দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

অস্ট্রেলিয়ার নিউ সাউথ ওয়েলস (এনএসডব্লিউ) অঙ্গরাজ্যের একটি খনিতে ভয়াবহ বিস্ফোরণে দুইজন নিহত হয়েছেন। ২০১৫ সালের পর দেশটিতে খনিতে এটি প্রথম প্রাণঘাতী দুর্ঘটনা।
ঘটনাটি ঘটেছে মঙ্গলবার ভোরে সিডনি থেকে প্রায় ৭০০ কিলোমিটার উত্তর-পশ্চিমে কোবার এলাকার এনডেভার মাইনে। স্থানীয় সময় ভোরে জরুরি সেবা কর্মীরা ঘটনাস্থলে পৌঁছালে দেখা যায়, বিস্ফোরণে গুরুতর আহত দুইজন মাটির নিচে আটকা পড়েছেন।
পুলিশ জানায়, ঘটনাস্থলেই ৬০ বছর বয়সী এক ব্যক্তি মারা যান। আহত দুই তরুণীকে (দুজনের বয়স ২০-এর কোঠায়) উদ্ধার করে ওপরে তোলা হয়। এর মধ্যে একজন হাসপাতালে নেওয়ার পর মারা যান। অন্য তরুণীকে হেলিকপ্টারে করে হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে, তিনি সামান্য আহত এবং শকে আছেন।
খনির মালিক কোম্পানি পলিমেটালস রিসোর্সেস জানিয়েছে, দুর্ঘটনার পর সব কার্যক্রম সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। তবে কী কারণে বিস্ফোরণ ঘটেছে তা এখনও জানা যায়নি। কোম্পানির নির্বাহী চেয়ারম্যান ডেভ স্প্রুলে এক বিবৃতিতে বলেন, ‘এই মর্মান্তিক ঘটনায় আমরা গভীরভাবে শোকাহত। নিহতদের পরিবার, বন্ধু ও সহকর্মীদের প্রতি আমাদের আন্তরিক সমবেদনা।’
অস্ট্রেলিয়ায় খনিতে প্রাণহানির ঘটনা খুবই বিরল। দেশটিতে সর্বশেষ ২০১৫ সালে কুইন্সল্যান্ডের একটি খনিতে একজন মারা গিয়েছিলেন বলে জানিয়েছে সেফ ওয়ার্ক অস্ট্রেলিয়া।
কোবার শহরের মেয়র জ্যারড মার্সডেন বলেন, ‘এটি অত্যন্ত মর্মান্তিক ঘটনা। খনি থেকে সবচেয়ে মূল্যবান জিনিস হলো খনিশ্রমিকরা, আর আজ দুই পরিবার তাদের প্রিয়জনকে হারিয়েছে। কোবার একটি ছোট ও ঘনিষ্ঠ খনিশ্রমিক সম্প্রদায়—আজ সবাই শোকাহত।’
রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, দুর্ঘটনার কারণ অনুসন্ধানে একটি তদন্ত শুরু হয়েছে এবং করোনারের জন্য বিস্তারিত প্রতিবেদন প্রস্তুত করা হবে।
এনডেভার মাইন ১৯৮২ থেকে ২০২0 সাল পর্যন্ত কার্যক্রম চালায় এবং নতুন মালিক ২০২৩ সালে এটি কিনে রুপা, দস্তা ও সিসার উৎপাদন পুনরায় শুরু করার প্রস্তুতি নিচ্ছিল। খনিটিতে ৭ কিলোমিটার দীর্ঘ সুড়ঙ্গ ও ৩০০ মিটার গভীর একটি শ্যাফট রয়েছে।
নিউ সাউথ ওয়েলসের প্রিমিয়ার ক্রিস মিনস নিহতদের পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়ে বলেন, ‘এটি কোবার সম্প্রদায়ের জন্য এক হৃদয়বিদারক দিন। খনিশিল্পজুড়ে এই শোক ছড়িয়ে পড়বে।’ তিনি আরও বলেন, ‘খনিশিল্পে নিরাপত্তা ব্যবস্থার উন্নতি হয়েছে, তবে এই দুই শ্রমিকের মৃত্যু আমাদের মনে করিয়ে দেয়—কর্মীদের নিরাপত্তায় সবসময় সতর্ক থাকতে হবে।’
সূত্র: বিবিসি
এমএস/