দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

টানা বৃষ্টি আর ভয়াবহ বন্যায় ভিয়েতনামের মধ্যাঞ্চলে অন্তত ৪১ জনের মৃত্যু হয়েছে। রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম জানিয়েছে, এখনো নয়জনকে খুঁজে পাওয়া যায়নি। সপ্তাহান্ত থেকে শুরু হওয়া এ দুর্যোগে ডুবে গেছে ৫২ হাজারের বেশি বাড়িঘর, বিদ্যুৎহীন হয়ে পড়েছে প্রায় পাঁচ লাখ পরিবার ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান। বিপদে পড়া এলাকায় হাজার হাজার মানুষকে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।
গত তিন দিনে কয়েকটি অঞ্চলে বৃষ্টিপাত দেড় মিটারেরও বেশি হয়েছে। কিছু এলাকায় পানির উচ্চতা ১৯৯৩ সালের ভয়াবহ বন্যার রেকর্ডকেও ছাড়িয়ে গেছে।
সাম্প্রতিক মাসগুলোতে একের পর এক প্রাকৃতিক দুর্যোগে বিপর্যস্ত ভিয়েতনাম। টাইফুন কালমেগি ও বুয়ালয় দেশটিতে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি করেছে। সরকারি হিসাবে, জানুয়ারি থেকে অক্টোবর পর্যন্ত প্রাকৃতিক দুর্যোগে ক্ষতির পরিমাণ দাঁড়িয়েছে দুই বিলিয়ন ডলার।
সর্বশেষ বর্ষণে সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে হোই আন ও না চাং উপকূলীয় শহরসহ মধ্যাঞ্চলের কফি উৎপাদন এলাকা। আগের ঝড়ের কারণে যেখানে ফসল তোলা আগেই ব্যাহত হয়েছিল, নতুন বন্যায় সেখানে হাজার হাজার বাড়িঘর পানিতে ডুবে গেছে। দেশের সবচেয়ে বড় কফি উৎপাদন অঞ্চল ডাক লাক প্রদেশে পরিস্থিতি সবচেয়ে কঠিন।
রোববার পর্যন্ত দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়া অব্যাহত থাকতে পারে বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ। জরুরি আশ্রয়কেন্দ্র তৈরিতে সেনাবাহিনী ও পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। ভূমিধসে বহু সড়ক ও মহাসড়ক ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় কয়েকটি এলাকায় জরুরি অবস্থা ঘোষণা করা হয়েছে।
ডা লাট পর্যটন শহরে প্রবেশের প্রধান পথ মিমোসা পাসের একটি অংশ ধসে পড়ায় যান চলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে গেছে। স্থানীয় গণমাধ্যমে প্রকাশিত ছবিতে দেখা যায়, অনেক মানুষ ঘরের ছাদে আটকে আছেন; লাম ডং প্রদেশে একটি ঝুলন্ত সেতু ভেঙে যাওয়ার ভিডিওও ছড়িয়ে পড়েছে সামাজিক মাধ্যমে।
না চাং শহরের এক রেস্তোরাঁ মালিক জানান, তার দোকানগুলো প্রায় এক মিটার পানির নিচে। তিনি বলেন, ‘ফার্নিচার নষ্ট হয়ে যাওয়ার দুশ্চিন্তা আছে, কিন্তু কিছুই করার নেই। বৃষ্টি থামছে না, তাই পানি দ্রুত নামবে বলেও মনে হয় না।’
এর আগে নভেম্বরের শুরুতে টাইফুন কালমেগিতে ভিয়েতনামের মধ্যাঞ্চলে পাঁচজনের মৃত্যু হয়। সেপ্টেম্বরেও টাইফুন বুয়ালয় আঘাতে অন্তত ১১ জনের প্রাণহানি ঘটে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে এ অঞ্চলে ঘূর্ণিঝড়ের শক্তি ও ঘনত্ব দুইই বাড়ছে।
সূত্র: বিবিসি
এমএস/