দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

টোমাহক হলো যুক্তরাষ্ট্রের প্রধান ক্ষেপণাস্ত্র, যা আগে সিরিয়া, লিবিয়া ও ইরাকে বিভিন্ন হামলায় ব্যবহার করা হয়েছে। ২০২৩ সালের জুনে আমেরিকা ইরানের পারমাণবিক স্থাপনার ওপর হামলায় প্রায় ৩০টি টোমাহক ব্যবহার করে।
প্রতি ক্ষেপণাস্ত্রের খরচ প্রায় ২০ লাখ ডলার। ধরনভেদে এটি ১,৬০০ থেকে ২,৫০০ কিলোমিটার (১,০০০–১,৬০০ মাইল) দূরত্বে লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত করতে সক্ষম। টোমাহকের বিস্ফোরক শক্তি ইউক্রেনের দীর্ঘ-পরিসরের ড্রোনের চেয়ে অনেক বেশি। এর উন্নত নির্দেশনা ব্যবস্থা এবং উচ্চ সাবসনিক গতি (প্রায় ৫৫০ মাইল প্রতি ঘণ্টা) এটিকে সঠিক এবং বিপজ্জনক করে তোলে। এছাড়া এটি নিচু উচ্চতায় উড়ে যায়, ফলে শনাক্ত করা ও বাধা দেওয়া কঠিন হয়।
ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি ট্রাম্প প্রশাসনের কাছে টোমাহক সরবরাহের জন্য অনুরোধ করেছেন, যাতে তারা রাশিয়ার ভেতরের লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালাতে পারে। তবে যুক্তরাষ্ট্রের হাতে এই মুহূর্তে পর্যাপ্ত সরবরাহ নেই। ট্রাম্প জানিয়েছেন, ‘আমাদেরও টোমাহক দরকার। আমাদের অনেক আছে, কিন্তু আমাদের প্রয়োজন আরও।’
যুদ্ধের বাস্তবতায় দেখা গেছে, একক অস্ত্র কোনো বড় পরিবর্তন আনে না। রাশিয়ার তেল শোধনাগার ও বিমানঘাঁটিতে আঘাত করার জন্য শত শত টোমাহকের প্রয়োজন হবে। তবুও কয়েকটি ক্ষেপণাস্ত্র কৌশলগত লক্ষ্যকে ক্ষতিগ্রস্ত করতে সক্ষম, যেমন টাটারস্তানে শাহেদ ড্রোন কারখানা এবং সারাতভ অঞ্চলের এঙ্গেলস-২ বিমানঘাঁটি।
জেলেনস্কি জানিয়েছেন, ‘শুধু ইউক্রেনীয় ড্রোন দিয়ে কাজ করা কঠিন। আমাদের দীর্ঘ-পরিসরের টোমাহক দরকার।’ তিনি আরও বলেন, টোমাহক সরবরাহ হলে এটি ‘ইউক্রেনকে শক্তিশালী করবে এবং রাশিয়াকে আলোচনায় বসতে বাধ্য করবে।’
রাশিয়া ইউক্রেনের জন্য টোমাহক সরবরাহের সম্ভাবনায় সতর্ক বার্তা দিয়েছে। এই ক্ষেপণাস্ত্র পরমাণু যুদ্ধাস্ত্র বহন করতে সক্ষম হওয়ায় ক্রেমলিন এটিকে ‘শত্রুতাপূর্ণ পদক্ষেপ’ হিসেবে দেখবে, যা বিশ্ব নিরাপত্তার জন্য হুমকি সৃষ্টি করবে।
টোমাহক ১৯৯১ সালে প্রথম যুদ্ধে ব্যবহৃত হয়েছিল। খোপার স্টর্ম অপারেশনের প্রথম তিন দিনে ইরাকি প্রতিরক্ষার ওপর ১২২টি টোমাহক নিক্ষেপ করা হয়েছিল। এরপর এটি বলকান, আফগানিস্তান, ইয়েমেন, লিবিয়া ও সিরিয়ায় ব্যবহার হয়েছে। ২০২১ সালে এর সর্বশেষ সংস্করণ চালু হয়েছে, যা উন্নত ইলেকট্রনিক্স এবং দীর্ঘ রেঞ্জে আঘাত করতে সক্ষম।
প্রধানত এটি সমুদ্র থেকে লঞ্চ করা হয়। ইউক্রেনের জন্য ভূমি-ভিত্তিক লঞ্চার ‘টাইফন’ প্রয়োজন। টাইফন একটি বড় কনটেইনারের মতো এবং এটি ২০১৯ সালে যুক্তরাষ্ট্র-রাশিয়া মধ্যপিসীমার পারমাণবিক চুক্তি থেকে বের হয়ে তৈরি করা হয়।
জেলেনস্কি ইউক্রেনের নিজস্ব ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র ‘ফ্লেমিংগো’-এর কথাও বলেছেন, যার পরিসর টোমাহকের সমান হতে পারে। তবে এর ক্ষমতা এখনও অজানা এবং উৎপাদন সম্প্রসারণের জন্য যথেষ্ট সম্পদ নেই।
ইউক্রেনের জন্য সবচেয়ে জরুরি বিষয় হলো শক্তিশালী ও দক্ষ বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা, কারণ রাশিয়া মিসাইল ও ড্রোনের সমন্বিত হামলা চালাচ্ছে। জেলেনস্কি তার সাম্প্রতিক ওয়াশিংটন সফরে লকহিড মার্টিন ও রেথিয়নের সঙ্গে মিলিত হয়ে ৯০ বিলিয়ন ডলারের অস্ত্র কেনার ‘মেগা-ডিল’ চালানোর চেষ্টা করছেন। সূত্র: সিএনএন
এমএস/