দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

ইউরোপের সবচেয়ে শক্তিশালী সেনাবাহিনী গড়ার লক্ষ্য নিয়ে এগোচ্ছে জার্মানি। দেশটির রাজনৈতিক জোট গত সপ্তাহে বাধ্যতামূলক সেনাসেবা ফেরানোর একটি খসড়া আইন চূড়ান্ত করেছে। এর মাধ্যমে রাশিয়ার হুমকি ও যুক্তরাষ্ট্রের পরিবর্তিত পররাষ্ট্রনীতির মুখে জার্মান সেনাবাহিনীকে আরও শক্তিশালী করা হবে।
প্রস্তাব অনুযায়ী, ২০৩৫ সালের মধ্যে জার্মান সেনাবাহিনীর সদস্য সংখ্যা ১ লাখ ৮০ হাজার থেকে বাড়িয়ে ২ লাখ ৬০ হাজার করা হবে। পাশাপাশি আরও ২ লাখ রিজার্ভ সদস্য গঠনের পরিকল্পনা রয়েছে।
শুরুতে সেনাবাহিনীতে যোগদান পুরোপুরি স্বেচ্ছাসেবী থাকবে। আগ্রহীরা মাসে ২ হাজার ৬০০ ইউরো বেতনে চাকরি শুরু করতে পারবেন, যা বর্তমানের তুলনায় ৪৫০ ইউরো বেশি। তবে নির্ধারিত লক্ষ্য পূরণ না হলে বাধ্যতামূলক সেনানিয়োগ চালুর ক্ষমতা রাখবে সরকার।
আগামী বছর থেকে ১৮ বছর বয়সী প্রত্যেক যুবক-যুবতীকে সেনাবাহিনীতে আগ্রহ আছে কিনা—এ বিষয়ে একটি প্রশ্নপত্র দেওয়া হবে। পুরুষদের জন্য এটি বাধ্যতামূলক। ২০২৭ সাল থেকে ১৮ বছর বয়সী পুরুষদের জন্য স্বাস্থ্য পরীক্ষা বাধ্যতামূলক করা হবে।
জার্মান চ্যান্সেলর ফ্রিডরিখ মার্টজ বলেছেন, ইউরোপের নিরাপত্তায় জার্মানির বড় ভূমিকা রাখার মতো সক্ষমতা আছে। বিশেষজ্ঞরাও মনে করছেন, জার্মানির ভৌগোলিক অবস্থান এই সম্ভাবনাকে আরও বাড়ায়। তবে পরিকল্পনা বাস্তবায়ন পুরোপুরি হতে সময় লাগবে ২০৩০-এর দশক পর্যন্ত।
জার্মান সেনাপ্রধান কার্স্টেন ব্রয়ার সম্প্রতি সতর্ক করে বলেছেন, ন্যাটোকে ২০২৯ সাল নাগাদ সম্ভাব্য রুশ হামলার জন্য প্রস্তুত থাকতে হবে। একই কারণে সেনাসেবা নিয়ে জোট সরকারের ভেতরে কয়েক সপ্তাহ ধরে বিতর্ক চলছিল। শেষ পর্যন্ত প্রতিরক্ষামন্ত্রী বোরিস পিস্টোরিয়ুস লটারি পদ্ধতিতে বাধ্যতামূলক নিয়োগের ধারণা বাতিল করেন। তার মত, ভালো বেতন ও সুবিধার মাধ্যমে স্বেচ্ছাসেবীদের আকৃষ্ট করাই বেশি কার্যকর হবে।
জার্মানিতে বাধ্যতামূলক সেনাসেবা ২০১১ সালে স্থগিত করা হয়। নতুন আইনটি অনুমোদন পেলে ২০২৬ সালের ১ জানুয়ারি থেকে কার্যকর হবে।
বিতর্ক থাকা সত্ত্বেও পিস্টোরিয়ুস বলেন, ‘আমাদের সেনাবাহিনী যত শক্তিশালী হবে, যুদ্ধের সম্ভাবনা তত কমবে।’ তিনি মনে করেন, জার্মানির নতুন মডেলটি ইউরোপের অন্য দেশগুলোর জন্যও উদাহরণ হতে পারে।
তবে জার্মানির রাজনৈতিক বামপন্থী দলগুলো বাধ্যতামূলক সেনাসেবা ফিরিয়ে আনার বিরোধিতা করছে। একটি জরিপে দেখা গেছে, বাম দলের ৮০ শতাংশ সমর্থক এই সিদ্ধান্তের বিপক্ষে।
বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, সচেতন প্রচারণা ও সেনাবাহিনীর ভাবমূর্তি উন্নত করা গেলে স্বেচ্ছাসেবী নিয়োগের মাধ্যমেই লক্ষ্য পূরণ সম্ভব। না হলে বাধ্যতামূলক নিয়োগ তরুণদের চরমপন্থার দিকে ঠেলে দিতে পারে।
তরুণদের মধ্যেও এ নিয়ে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। কেউ কেউ দেশের নিরাপত্তা গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করলেও যুদ্ধের সম্ভাবনার কথা ভেবে সেনাবাহিনীতে যোগ দিতে অনিচ্ছুক। আবার কেউ মনে করছেন, সেনাবাহিনীতে বড় বিনিয়োগ জরুরি হলেও বাধ্যতামূলক নিয়োগ ঠিক নয়।
সরকারের তথ্য বলছে, ইউক্রেন যুদ্ধ শুরুর পর থেকে জার্মানিতে সেনাসেবা এড়িয়ে চলার আবেদন উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। এ বছর ২৫ অক্টোবর পর্যন্ত বিবেকগত কারণে সেনাসেবা না করার আবেদন করেছেন তিন হাজারের বেশি মানুষ—যা ২০১১ সালের পর সর্বোচ্চ।
সূত্র: সিএনএন
এমএস/