দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

ইউক্রেনের রাজধানী কিয়েভে রুশ বাহিনীর চালানো ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় কমপক্ষে চারজন নিহত হয়েছেন। পূর্ব কিয়েভের লিসোভিই এলাকার একটি বহুতল ভবনে ড্রোন আঘাত হানলে ভবনের কয়েকটি তলা ধসে পড়ে এই প্রাণহানি ঘটে। একই সময় পুরো শহরজুড়ে হামলার কারণে বহু ভবন ও স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি হামলাকে ‘অমানবিক ও পরিকল্পিত’ বলে মন্তব্য করেন। তিনি জানান, রাশিয়া প্রায় ৪৩০টি ড্রোন এবং ১৮টি ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করেছে, যার আঘাতে বহু উচ্চ ভবন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
লিসোভিই এলাকার ক্ষতিগ্রস্ত ভবন থেকে ধ্বংসস্তূপ সরানোর কাজ চলছে। স্থানীয় বাসিন্দা ভিটা বলেন, ড্রোনটি ভবনের ভেতর দিয়ে ঢুকে অপর পাশ দিয়ে বিস্ফোরিত হয়। দমকল বিভাগ জানায়, সপ্তম তলায় ড্রোন আঘাত করার পর বিস্ফোরণে চতুর্থ থেকে অষ্টম তলা পর্যন্ত ধসে পড়ে।
হামলার ঘটনায় বেশ কিছু আবাসিক ভবন, একটি হাসপাতাল, একটি স্কুল ও সরকারি ভবনও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। জরুরি সেবা বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, ৪০ জনের বেশি মানুষকে উদ্ধার করা হয়েছে। আগুনে আটকা পড়া ১৪ জনকে একটি ভবন থেকে বের করা হয় এবং একজনকে ধ্বংসস্তূপের ভেতর থেকে উদ্ধার করা হয়।
কিয়েভের বিদ্যুৎ অবকাঠামোও গুরুতরভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, যার ফলে কিছু এলাকায় গরম সরবরাহ বন্ধ হয়ে গেছে। শহরের সামরিক প্রশাসক তিমুর তকাচেনকো বলেন, প্রায় সব এলাকার আবাসিক ভবনই হামলায় লক্ষ্যবস্তু হয়েছে।
ইউক্রেনের সংসদ সদস্য লিসা ইয়াসকো জানান, রাতে হামলা এত তীব্র ছিল যে ঘর-বিছানা পর্যন্ত কেঁপে ওঠে। মেয়র ভিতালি ক্লিটসকো বলেন, অন্তত নয়জনকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে, একজনের অবস্থা অত্যন্ত গুরুতর।
এদিকে ইউক্রেনও পাল্টা আক্রমণ চালিয়েছে। রাশিয়ার কৃষ্ণসাগরীয় বন্দর নোভোরোসিস্কে ইউক্রেনীয় ড্রোন হামলায় একটি বড় তেল শোধনাগারে আগুন ধরে যায় এবং কয়েকজন আহত হন। রাশিয়ার ক্রাসনোদার অঞ্চলের গভর্নর ভেনিয়ামিন কন্দ্রাতিয়েভ জানান, হামলায় প্রধান তেল ডিপো ও কনটেইনার টার্মিনাল ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
জেলেনস্কি বলেন, ইউক্রেন রাতে রাশিয়ায় ‘লং নেপচুন’ দূরপাল্লার ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করেছে, যদিও নির্দিষ্ট লক্ষ্য সম্পর্কে কিছু জানাননি।
রুশ হামলা এমন সময়ে বাড়ছে, যখন এর আগের সপ্তাহেই রাশিয়ার আরেকটি হামলায় ছয়জন নিহত হয় এবং বহু স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হয়। রাশিয়া দাবি করে, তাদের হামলার লক্ষ্য সামরিক স্থাপনা; তবে কিয়েভ বলছে, এসব হামলা বেসামরিক এলাকাগুলোকেই বারবার টার্গেট করছে।
জেলেনস্কি পশ্চিমা দেশগুলোর কাছে রুশ জ্বালানি খাতে নিষেধাজ্ঞায় ‘কোনো ছাড় না দেওয়ার’ আহ্বান জানান। তবে এর পরপরই যুক্তরাষ্ট্র হাঙ্গেরিকে একটি ব্যতিক্রমী ছাড় দেয়।
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেন, রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে যুদ্ধবিরতি আলোচনায় অগ্রগতি না হওয়ায় তিনি রুশ তেলের ওপর নতুন নিষেধাজ্ঞা ঘোষণা করেছেন।
সূত্র-বিবিসি
এমএস/