দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, তাঁর বক্তব্য ভুলভাবে সম্পাদনা করার দায়ে ব্রিটিশ সম্প্রচারমাধ্যম বিবিসির বিরুদ্ধে আগামী সপ্তাহে তিনি এক থেকে পাঁচ বিলিয়ন ডলার পর্যন্ত ক্ষতিপূরণের মামলা করবেন। বিবিসি আগেই ভিডিও সম্পাদনার ভুল স্বীকার করে ক্ষমা চাইলেও আইনি অভিযোগ অস্বীকার করেছে।
বিবিসি বর্তমানে দশকের সবচেয়ে বড় সংকটে পড়েছে। সম্পাদকীয় পক্ষপাত ও ২০২১ সালের ৬ জানুয়ারি ক্যাপিটলে হামলার দিন ট্রাম্পের বক্তৃতা ভুলভাবে সম্পাদনার অভিযোগের পর সংস্থার দুই শীর্ষ কর্মকর্তা পদত্যাগ করেছেন। ট্রাম্পের আইনজীবীরা বিবিসিকে প্রাথমিকভাবে জানিয়ে দেন, ডকুমেন্টারি প্রত্যাহার না করলে কমপক্ষে এক বিলিয়ন ডলারের মামলা করা হবে। তারা ক্ষমা ও ক্ষতিপূরণও দাবি করেন।
বিবিসি বলেছে, ট্রাম্পের বক্তব্য সম্পাদনার বিষয়টি ছিল ‘বিচারের ভুল’। সংস্থাটি ট্রাম্পকে ব্যক্তিগতভাবে ক্ষমা চেয়ে জানিয়েছে তারা ডকুমেন্টারিটি আর প্রচার করবে না। তবে ট্রাম্পের বিরুদ্ধে মানহানির অভিযোগ মানতে তারা অস্বীকৃতি জানিয়েছে।
ট্রাম্প সাংবাদিকদের বলেন, ‘আমরা এক থেকে পাঁচ বিলিয়ন ডলারের মধ্যে মামলা করব, সম্ভবত আগামী সপ্তাহেই। তাদের নিজেদের স্বীকারোক্তি আছে যে তারা প্রতারণা করেছে। তারা আমার মুখের কথা বদলে দিয়েছে।’
তিনি জানান, এ বিষয়ে তিনি এখনো ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমারের সঙ্গে কথা বলেননি, তবে সপ্তাহান্তে ফোন করার পরিকল্পনা আছে। ট্রাম্প দাবি করেন, স্টারমার ঘটনা নিয়ে বিব্রত।
বিবিসির ‘প্যানোরামা’ অনুষ্ঠানে প্রচারিত ওই ডকুমেন্টারিতে ট্রাম্পের বক্তৃতার তিনটি অংশ জোড়া লাগানো হয়, যা দেখে মনে হয় তিনি দাঙ্গায় উসকানি দিচ্ছেন। ট্রাম্পের আইনজীবীরা একে ‘ভুল ও মানহানিকর’ বলেছেন।
গিবি নিউজকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেন, ‘এটা বিশ্বাসই করা যায় না। তারা এমনভাবে কেটেছেঁটে দেখিয়েছে যেন আমি উসকানিমূলক বক্তব্য দিয়েছি। এটি শুধু ভুয়া নয়, দুর্নীতি।’
বিবিসির চেয়ারম্যান সামির শাহ বুধবার হোয়াইট হাউসে ব্যক্তিগত ক্ষমা পাঠিয়েছেন। ব্রিটিশ সংস্কৃতি মন্ত্রী লিসা ন্যান্ডি বলেছেন, ক্ষমা চাওয়া ছিল ‘সঠিক ও প্রয়োজনীয়’। সম্প্রচারক সংস্থাটি জানিয়েছে তারা ডকুমেন্টারি পুনঃপ্রচার করবে না এবং অন্য একটি অনুষ্ঠানে একই ধরনের সম্পাদনার অভিযোগও খতিয়ে দেখছে।
বিতর্ক ঘিরে বিবিসির মহাপরিচালক টিম ডেভি এবং প্রধান সংবাদ সম্পাদক ডেবোরা টারনেস এই সপ্তাহে পদত্যাগ করেছেন। সংসদে প্রধানমন্ত্রী স্টারমার বলেছেন, তিনি একটি ‘শক্তিশালী ও স্বাধীন বিবিসি’ চান, তবে প্রতিষ্ঠানটিকে ‘নিজেদের ভুল ঠিক করতে হবে’।
১৯২২ সালে প্রতিষ্ঠিত বিবিসি লাইসেন্স ফি থেকে অর্থায়ন পায়। এখন প্রশ্ন উঠেছে, এই জনঅর্থ ট্রাম্পের দাবি মেটাতে ব্যবহার হবে কি না। সাবেক মিডিয়া মন্ত্রী জন হুইটিংডেল বলেছেন, লাইসেন্স ফি থেকে ক্ষতিপূরণ দেওয়া হলে জনগণের ‘তীব্র ক্ষোভ’ দেখা দেবে।
সূত্র: রয়টার্স
এমএস/