়ার পারমাণবিক সক্ষমতা গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ সাফল্য অর্জিত হচ্ছে।’
পাক আরও বলেন, এই পরীক্ষার উদ্দেশ্য ছিল বিভিন্ন কৌশলগত অস্ত্রের কার্যকারিতা যাচাই করা এবং শত্রুদের কাছে সেই সক্ষমতা প্রদর্শন করা। তার ভাষায়, ‘পারমাণবিক যুদ্ধ প্রস্তুতি আরও শক্তিশালী করা আমাদের দায়িত্ব ও কর্তব্য।’
দক্ষিণ কোরিয়ার যৌথ বাহিনী প্রধান জানায়, তারা উত্তর কোরিয়ার উৎক্ষেপণ প্রস্তুতি আগে থেকেই শনাক্ত করেছিল। মঙ্গলবার স্থানীয় সময় বিকেল ৩টার দিকে দেশটির উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলীয় জলসীমা থেকে ক্ষেপণাস্ত্রগুলো ছোড়া হয়। দক্ষিণ কোরিয়া ও যুক্তরাষ্ট্র যৌথভাবে এসব অস্ত্র বিশ্লেষণ করছে এবং যেকোনো উসকানির জবাব দিতে প্রস্তুত রয়েছে বলেও জানায় তারা।
এর আগে গত সপ্তাহে উত্তর কোরিয়া স্বল্পপাল্লার ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রের পরীক্ষা চালায়, যা তারা ‘নতুন হাইপারসনিক সিস্টেম’ হিসেবে দাবি করে।
সর্বশেষ এই পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়েছে ট্রাম্প ও দক্ষিণ কোরিয়ার প্রেসিডেন্ট লি জে মিয়ংয়ের মধ্যে গিয়ংজু শহরে আসন্ন বৈঠকের ঠিক আগে। সেখানে এশিয়া-প্যাসিফিক ইকোনমিক কোঅপারেশন (এপেক) সম্মেলনও অনুষ্ঠিত হচ্ছে।
ট্রাম্প দক্ষিণ কোরিয়ায় অবস্থানকালে উত্তর কোরিয়ার নেতা কিম জং উনের সঙ্গে সাক্ষাতের আগ্রহ প্রকাশ করেছেন, যদিও দক্ষিণ কোরিয়ার কর্মকর্তারা বলেছেন, এমন বৈঠকের সম্ভাবনা খুবই কম।
কিম সম্প্রতি বলেছেন, তিনি ট্রাম্পের সঙ্গে অতীত সাক্ষাতের ‘সুন্দর স্মৃতি’ মনে রাখেন, তবে যুক্তরাষ্ট্র যদি পারমাণবিক কর্মসূচি পরিত্যাগের দাবি না তোলে, তবেই তিনি আলোচনায় রাজি হবেন।
২০১৯ সালে ট্রাম্পের প্রথম মেয়াদে তাদের উচ্চপর্যায়ের পারমাণবিক আলোচনা ব্যর্থ হওয়ার পর থেকে উত্তর কোরিয়া যুক্তরাষ্ট্র ও দক্ষিণ কোরিয়ার সঙ্গে কোনো আলোচনা করেনি।
দক্ষিণ কোরিয়ায় যাওয়ার আগে ট্রাম্প জাপানে ছিলেন। সেখানে তিনি উত্তর কোরিয়ার হাতে অপহৃত জাপানি নাগরিকদের পরিবারের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন এবং তাদের জানান, ‘যুক্তরাষ্ট্র তাদের পাশে আছে।’
উল্লেখ্য, ২০০২ সালে উত্তর কোরিয়া স্বীকার করেছিল যে তারা কয়েক দশক আগে ১৩ জন জাপানিকে অপহরণ করেছিল, যারা গুপ্তচরদের জাপানি ভাষা ও সংস্কৃতি শেখাতে ব্যবহার করা হয়েছিল। জাপান বলছে, মোট ১৭ জনকে অপহরণ করা হয়েছিল, যাদের মধ্যে পাঁচজন দেশে ফিরে এসেছে। বাকি আটজনের মৃত্যু হয়েছে বলে উত্তর কোরিয়া দাবি করে, আর চারজনের প্রবেশের তথ্য তারা অস্বীকার করে।
সূত্র: আল জাজিরা
এমএস/