দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

থাইল্যান্ডের সেনাবাহিনী কাম্বোডিয়ার বিরুদ্ধে নতুন সামরিক অভিযান শুরু করেছে। দেশটির দাবি, ‘সার্বভৌম ভূখণ্ড পুনরুদ্ধার’ করতেই এই অভিযান চালানো হচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পসহ বিভিন্ন পক্ষের মধ্যস্থতার উদ্যোগ উপেক্ষা করেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
রোববারও দুই দেশের মধ্যে সহিংসতা চলতে থাকে। এর একদিন আগে কাম্বোডিয়া থাইল্যান্ডের সঙ্গে সব সীমান্ত পারাপার বন্ধের ঘোষণা দেয়। ঔপনিবেশিক আমলে নির্ধারিত প্রায় ৮০০ কিলোমিটার দীর্ঘ সীমান্ত নিয়ে দীর্ঘদিনের বিরোধ থেকেই এই সংঘাতের সূত্রপাত। এখন পর্যন্ত এই লড়াইয়ে সেনা ও বেসামরিক মিলিয়ে অন্তত ২৫ জন নিহত হয়েছেন এবং উভয় দেশে পাঁচ লাখের বেশি মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছেন।
থাই নৌবাহিনীর মুখপাত্র রিয়ার অ্যাডমিরাল পারাচ রত্তানাচাইয়াপন স্থানীয় গণমাধ্যমকে জানান, উপকূলীয় প্রদেশ ত্রাতের একটি এলাকায় থাই বাহিনী সামরিক অভিযান চালিয়ে নিজেদের সার্বভৌম ভূখণ্ড পুনরুদ্ধার করেছে। তিনি বলেন, আন্তর্জাতিক আইনের আওতায় আত্মরক্ষার নীতিতে এবং জাতীয় সার্বভৌমত্ব রক্ষার লক্ষ্যে ভোরের দিকে এই অভিযান শুরু হয়।
থাই সেনাবাহিনীর দাবি, তারা ওই এলাকা পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে নিয়েছে এবং প্রতিপক্ষ বাহিনীকে সেখান থেকে হটিয়ে দিয়েছে। রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন থাই পিবিএস জানায়, অভিযান শেষে ওই এলাকায় থাইল্যান্ডের জাতীয় পতাকা উত্তোলন করা হয়েছে।
থাই গণমাধ্যমের খবরে বলা হয়, রোববার সকাল পর্যন্ত সীমান্তজুড়ে থাইল্যান্ডের স্থল, নৌ ও বিমান বাহিনীর অভিযান চলছিল। সুরিন প্রদেশের তা খোয়াই এলাকাসহ কয়েকটি স্থানে গোলাগুলি, পরোক্ষ হামলা ও ড্রোন হামলার ঘটনাও ঘটেছে।
সর্বশেষ এসব ঘটনায় হতাহতের তাৎক্ষণিক কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। রোববারের সংঘর্ষ নিয়ে কাম্বোডিয়ার সেনাবাহিনীও আনুষ্ঠানিক কোনো বিবৃতি দেয়নি। তবে কাম্বোডিয়ার একটি সংবাদমাধ্যম জানায়, অন্তত সাতটি এলাকায় হামলা হয়েছে এবং পুরসাত প্রদেশের থমা দা এলাকায় থাই বাহিনী এফ-১৬ যুদ্ধবিমান ব্যবহার করে বোমা ফেলেছে। বান্তেয় মেনচে প্রদেশের একটি গ্রামেও থাই বাহিনীর গোলাবর্ষণের অভিযোগ উঠেছে।
এই পরিস্থিতিতে থাইল্যান্ড সরকার ত্রাত প্রদেশে কারফিউ জারি করেছে। অন্যদিকে, শনিবার রাতে কাম্বোডিয়া সরকার থাইল্যান্ডের সঙ্গে সব সীমান্ত পারাপার অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধের ঘোষণা দেয়।
এর আগে ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছিলেন, দুই দেশ নতুন একটি যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হয়েছে। তবে থাইল্যান্ডের কর্মকর্তারা বলেন, তারা কোনো যুদ্ধবিরতিতে রাজি হননি। থাই প্রধানমন্ত্রী আনুতিন চার্নভিরাকুল জানান, বিতর্কিত সীমান্তে সামরিক অভিযান অব্যাহত থাকবে।
কাম্বোডিয়াও ট্রাম্পের যুদ্ধবিরতির দাবির বিষয়ে সরাসরি কিছু না বললেও দেশটির প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, শনিবার সকালে থাই যুদ্ধবিমান তাদের ভূখণ্ডে বিমান হামলা চালিয়েছে।
৭ ডিসেম্বর সীমান্তে একটি সংঘর্ষে দুই থাই সেনা আহত হওয়ার পর নতুন করে বড় ধরনের লড়াই শুরু হয়। এর আগে জুলাই মাসে পাঁচ দিনের সংঘর্ষ শেষে যে যুদ্ধবিরতি হয়েছিল, সেটিও ভেঙে যায়। মালয়েশিয়ার মধ্যস্থতায় এবং ট্রাম্পের চাপেই ওই যুদ্ধবিরতি হয়েছিল।
সবশেষে ট্রাম্পের একজন মুখপাত্র বলেন, প্রেসিডেন্ট আশা করেন, সংশ্লিষ্ট সব পক্ষ স্বাক্ষরিত চুক্তির অঙ্গীকার পূর্ণভাবে মানবে এবং সহিংসতা বন্ধ ও স্থায়ী শান্তি নিশ্চিত করতে প্রয়োজন হলে জবাবদিহি নিশ্চিত করা হবে।
সূত্র: আল জাজিরা
এমএস/