দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

খাগড়াছড়ির রামগড়ে অবৈধ বালু উত্তোলনের বিরুদ্ধে ভ্রাম্যমাণ অভিযান চালাতে গিয়ে স্থানীয়দের হামলার ঘটনা ঘটেছে। এতে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাসহ উভয় পক্ষের অন্তত ১২ জন আহত হয়েছেন। পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে কয়েক রাউন্ড গুলি ছোড়ে পুলিশ।
মঙ্গলবার (১২ মে) বিকালে মধ্যে রামগড় ইউনিয়নের পূর্ব বলিপাড়া এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
জানা যায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে রামগড় উপজেলা নির্বাহী অফিসার কাজী শামীম অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের অভিযোগে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করেন। এসময় রামগড় থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোহাম্মদ নাজির আলমের নেতৃত্বে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।
অভিযানকালে প্রশাসন অবৈধ বালু উত্তোলনের কাজে ব্যবহৃত ৬ থেকে ৭টি সেলো মেশিন ও বালু পরিবহনের পাইপ ধ্বংস করে। তবে স্থানীয়দের অভিযোগ, বালু উত্তোলনের পাশাপাশি কয়েকজন কৃষকের জমিতে পানি দেওয়ার জন্য ব্যবহৃত সেলো মেশিন ও পাইপও ভাঙচুর করা হয়।
এ ঘটনায় স্থানীয় লোকজন ক্ষুব্ধ হয়ে প্রশাসনের সঙ্গে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া ও সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে।
সংঘর্ষ চলাকালে বিক্ষুব্ধ জনতার ছোড়া ইট-পাটকেলে ইউএনও কাজী শামীমসহ অভিযানে যাওয়া ৬ জন আহত হন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে এবং ভ্রাম্যমাণ আদালতের সদস্যদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আনসার সদস্যরা শর্টগান থেকে ৫-৬ রাউন্ড রাবার বুলেট নিক্ষেপ করেন। এসময় সংঘর্ষে স্থানীয় ৬ জন আহত হন।
আহতদের মধ্যে রয়েছেন ইউএনও কাজী শামীম, সহকারী প্রশাসনিক কর্মকর্তা আব্দুল ওহাব জুয়েল, আনসার সদস্য মো. নুর মোহাম্মদ, উপজেলা প্রশাসনের কর্মচারী মো. জয়নাল আবেদীন, ইউএনও’র গাড়িচালক মো. কামাল হোসেন, এপিসি মো. সালাউদ্দিন।
অন্যদিকে স্থানীয় আহতদের মধ্যে রয়েছেন মো. আজাদ, সুমন, নূর হোসেন, আবুল হাশেমসহ আরও দুইজন।
পরে আহতদের রামগড় উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলে তারা প্রাথমিক চিকিৎসা গ্রহণ করেন।
আহত আবুল হাশেম জানান, সেচ মেশিন, পাইপসহ যন্ত্রপাতি নষ্ট করায় সকলে মিলে প্রতিবাদ জানাতে গেলে আনসার সদস্যরা তাদের লক্ষ্য করে গুলি করে। আনসার সদস্যদের ছোড়া গুলি লেগে তারা আহত হয়েছেন।
তবে এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী অফিসার কাজী শামীমের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
রামগড় থানার ওসি মোহাম্মদ নাজির আলম জানান, বর্তমানে এলাকার পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে। এ ঘটনায় এখনো পর্যন্ত থানায় কোনো অভিযোগ দায়ের হয়নি। অভিযোগ দায়েরের পর তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। আহতদের মধ্যে কেউ আশঙ্কাজনক নেই।
/অ