দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

যুক্তরাষ্ট্র ও চীন আগামী বৃহস্পতিবার দক্ষিণ কোরিয়ার বুসানে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও শি জিনপিং-এর বৈঠকের আগে সব দ্বিপাক্ষিক ইস্যু সমাধান করতে পারবে না। তবে দুই দেশ সম্ভবত বিরোধিতার কিছু গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে অগ্রগতি করবে, যা অর্থনৈতিক বাজারকে শান্ত রাখতে এবং সাময়িকভাবে তাদের প্রতিদ্বন্দ্বিতা থেকে আরও ক্ষতি রোধ করতে সাহায্য করবে।
চীনের বিরল খনিজ রপ্তানি, আমেরিকার সেনসিটিভ প্রযুক্তি রপ্তানি নিয়ন্ত্রণ এবং অন্যান্য দ্বিপাক্ষিক সমস্যা আলোচনার মূল বিষয়। চীনের শীর্ষ বাণিজ্য কর্মকর্তা লি চেংগাং জানিয়েছেন, 'প্রাথমিকভাবে একমত' হয়েছে। ট্রাম্পের অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট বলেছেন, 'একটি সফল কাঠামো তৈরি হয়েছে'। ট্রাম্পও আশাবাদী, বললেন, চীনা কর্মকর্তারা 'চুক্তি করতে চায় এবং আমরা চুক্তি করতে চাই।'
চীন বিশ্বের প্রধান বিরল খনিজ উৎপাদক এবং রপ্তানিকারক। এ খনিজ যুদ্ধবিমান, রোবট, ইলেকট্রিক গাড়ি ও অন্যান্য উচ্চ প্রযুক্তির পণ্যের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। চীন সম্প্রতি রপ্তানি নিয়ন্ত্রণ আরও কঠোর করেছে। মার্কিন কর্মকর্তারা আশা করছেন, চীনের রপ্তানি নিয়ন্ত্রণ এক বছর পর্যন্ত স্থগিত হতে পারে।
চীনের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব মার্কিন সয়াবিন ক্রয়। চীন এবছর আমেরিকান সয়াবিনের ক্রয় বন্ধ করেছে এবং ব্রাজিল ও আর্জেন্টিনার দিকে ঝুঁকেছে। তবে আলোচনায় আমেরিকান কৃষকদের জন্য পুনরায় সয়াবিন ক্রয়ের সম্ভাবনা তৈরি হচ্ছে।
মার্কিন রপ্তানি নিয়ন্ত্রণও আলোচনার একটি বিষয়। চীন চাইছে সেনসিটিভ প্রযুক্তি রপ্তানিতে শিথিলতা। সম্প্রতি মার্কিন বাণিজ্য বিভাগ নতুন নিয়ম প্রণয়নের মাধ্যমে রপ্তানি নিয়ন্ত্রণ কঠোর করেছে। চীন তা 'কঠোর এবং অবিচার' বলে অভিহিত করেছে।
ট্রাম্প আরও ফেন্টানিল সম্পর্কিত শুল্কের বিষয় নিয়ে আলোচনা করতে চান। ফেব্রুয়ারিতে তিনি ১০ শতাংশ শুল্ক আরোপ করেছিলেন চীনা আমদানি পণ্যের উপর। চীন তা মোকাবিলা করতে কিছু কৃষি পণ্যে প্রতিশোধমূলক শুল্ক আরোপ করেছে।
বিশ্লেষকরা বলছেন, মার্কিন ও চীনের বড় সমস্যা হলো অর্থনৈতিক কাঠামোর ভিন্নতা এবং উভয় দেশের উদ্ভাবনী ও উৎপাদন ক্ষমতা। তাই দুই দেশের জন্য “সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্নকরণ” সম্ভব নয়। বর্তমান আলোচনার লক্ষ্য হলো তাত্ত্বিকভাবে বিরোধ হ্রাস করা, কিন্তু দীর্ঘমেয়াদে সমস্যার স্থায়ী সমাধান নয়।
সূত্র: এপি
এমএস/