দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প চলতি অক্টোবরের শেষ সপ্তাহে দক্ষিণ কোরিয়ায় চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সঙ্গে বৈঠকে বসতে পারেন বলে জানিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট। দুই দেশের মধ্যে শুল্ক ও রপ্তানি নিয়ন্ত্রণ নিয়ে চলমান উত্তেজনা প্রশমনের অংশ হিসেবে এই বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে।
সোমবার বেসেন্ট ফক্স বিজনেস নেটওয়ার্ককে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে বলেন, ‘আমরা এখন অনেকটাই উত্তেজনামুক্ত অবস্থায় আছি। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প জানিয়েছেন, ১ নভেম্বরের আগে কোনো নতুন শুল্ক কার্যকর হবে না। তিনি কোরিয়ায় দলের চেয়ারম্যান শি জিনপিংয়ের সঙ্গে বৈঠকে বসবেন, এবং আমি বিশ্বাস করি সেই বৈঠক পরিকল্পনামাফিকই হবে।’
ট্রাম্প ও শি জিনপিংয়ের এই সাক্ষাৎ দক্ষিণ কোরিয়ায় অক্টোবরের শেষ দিকে আয়োজিত এশিয়া-প্যাসিফিক ইকোনমিক কো-অপারেশন (এপিইসি) ফোরামের শীর্ষ সম্মেলনের সময় অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা।
সম্প্রতি চীন বিরল খনিজ পদার্থের রপ্তানি নিয়ন্ত্রণ বড় আকারে বাড়ানোর ঘোষণা দেয়। এর প্রতিক্রিয়ায় ট্রাম্প শুক্রবার পাল্টা ব্যবস্থা নিলে বিশ্বের দুই বৃহত্তম অর্থনীতির মধ্যে সম্পর্ক ও বাজার উভয়েই অস্থির হয়ে পড়ে।
বেসেন্ট জানান, সপ্তাহান্তে দুই দেশের কর্মকর্তাদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য যোগাযোগ হয়েছে এবং শিগগিরই আরও বৈঠক হবে। তিনি বলেন, ‘গত সপ্তাহের ঘোষণা সত্ত্বেও আমাদের সম্পর্ক এখনো ভালো। যোগাযোগ পুনরায় শুরু হয়েছে, তাই আমরা আশাবাদী।’
তিনি আরও জানান, বিশ্বব্যাংক ও আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের বার্ষিক বৈঠকের পাশাপাশি এই সপ্তাহে ওয়াশিংটনে যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের কর্মকর্তাদের মধ্যে কর্মপর্যায়ের বৈঠকও অনুষ্ঠিত হবে।
ট্রাম্পের সাম্প্রতিক কঠোর বাণিজ্য অবস্থান নিয়ে বেসেন্ট বলেন, চীনের পদক্ষেপ উসকানিমূলক হলেও যুক্তরাষ্ট্র তীব্রভাবে প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে। ‘আমরা ইউরোপ, ভারত এবং এশিয়ার গণতান্ত্রিক দেশগুলোর সঙ্গে যোগাযোগ রাখছি। চীন একটি কমান্ড অ্যান্ড কন্ট্রোল অর্থনীতি, কিন্তু তারা আমাদের নির্দেশ দিতে পারবে না,’ বলেন বেসেন্ট।
রবিবার চীন যুক্তরাষ্ট্রকেই বাণিজ্য উত্তেজনার জন্য দায়ী করে। তারা ট্রাম্পের চীনা পণ্যের ওপর ১০০ শতাংশ শুল্ক আরোপের হুমকিকে ‘ভণ্ডামি’ হিসেবে আখ্যায়িত করে এবং বিরল খনিজ রপ্তানিতে তাদের নতুন নিয়ন্ত্রণকে যৌক্তিক বলে দাবি করে।
নতুন নিয়ম অনুযায়ী, যদি কোনো বিদেশি কোম্পানি চীনা উপকরণ বা যন্ত্রপাতি ব্যবহার করে বিরল খনিজ বা সংশ্লিষ্ট চুম্বক তৈরি করে, তবে সেই পণ্য রপ্তানির জন্য এখন চীনের অনুমতি লাগবে— এমনকি যদি কোনো চীনা কোম্পানি সরাসরি ওই বাণিজ্যে জড়িত না থাকে তবুও।
বেসেন্ট জানান, যুক্তরাষ্ট্র এসব রপ্তানি অনুমতি ব্যবস্থাকে স্বীকৃতি দেবে না।
ট্রাম্পের হঠাৎ ঘোষণায় শুক্রবার বৈশ্বিক শেয়ারবাজারে বড় ধরনের পতন ঘটে। যুক্তরাষ্ট্রের এসঅ্যান্ডপি ৫০০ সূচক একদিনেই ২ শতাংশের বেশি হারায়— যা গত এপ্রিলের পর সবচেয়ে বড় পতন। তবে সোমবার বাজার কিছুটা স্থিতিশীল হয়, এবং প্রযুক্তিনির্ভর নাসডাক সূচক প্রায় ২ শতাংশ বেড়ে লেনদেন শুরু করে। সূত্র: রয়টার্স।
এমএস/