দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

ইরানে চলমান বিক্ষোভকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের দেওয়া ‘বেআইনি ও বেপরোয়া’ হুমকির নিন্দা জানাতে জাতিসংঘের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে ইরান। এ বিষয়ে জাতিসংঘের মহাসচিব এবং নিরাপত্তা পরিষদের সভাপতিকে চিঠি দিয়েছেন জাতিসংঘে নিযুক্ত ইরানের রাষ্ট্রদূত আমির সাঈদ ইরাভানি।
শুক্রবার পাঠানো ওই চিঠিতে তিনি বলেন, ট্রাম্পের বক্তব্য জাতিসংঘ সনদ ও আন্তর্জাতিক আইনের গুরুতর লঙ্ঘন। তিনি জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস ও নিরাপত্তা পরিষদের সদস্যদের প্রতি ট্রাম্পের ‘উসকানিমূলক ও দায়িত্বজ্ঞানহীন’ বক্তব্যের কঠোর নিন্দা জানানোর আহ্বান জানান।
চিঠিটি পাঠানোর কয়েক ঘণ্টা আগে ট্রাম্প বলেছিলেন, ইরানে জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধিকে কেন্দ্র করে চলমান বিক্ষোভে যদি আরও বিক্ষোভকারী নিহত হন, তবে যুক্তরাষ্ট্র ‘সম্পূর্ণ প্রস্তুত’ রয়েছে। ইরাভানি বলেন, অভ্যন্তরীণ অস্থিরতা উসকে দেওয়া বা তা বৈধতা দেওয়ার মাধ্যমে বাহ্যিক চাপ কিংবা সামরিক হস্তক্ষেপের অজুহাত তৈরি করা ইরানের সার্বভৌমত্ব, রাজনৈতিক স্বাধীনতা ও ভৌগোলিক অখণ্ডতার চরম লঙ্ঘন।
ইরানের রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা ইরনা প্রকাশিত চিঠিতে আরও বলা হয়, ইরান তার সার্বভৌমত্ব রক্ষার স্বাভাবিক অধিকার পুনর্ব্যক্ত করছে এবং প্রয়োজনে দৃঢ় ও আনুপাতিকভাবে সেই অধিকার প্রয়োগ করবে। একই সঙ্গে এসব অবৈধ হুমকি ও পরবর্তী উত্তেজনা বৃদ্ধির সব দায় যুক্তরাষ্ট্রকেই নিতে হবে বলে উল্লেখ করা হয়।
ইরনা জানিয়েছে, শুক্রবারও ইরানের বিভিন্ন শহরে বিক্ষোভ অব্যাহত ছিল। কুম, মারভদাশত, ইয়াসুজ, মাশহাদ ও হামেদানে বিক্ষোভ হয়েছে। তেহরানের তেহরানপার্স ও খাক সেফিদ এলাকাতেও মানুষ রাস্তায় নেমে আসে। তেহরানে দোকানদারদের ধর্মঘটের পর উচ্চ মূল্যস্ফীতি ও অর্থনৈতিক স্থবিরতার প্রতিবাদে দেশজুড়ে এই বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে।
সরকারি তথ্য অনুযায়ী, অস্থিরতায় এ পর্যন্ত অন্তত নয়জন নিহত এবং ৪৪ জন গ্রেপ্তার হয়েছেন। কুম প্রদেশের উপ-গভর্নর জানান, এক ব্যক্তি হাতে গ্রেনেড বিস্ফোরণে মারা গেছেন, যা অস্থিরতা উসকে দেওয়ার চেষ্টা বলে দাবি করা হয়েছে।
এদিকে ট্রাম্প তার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে লিখেছেন, ইরান যদি শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভকারীদের সহিংসভাবে হত্যা করে, তবে যুক্তরাষ্ট্র তাদের ‘রক্ষা করতে এগিয়ে আসবে’। এর জবাবে ইরানের সর্বোচ্চ জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদের সচিব আলী লারিজানি বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের হস্তক্ষেপ পুরো অঞ্চলে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করবে এবং মার্কিন স্বার্থ ধ্বংসের সমান হবে।
দীর্ঘদিনের খরা, মুদ্রার দরপতন ও উচ্চ মূল্যস্ফীতির কারণে ইরান গুরুতর অর্থনৈতিক সংকটে রয়েছে। এসব পরিস্থিতিতে ইরানি নেতৃত্ব তুলনামূলক নরম অবস্থান নিয়েছে। প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান বলেছেন, বর্তমান পরিস্থিতির জন্য সরকার দায়ী এবং সমাধান খোঁজা হবে। পর্যবেক্ষকদের মতে, অতীতের বিক্ষোভের তুলনায় এবার সরকারের প্রতিক্রিয়া ভিন্ন।
চলতি বছরের জুনে ইসরায়েল ও ইরানের মধ্যে ১২ দিনের উত্তেজনার সময় যুক্তরাষ্ট্র ইরানের তিনটি পারমাণবিক স্থাপনায় বোমা হামলা চালায়। ট্রাম্প সেই অভিযানকে ‘অত্যন্ত সফল’ বলে বর্ণনা করেছিলেন। গত সপ্তাহে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর সঙ্গে সংবাদ সম্মেলনে ট্রাম্প বলেন, ইরান যদি তার পারমাণবিক বা ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি এগিয়ে নেয়, তবে যুক্তরাষ্ট্র ‘কঠোরভাবে আঘাত হানবে’। এ অবস্থায় প্রেসিডেন্ট পেজেশকিয়ান যেকোনো আগ্রাসনের জবাবে ‘কঠোর প্রতিক্রিয়া’র অঙ্গীকার করেছেন।
সূত্র: আল জাজিরা
এমএস/