দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার মধ্যে ভেনেজুয়েলার রাজধানী কারাকাসে একাধিক বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে। বিভিন্ন সংবাদমাধ্যম ও প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাতে জানা গেছে, বিস্ফোরণের পর শহরের বিভিন্ন এলাকায় ধোঁয়ার কুণ্ডলী উঠতে দেখা যায়। শনিবার ভোরের দিকে এসব ঘটনা ঘটে।
আল জাজিরার প্রাপ্ত ভিডিওতে দেখা যায়, কারাকাসের একটি জলাশয়ের পাশের স্থাপনা থেকে আগুনের গোলা ও ঘন ধোঁয়া উঠছে। তবে এ বিষয়ে এখন পর্যন্ত ভেনেজুয়েলার সরকার, যুক্তরাষ্ট্রের পেন্টাগন বা হোয়াইট হাউস কোনো মন্তব্য করেনি।
আল জাজিরার প্রতিবেদক লুসিয়া নিউম্যান জানান, বিস্ফোরণটি রাজধানীর প্রধান সামরিক ঘাঁটি ‘ফোরতুনা’র আশপাশে ঘটেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তিনি বলেন, ‘ফোরতুনা একটি গুরুত্বপূর্ণ সামরিক ঘাঁটি। সেখানে একের পর এক বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে এবং এর পর বিদ্যুৎ বিভ্রাট দেখা দেয়।’
তিনি আরও বলেন, এই ঘটনায় যুক্তরাষ্ট্রের সম্পৃক্ততা থাকতে পারে বলে একটি ধারণা তৈরি হয়েছে। তবে এখনো নিশ্চিতভাবে বলা যাচ্ছে না, এটি কীভাবে ঘটেছে। ভেনেজুয়েলার সামরিক বাহিনীর ভেতরের কোনো গোষ্ঠী প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে ক্ষমতাচ্যুত করতে চাইছে, এমন অভ্যন্তরীণ নাশকতার ঘটনাও হতে পারে।
কারাকাসে অবস্থানরত সাংবাদিক সিসি দে ফ্লাভিস জানান, তিনি প্রথমে একটি বড় ট্রাকের সংঘর্ষের মতো শব্দ শুনতে পান, এরপর মাটি কেঁপে ওঠে। তিনি বলেন, ‘আকাশ হঠাৎ আলোকিত হয়ে ওঠে, তারপর কমলা রঙের আগুনের গোলা দেখা যায়। এখনো আকাশে বিমান উড়তে শোনা যাচ্ছে, তবে এরপর আর বিস্ফোরণ হয়নি।’
এদিকে বার্তা সংস্থা এপি জানিয়েছে, কারাকাসে অন্তত সাতটি বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে এবং নিচু দিয়ে উড়ে যাওয়া বিমান দেখা গেছে। এপি প্রকাশিত একটি ছবিতে রাজধানীর লা কার্লোটা বিমানবন্দরের কাছে ধোঁয়া উঠতে দেখা যায়। বিভিন্ন এলাকার মানুষ আতঙ্কে রাস্তায় নেমে আসে।
২১ বছর বয়সী অফিসকর্মী কারমেন হিদালগো বলেন, ‘পুরো মাটি কেঁপে উঠেছিল। এটি ভয়াবহ। আমরা দূরে বিস্ফোরণ ও বিমানের শব্দ শুনেছি। মনে হচ্ছিল বাতাস আমাদের শরীরে আঘাত করছে।’
সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে ভেনেজুয়েলায় যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে উত্তেজনা বেড়েছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প মাদক পাচারের সঙ্গে জড়িত লক্ষ্যবস্তুতে হামলার হুমকি দিয়েছেন। তিনি সম্প্রতি দাবি করেন, ভেনেজুয়েলার একটি নৌঘাঁটিতে যুক্তরাষ্ট্র হামলা চালিয়েছে।
ট্রাম্প ভেনেজুয়েলাসহ লাতিন আমেরিকার বিভিন্ন দেশে মাদকচক্রকে ‘নার্কোটেররিস্ট’ আখ্যা দিয়ে সামরিক অভিযানের হুমকি দিয়ে আসছেন। প্রমাণ ছাড়াই তিনি দাবি করেছেন, প্রেসিডেন্ট মাদুরো যুক্তরাষ্ট্রকে অস্থিতিশীল করতে মাদক পাচারের নেতৃত্ব দিচ্ছেন।
অন্যদিকে প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরো এক সাক্ষাৎকারে বলেন, মাদক পাচার রোধে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনায় বসতে ভেনেজুয়েলা প্রস্তুত। তবে যুক্তরাষ্ট্রের হামলার বিষয়ে তিনি বলেন, ‘এ বিষয়টি কয়েক দিনের মধ্যে আলোচনা করা যেতে পারে।’
মাদুরো আরও অভিযোগ করেন, যুক্তরাষ্ট্র নিষেধাজ্ঞা ও সামরিক চাপের মাধ্যমে তার সরকার উৎখাত করতে এবং ভেনেজুয়েলার বিপুল তেলসম্পদের দখল নিতে চায়।
সূত্র: আল জাজিরা
এমএস/