দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

ইউক্রেনের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় শহর খারকিভে রাশিয়ার ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় অন্তত দুইজন নিহত এবং প্রায় ২৫ জন আহত হয়েছেন। শুক্রবার একটি বহুতল আবাসিক ভবনে এই হামলার ঘটনা ঘটে বলে ইউক্রেনীয় কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।
আঞ্চলিক গভর্নর ওলেহ সিনিয়েহুবভ টেলিগ্রামে জানান, প্রাথমিক তথ্যে ধ্বংসস্তূপের নিচ থেকে এক নারী ও তার ছেলের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। ইউক্রেনের টেলিভিশনে দেওয়া বক্তব্যে তিনি বলেন, দুটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ওই এলাকায় আঘাত হানে এবং প্রায় পাঁচতলা একটি আবাসিক ভবন সম্পূর্ণ ধ্বংস হয়ে যায়। তিনি জানান, উদ্ধারকর্মীরা ঘটনাস্থলে কাজ করছেন এবং ধ্বংসস্তূপ সরিয়ে আটকে পড়াদের খোঁজ করা হচ্ছে।
ইউক্রেনের রাষ্ট্রীয় জরুরি সেবা বিভাগ জানিয়েছে, ভবনের ধ্বংসাবশেষের নিচে এখনও কয়েকজন আটকে থাকতে পারেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। আহতদের মধ্যে ১৬ জনকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। তাদের মধ্যে একজন নারীর অবস্থা আশঙ্কাজনক। গভর্নর জানান, ভবনের নিচতলায় দোকান ও একটি ক্যাফে থাকায় বিস্ফোরণের সময় সেখানে লোকজন থাকতে পারেন।
তবে রাশিয়া এই হামলার অভিযোগ অস্বীকার করেছে। রাশিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় টেলিগ্রামে দেওয়া এক বিবৃতিতে দাবি করেছে, খারকিভে কোনো রুশ হামলা হয়নি। তাদের দাবি, ঘটনাস্থলের বিস্ফোরণটি ইউক্রেনীয় সামরিক গোলাবারুদের বিস্ফোরণের কারণে ঘটেছে। মন্ত্রণালয়ের ভাষ্য অনুযায়ী, বিস্ফোরণের ঠিক আগে প্রকাশিত ভিডিওতে অজ্ঞাত উৎসের ঘন ধোঁয়া দেখা গেছে, যা সংরক্ষিত ইউক্রেনীয় সামরিক গোলাবারুদের বিস্ফোরণের ইঙ্গিত দেয়।
রাশিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় আরও দাবি করেছে, এই প্রতিবেদনগুলো নতুন বছরের আগের রাতে ইউক্রেনের একটি হামলা থেকে আন্তর্জাতিক মনোযোগ সরানোর চেষ্টা। ওই হামলায় দক্ষিণ ইউক্রেনের রুশ নিয়ন্ত্রিত খেরসন অঞ্চলের একটি হোটেলে আঘাত হানে বলে রাশিয়ার অভিযোগ। ইউক্রেন জানিয়েছে, তাদের হামলা রুশ সামরিক ও জ্বালানি স্থাপনাকে লক্ষ্য করেই চালানো হয়েছে।
এদিকে, খেরসন অঞ্চলে রাশিয়া নিয়োগকৃত গভর্নর ভ্লাদিমির সালদো রুশ সংবাদ সংস্থা তাসকে জানিয়েছেন, ওই ঘটনায় নিহতের সংখ্যা বেড়ে ২৮ জনে দাঁড়িয়েছে।
রাশিয়ার সীমান্ত থেকে প্রায় ৩০ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত খারকিভ ২০২২ সালের ফেব্রুয়ারিতে রাশিয়ার আগ্রাসনের শুরুর দিকে রুশ বাহিনীর অগ্রযাত্রা প্রতিহত করতে সক্ষম হয়। এরপর থেকে পূর্ব ইউক্রেন দখলে রুশ বাহিনীর মনোযোগ বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে শহরটি নিয়মিত বিমান হামলার লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হয়েছে।
সূত্র: রয়টার্স
এমএস/