দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

মাদাগাস্কারের প্রেসিডেন্ট আন্দ্রি রাজোয়েলিনা দেশ ছেড়ে পালিয়েছেন বলে জানিয়েছে দেশটির বিরোধী দল ও সরকারি কর্মকর্তারা। তরুণ প্রজন্মের নেতৃত্বে চলমান ‘জেন জি’ বিক্ষোভে টানা কয়েক সপ্তাহ ধরে অস্থিতিশীল পরিস্থিতির মধ্যে এ ঘটনা ঘটেছে।
বিরোধীদলীয় নেতা সিটেনি র্যান্ড্রিয়ানাসোলোনিয়াইকো সোমবার রয়টার্সকে জানান, গত রোববার সেনাবাহিনীর কয়েকটি ইউনিট বিক্ষোভকারীদের পক্ষে চলে যাওয়ার পর রাজোয়েলিনা দেশ ত্যাগ করেন। তিনি বলেন, ‘আমরা প্রেসিডেন্টের দপ্তরে যোগাযোগ করেছিলাম, তারা নিশ্চিত করেছে যে প্রেসিডেন্ট দেশ ছেড়েছেন। তবে তিনি কোথায় আছেন তা জানা যায়নি।’
প্রেসিডেন্টের কার্যালয় আগেই জানিয়েছিল, সোমবার সন্ধ্যা ৭টায় রাজোয়েলিনা জাতির উদ্দেশে ভাষণ দেবেন। তবে পরে তারা কোনো মন্তব্য করেনি।
এক সামরিক সূত্র রয়টার্সকে জানায়, রাজোয়েলিনা ফরাসি সেনাবাহিনীর একটি বিমানে করে দেশ ছাড়েন। ফরাসি গণমাধ্যম আরএফআই জানিয়েছে, প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁর সঙ্গে তার সমঝোতা হয়। সূত্রটি আরও জানায়, রবিবার সেন্ট মেরি বিমানবন্দরে ফরাসি সেনাবাহিনীর একটি বিমান অবতরণ করে, এরপর একটি হেলিকপ্টারে রাজোয়েলিনাকে সেখানে আনা হয় এবং তিনি সেই বিমানে করে দেশ ত্যাগ করেন।
গত ২৫ সেপ্টেম্বর পানি ও বিদ্যুতের সংকট নিয়ে শুরু হওয়া বিক্ষোভ দ্রুতই দুর্নীতি, দুর্বল শাসনব্যবস্থা ও মৌলিক সেবার অভাবের প্রতিবাদে পরিণত হয়। বিরোধী মনোভাব বিশেষ করে তরুণ প্রজন্মের মধ্যে ব্যাপক আকার নেয়।
রাজোয়েলিনা ধীরে ধীরে সেনাবাহিনীর সমর্থন হারান। বিশেষ করে ‘ক্যাপসাট’ নামে অভিজাত সেনা ইউনিটটি, যারা ২০০৯ সালে তাকে ক্ষমতায় আনতে সাহায্য করেছিল, এবার বিক্ষোভকারীদের পক্ষে চলে যায়। তারা জানায়, বিক্ষোভকারীদের ওপর গুলি চালাতে তারা অস্বীকৃতি জানিয়েছে। পরে তারা রাজধানী আন্তানানারিভোর প্রধান চত্বরে বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে যোগ দেয় এবং সেনাবাহিনীর নিয়ন্ত্রণ গ্রহণ করে নতুন সেনাপ্রধান নিয়োগের ঘোষণা দেয়।
এর পরদিন আধাসামরিক জেন্ডারমেরির একটি অংশও বিক্ষোভকারীদের পক্ষে অবস্থান নেয় এবং আনুষ্ঠানিকভাবে বাহিনীর নিয়ন্ত্রণ নেয়। এসময় সরকারের সিনিয়র কর্মকর্তারাও উপস্থিত ছিলেন।
বিক্ষোভের সময় জনরোষের কেন্দ্রবিন্দুতে থাকা সিনেটের সভাপতি পদচ্যুত হন। তার স্থানে সাময়িকভাবে জ্যাঁ আঁদ্রে ন্দ্রেমাঞ্জারি দায়িত্ব নেন। দেশটির সংবিধান অনুযায়ী, প্রেসিডেন্ট অনুপস্থিত থাকলে সিনেটের সভাপতি অস্থায়ীভাবে রাষ্ট্রপ্রধানের দায়িত্ব পালন করেন।
সোমবার রাজধানীর প্রধান চত্বরে হাজারো মানুষ ‘প্রেসিডেন্ট এখনই পদত্যাগ করুন’ স্লোগান দিয়ে বিক্ষোভ করেন।
২২ বছর বয়সী হোটেলকর্মী আদ্রিয়ানারিভনি ফানোমেগানৎসো রয়টার্সকে বলেন, তার মাসিক বেতন ৩ লাখ আরিয়ারি (প্রায় ৬৭ ডলার) দিয়ে পরিবার চালানোই কষ্টকর। তিনি বলেন, ‘১৬ বছর ধরে প্রেসিডেন্ট ও তার সরকার শুধু নিজেদের ধনী করেছে, জনগণ দরিদ্রই থেকে গেছে। সবচেয়ে বেশি ভুগছে তরুণ প্রজন্ম—আমরা, জেন জি।’
জাতিসংঘের তথ্যানুসারে, ২৫ সেপ্টেম্বর থেকে শুরু হওয়া বিক্ষোভে এখন পর্যন্ত অন্তত ২২ জন নিহত হয়েছেন। সূত্র: রয়টার্স
এমএস/