দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

সব দেশের সঙ্গে খোলামেলা সম্পর্ক হতে হবে, এছাড়া উন্নতির আর কোনো বিকল্প নেই বলে মনে করেন জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। সেই প্রেক্ষাপটে সব দেশের মতোই ভারতীয় কূটনীতিকের সঙ্গেও বৈঠক করেছেন তিনি। তবে ওই কূটনীতিকের অনুরোধে বৈঠকের বিষয়টি গোপন রেখেছিলেন জামায়াত আমির।
বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে এ তথ্য জানান ডা. শফিকুর রহমান।
নিজের অফিসে দেওয়া সাক্ষাৎকারে জামায়াত আমির শফিকুর রহমান রয়টার্সকে বলেন, ‘আমরা চাই আমাদের দেশ পাঁচ বছর স্থিতিশীল থাকুক। যদি দলগুলো এক হয়, আমরা একসঙ্গে সরকার পরিচালনা করব।’
খবরে বলা হয়েছে, বাংলাদেশে আগামী নির্বাচনের পর যেসব দল সরকার গঠন করতে পারে তাদের সঙ্গে ভারত তাদের যোগাযোগের পরিধি বাড়িয়েছে। এমন সময় জামায়াত আমির নিশ্চিত করেছেন, সম্প্রতি এক ভারতীয় কূটনীতিকের সঙ্গে তার বৈঠক হয়েছে।
তিনি নিশ্চিত করেছেন, একজন ভারতীয় কূটনীতিকের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছিলেন। অন্যান্য দেশের কূটনীতিকরা যেভাবে প্রকাশ্যে তার সঙ্গে দেখা করেছেন, ভারতীয় কর্মকর্তা সেভাবে দেখা করতে চাননি।
‘ওই বৈঠকটি গোপন রাখার অনুরোধ করেছিলেন,’ বলেন ডা. শফিকুর।
‘কেন? অনেক কূটনীতিক আমাদের কাছে এসেছিলেন এবং তা প্রকাশ করা হয়েছিল। সমস্যা কোথায়? আমাদের সবাইকে এবং একে অপরকে খোলামেলা হতে হবে। আমাদের সম্পর্ক উন্নয়নের জন্য কোনো বিকল্প নেই,’ জবাবে কূটনীতিককে তিনি বলেছিলেন।
ভারতীয় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে এ ব্যাপারে যোগাযোগ করেছিল রয়টার্স। তবে জামায়াত আমিরের সঙ্গে তাদের কূটনীতিকের বৈঠকের বিষয়টি সরাসরি নিশ্চিত করেনি তারা। কিন্তু ভারত সরকারের একটি সূত্র জানিয়েছে, তারা বাংলাদেশের বিভিন্ন দলের সঙ্গে যোগাযোগ করছে।
পাকিস্তানের সঙ্গে জামায়াতের সম্পর্ক প্রসঙ্গে দলটির আমির বলেন, ‘আমরা সব দেশের সঙ্গে ভারসাম্যপূর্ণ সম্পর্ক বজায় রাখি। আমরা কখনোই কোন একটি দেশের পক্ষেও ঝুঁকিনি। বরং, আমরা সকলকে সম্মান করি এবং জাতির মধ্যে ভারসাম্যপূর্ণ সম্পর্ক চাই।’
আগামীতে সরকার গঠন প্রসঙ্গে তিনি জানান, প্রধানমন্ত্রী হবেন সেই দলের নেতা, যে দল সবচেয়ে বেশি আসন পাবে। জামায়াত যদি সর্বোচ্চ আসন পায়, তবে তিনি নিজে প্রধানমন্ত্রী হবেন কি না, সে সিদ্ধান্ত দল নেবে।
শফিকুর রহমান বলেন, ‘ক্ষমতা হারানোর পর শেখ হাসিনার ভারতে অবস্থান করাকে তিনি উদ্বেগজনক মনে করেন। তার পতনের পর বাংলাদেশ ও ভারতের সম্পর্ক কয়েক দশকের মধ্যে সবচেয়ে খারাপ অবস্থায় পৌঁছেছে।’
তিনি আরও বলেন, ‘কোনো সরকার বর্তমান রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনকে নিয়ে স্বস্তিতে থাকবে না।’ ২০২৩ সালে আওয়ামী লীগের সমর্থনে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় রাষ্ট্রপতি হন সাহাবুদ্দিন। তিনি নিজেও সম্প্রতি রয়টার্সকে বলেছেন, ‘প্রয়োজনে মেয়াদের মাঝপথে পদ ছাড়তে তিনি প্রস্তুত।’
তবে রয়টার্সের কাছে রাষ্ট্রপতি সাহাবুদ্দিন এ বিষয়ে মন্তব্য করতে অস্বীকৃতি জানান। তিনি বলেন, ‘আমি বিষয়টি আরও জটিল করতে চাই না।’
এবি/