দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

গাজায় ইসরায়েলের ধারাবাহিক বিমান হামলায় অন্তত ২০ জন নিহত ও ৮০ জনের বেশি আহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে স্থানীয় স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষ। হামাস ও ইসরায়েলের মধ্যকার যুদ্ধবিরতির মধ্যেই এ হামলার ঘটনা ঘটেছে।
সাক্ষী ও চিকিৎসকরা জানান, প্রথম হামলাটি হয় ঘনবসতিপূর্ণ রিমাল এলাকায় একটি গাড়িতে। গাড়িটি মুহূর্তেই আগুনে পুড়ে যায়। নিহত পাঁচজন ওই গাড়ির যাত্রী ছিলেন কি না, নাকি আশপাশের কেউ ছিলেন—তা স্পষ্ট নয়। স্থানীয় লোকজন ছুটে গিয়ে আগুন নেভাতে এবং আহতদের উদ্ধার করতে চেষ্টা করেন।
এর কিছুক্ষণ পর মধ্য গাজার দেইর আল-বালাহ শহর ও নুসেইরাত শরণার্থী ক্যাম্পে দুটি বাড়িতে পৃথক বিমান হামলা চালায় ইসরায়েলি বাহিনী। এতে কমপক্ষে ১০ জন নিহত ও অনেকে আহত হন।
শনিবার পরে গাজা সিটির পশ্চিমাংশে আরও একটি বাড়িতে হামলা চালায় ইসরায়েল। এতে আরও পাঁচজন নিহত হন। ফলে একদিনে মোট মৃত্যুর সংখ্যা দাঁড়ায় অন্তত ২০।
ইসরায়েল দাবি করেছে, গাজার ভেতর থেকে একজন সশস্ত্র ব্যক্তি ইসরায়েল নিয়ন্ত্রিত এলাকায় ঢুকে ‘মানবিক করিডর’ ব্যবহার করেছে, যা যুদ্ধবিরতির ‘স্পষ্ট লঙ্ঘন’। এই অভিযোগেই তারা পাল্টা হামলা চালিয়েছে বলে জানায় আইডিএফ।
হামাস এ অভিযোগ ভিত্তিহীন বলে প্রত্যাখ্যান করেছে। তারা বলেছে, ইসরায়েল শুধু ‘হত্যার অজুহাত’ খুঁজছে এবং হামাস যুদ্ধবিরতির শর্ত মেনে চলছে।
উভয় পক্ষই প্রায়ই যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘনের অভিযোগ করছে। হামাস বলেছে, ইসরায়েলের ‘বর্ধিত লঙ্ঘন’ মোকাবিলায় মধ্যস্থতাকারী ও যুক্তরাষ্ট্রের দায়িত্ব রয়েছে। অন্যদিকে ইসরায়েল বলছে, যুদ্ধবিরতির অংশ হিসেবে হামাসকে বাকি নিহত তিন জিম্মির মরদেহ ফিরিয়ে দিতে হবে এবং নিরস্ত্রীকরণ সম্পন্ন করতে হবে।
২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর হামাসের হামলায় ইসরায়েলে ১,২০০ মানুষ নিহত ও ২৫১ জন জিম্মি হওয়ার পর যুদ্ধ শুরু হয়। এর পর ইসরায়েলের পাল্টা অভিযানে এখন পর্যন্ত ৬৯ হাজার ৭০০–র বেশি ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়।
বর্তমান যুদ্ধবিরতির শর্ত অনুযায়ী, গাজায় আটক থাকা ২০ জীবিত ইসরায়েলি জিম্মিকে মুক্তি দেয় হামাস, আর ইসরায়েল ছেড়ে দেয় প্রায় ২,০০০ ফিলিস্তিনি বন্দি। এছাড়া নিহত ২৮ জিম্মির মরদেহের বিনিময়ে ৩৬০ ফিলিস্তিনি যোদ্ধার মরদেহ ফেরত দেওয়ার কথা রয়েছে। এ পর্যন্ত ২৫ জিম্মির মরদেহ হস্তান্তর করেছে হামাস এবং ইসরায়েল ফেরত দিয়েছে ৩৩০ ফিলিস্তিনির মরদেহ।
সূত্র: রয়টার্স
এমএস/