দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

ভারতের বিহার রাজ্যে স্তন্যদানকারী মায়েদের বুকের দুধে বিপজ্জনক মাত্রায় ইউরেনিয়াম (U-238) পাওয়া গেছে। একাধিক প্রতিষ্ঠানের গবেষকদের যৌথ সমীক্ষায় এই উদ্বেগজনক তথ্য উঠে এসেছে।
গবেষকরা রাজ্যের বিভিন্ন জেলা থেকে দৈবচয়ন পদ্ধতিতে ৪০ জন মায়ের দুধের নমুনা সংগ্রহ করেন। পরীক্ষায় প্রতিটি নমুনাতেই ইউরেনিয়াম পাওয়া যায়। এর মধ্যে খাগড়িয়া জেলায় সর্বোচ্চ গড় মাত্রা এবং ব্যক্তিগতভাবে সর্বোচ্চ মাত্রা শনাক্ত হয় কাটিহারে।
স্বাস্থ্যঝুঁকি বিশ্লেষণে দেখা গেছে—এই ইউরেনিয়াম সংস্পর্শে থাকা শিশুদের ৭০ শতাংশের ক্ষেত্রে ক্যানসার ছাড়াও অন্যান্য শারীরিক সমস্যা তৈরি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। শিশুদের দেহ থেকে ইউরেনিয়াম বের করতে সক্ষমতা সীমিত হওয়ায় তারা তুলনামূলক বেশি ঝুঁকিতে থাকে। দীর্ঘমেয়াদে এ সংস্পর্শে কিডনির ক্ষতি, স্নায়ুবিক বিকাশে বাধা, আইকিউ হ্রাস এবং মানসিক স্বাস্থ্যের অবনতি ঘটতে পারে বলে উল্লেখ করেছেন গবেষকরা।
গবেষণার সহ-লেখক এইমস দিল্লির ডা. অশোক শর্মা এএনআইকে বলেন, ঝুঁকির ইঙ্গিত থাকলেও সামগ্রিক মাত্রা এখনও সহনীয় সীমার নিচে রয়েছে। মায়ের শরীরে শোষিত ইউরেনিয়ামের বেশিরভাগই প্রস্রাবের মাধ্যমে বের হয়ে যায়, ফলে দুধে এর ঘনত্ব তুলনামূলক কম থাকে। তাই চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া বুকের দুধ খাওয়ানো বন্ধ করা উচিত নয়।
বিশেষজ্ঞদের মতে, ইউরেনিয়াম একটি প্রাকৃতিক তেজস্ক্রিয় উপাদান, যা শিলা ও মাটিতে থাকে। তবে খননকাজ, কয়লা পোড়ানো, পারমাণবিক স্থাপনার নির্গমন এবং ফসফেট সারের ব্যবহারের মতো মানবসৃষ্ট কারণে এটি ভূগর্ভস্থ পানিতে মিশে যেতে পারে। বর্তমানে ভারতের ১৮টি রাজ্যের অন্তত ১৫১টি জেলায় ভূগর্ভস্থ পানিতে ইউরেনিয়াম দূষণের তথ্য পাওয়া গেছে।
গবেষকরা জানিয়েছেন, ভবিষ্যতে মাতৃদুগ্ধে কীটনাশক ও অন্যান্য পরিবেশ দূষকের উপস্থিতি নিয়েও আরও গবেষণা করা হবে, যাতে শিশুদের স্বাস্থ্যঝুঁকি সম্পর্কে পরিষ্কার ধারণা পাওয়া যায়।
এমএস/