দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারে সম্মত হওয়ায় বেলারুশ ১২৩ জন বন্দিকে মুক্তি দিয়েছে। মুক্তিপ্রাপ্তদের মধ্যে বিরোধী নেত্রী মারিয়া কোলেসনিকোভা এবং নোবেল শান্তি পুরস্কারজয়ী মানবাধিকারকর্মী আলেস বিয়ালিয়াতস্কিও রয়েছেন।
মিনস্কে বেলারুশ কর্তৃপক্ষের সঙ্গে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিশেষ দূত জন কোয়েলের আলোচনার পর এই বন্দিমুক্তির সিদ্ধান্ত আসে। এর বিনিময়ে যুক্তরাষ্ট্র বেলারুশের ওপর আরোপিত পটাশ রপ্তানিসংক্রান্ত নিষেধাজ্ঞা তুলে নিতে রাজি হয়েছে। পটাশ সার উৎপাদনের গুরুত্বপূর্ণ উপাদান এবং বেলারুশের অন্যতম প্রধান রপ্তানি পণ্য।
মার্কিন দূত জন কোয়েল বলেন, দুই দেশের সম্পর্ক স্বাভাবিক হলে ধাপে ধাপে আরও নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করা হবে।
২০২০ সাল থেকে কারাবন্দি থাকা মারিয়া কোলেসনিকোভা মুক্তির পর বলেন, প্রিয় মানুষদের দেখতে ও জড়িয়ে ধরতে পারার অনুভূতি ভাষায় প্রকাশ করা যায় না। তিনি বলেন, স্বাধীন জীবনের প্রথম সূর্যাস্ত দেখা এক অপার আনন্দের বিষয়, তবে যারা এখনো বন্দি তাদের কথাও ভাবতে হচ্ছে।
ইউক্রেনের কর্মকর্তারা জানান, কোলেসনিকোভাসহ ১১৪ জন বন্দিকে ইউক্রেনে হস্তান্তর করা হয়েছে। প্রয়োজনীয় চিকিৎসা শেষে তাদের পোল্যান্ড ও লিথুয়ানিয়ায় পাঠানো হবে। কয়েকজন বন্দিকে সরাসরি লিথুয়ানিয়ার রাজধানী ভিলনিয়াসে নেওয়া হয়েছে, যেখানে বিয়ালিয়াতস্কিও রয়েছেন।
বেলারুশের নির্বাসিত বিরোধী নেত্রী স্বেতলানা তিখানোভস্কায়া বলেন, এই বন্দিমুক্তি দেখায় যে নিষেধাজ্ঞা স্বৈরশাসকদের ওপর চাপ তৈরির একটি কার্যকর হাতিয়ার। তিনি বলেন, লুকাশেঙ্কো মানবিক কারণে নয়, রাজনৈতিক দরকষাকষির অংশ হিসেবেই বন্দিদের মুক্তি দিয়েছেন।
ইউরোপীয় ইউনিয়ন ও যুক্তরাষ্ট্র দীর্ঘদিন ধরে আলেকজান্ডার লুকাশেঙ্কোকে বৈধ প্রেসিডেন্ট হিসেবে স্বীকৃতি দেয়নি। ২০২০ সালের বিতর্কিত নির্বাচনের পর দেশটিতে ব্যাপক বিক্ষোভ দমন ও রাজনৈতিক দমন-পীড়ন শুরু হয়, যা এখনো চলমান রয়েছে।
সূত্র: বিবিসি
এমএস/