দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

ইন্দোনেশিয়ায় গত সপ্তাহের ভয়াবহ বন্যায় মৃতের সংখ্যা পাঁচশ ছাড়িয়েছে। এখনও অনেক এলাকা বিচ্ছিন্ন থাকায় উদ্ধারকর্মীরা পৌঁছাতে হিমশিম খাচ্ছেন।
সরকারের দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, মালাক্কা প্রণালীর উপর বিরল এক ঘূর্ণিঝড় তৈরি হওয়ার পর এই বন্যা তিনটি প্রদেশে আঘাত হানে। এতে প্রায় ১৪ লাখ মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। আরও প্রায় পাঁচশ মানুষ নিখোঁজ এবং হাজারো মানুষ আহত।
একই সময়ে এশিয়ার আরও কয়েকটি দেশে টানা বৃষ্টি ও ঝড়ে হতাহতের ঘটনা ঘটেছে। তবে ইন্দোনেশিয়ার আচেহ, উত্তর সুমাত্রা ও পশ্চিম সুমাত্রা সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বহু মানুষ এখনও বিচ্ছিন্ন অবস্থায় আছেন এবং জরুরি খাদ্যসহ প্রয়োজনীয় সহায়তা পাচ্ছেন না।
আচেহর পিদিয়ে জায়া এলাকার বাসিন্দা আরিনি আমালিয়া বিবিসিকে বলেন, বন্যার পানি ছিল ‘সুনামির মতো’। তিনি আরও বলেন, তার দাদীর জীবনে এটি সবচেয়ে ভয়াবহ বন্যা।
বন্যার কারণে বড় গাড়ি চলাচল করতে না পারায় উদ্ধারকর্মীরা পায়ে হেঁটে বা মোটরসাইকেলে দুর্গম এলাকায় পৌঁছানোর চেষ্টা করছেন। বিভিন্ন স্থানে সেতু ভেঙে গেছে, রাস্তাঘাট কাদায় ঢেকে গেছে এবং কাঠগাছের স্তূপ জমেছে।
পশ্চিম সুমাত্রার টুইন ব্রিজেস এলাকায় পাহাড়ি স্রোতে কাদা ও ধ্বংসস্তূপ জমে থাকার মধ্যে মারিয়ানা নামের এক নারী তার নিখোঁজ পরিবারের খোঁজে অপেক্ষা করছিলেন। তার ১৫ বছরের ছেলে ও অন্যান্য স্বজনদের খুঁজে পাওয়ার আশায় তিনি বলেন, ‘যে পরিমাণ কাদা দেখছি, ভাবছি আমার সন্তানকে কী অবস্থায় পাওয়া যাবে।’
উত্তর সুমাত্রার সেন্ট্রাল তাপানুলিতে মাইসান্তি নামে এক নারী জানান, তাদের এলাকায় সাহায্য পৌঁছাতে বড় ধরনের সমস্যা হচ্ছে। তিনি বলেন, ‘সবকিছু শেষ হয়ে গেছে। খাবার নেই। এমনকি ইনস্ট্যান্ট নুডল নিয়েও এখন মারামারি হচ্ছে। আমাদের খাবার দরকার, চাল দরকার। আমাদের দিকে যাওয়ার সব পথ বন্ধ।’
তিনি আরও জানান, ইন্টারনেট ও পানির মতো প্রয়োজনীয় জিনিস পেতে তাকে কয়েক কিলোমিটার হাঁটতে হচ্ছে।
সেন্ট্রাল আচেহতে স্থানীয় প্রশাসন স্টারলিংক ডিভাইস বসিয়েছে। সেখানে রবিবার রাতে হাজারো মানুষ লাইনে দাঁড়িয়ে ছিলেন প্রিয়জনের সঙ্গে যোগাযোগ করার বা ফোন চার্জ দেওয়ার জন্য। মার নামের এক বাসিন্দা বলেন, ‘পাঁচ দিন ধরে কোনো সিগনাল নেই। আমি আমার মাকে ফোন করতে চাইছি, কিন্তু এখনও পারছি না।’
উদ্ধারকাজ যত এগোচ্ছে, সরকারের দুর্যোগ প্রস্তুতি নিয়ে ক্ষোভও বাড়ছে। সমালোচকদের অভিযোগ, সরকার যথেষ্ট প্রস্তুত ছিল না এবং জটিল প্রশাসনিক প্রক্রিয়ার কারণে খাদ্য সহায়তা পৌঁছাতে দেরি হচ্ছে।
সোমবার উত্তর সুমাত্রার বন্যাকবলিত এলাকাগুলো পরিদর্শনে গিয়ে প্রেসিডেন্ট প্রাবোও সুবিয়ান্তো স্বীকার করেন যে কিছু রাস্তা এখনও বিচ্ছিন্ন। তবে তিনি বলেন, ‘আমরা সবকিছু করছি। দৃঢ়তা ও ঐক্য দিয়ে আমরা এই পরিস্থিতি মোকাবিলা করছি।’
ইন্দোনেশিয়ায় নভেম্বর থেকে মার্চ পর্যন্ত চলে মৌসুমি বৃষ্টি। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে এ ধরনের ঝড় আরও ঘন ঘন ও শক্তিশালী হচ্ছে, ফলে বাড়ছে ভারী বৃষ্টি, আকস্মিক বন্যা ও তীব্র ঝোড়ো হাওয়া।
সূত্র- বিবিসি
এমএস/