দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র চীনের একটি বড় ভূগর্ভস্থ চার্চ নেটওয়ার্কের ৩০ জন নেতার মুক্তি দাবি করেছে। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, এই নেতাদের শুক্রবার রাতভর বিভিন্ন শহরে অভিযান চালিয়ে গ্রেপ্তার করা হয়।
মার্কিনভিত্তিক স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা চায়না এড জানিয়েছে, গ্রেপ্তারদের মধ্যে কয়েকজন পাদ্রি ও জায়ন চার্চের প্রতিষ্ঠাতা জিন মিংরি রয়েছেন। শনিবার ভোরে তার বাড়িতে দশজন পুলিশ হাজির হয়ে তল্লাশি চালিয়ে তাকে আটক করে।
চীনের কমিউনিস্ট পার্টি ধর্মীয় স্বাধীনতাকে কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রণ করে এবং নাস্তিকতার প্রচার করে। এর মধ্যেও অনেক খ্রিস্টান এটি গত কয়েক দশকে সবচেয়ে বড় ধর্মীয় দমন বলছেন। খ্রিস্টানদের দীর্ঘদিন ধরে শুধু সরকার অনুমোদিত চার্চে যোগ দিতে চাপ দেওয়া হয়েছে, যেখানে সরকার অনুমোদিত পাদ্রি নেতৃত্ব দেন।
গ্রেপ্তা্রকৃতদের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ করা হয়েছে কিনা তা এখনও জানা যায়নি। জায়ন চার্চ এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, ‘এ ধরনের পরিকল্পিত নিপীড়ন শুধু ঈশ্বরের চার্চের প্রতি আঘাত নয়, আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রতি চ্যালেঞ্জও’।
মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও বলেন, ‘এই অভিযান আরও স্পষ্ট করে দেখাচ্ছে যে, চীন খ্রিস্টানদের প্রতি শত্রুতা প্রদর্শন করছে যারা পার্টির হস্তক্ষেপ না মানে এবং নিবন্ধিত নয় এমন হাউস চার্চে উপাসনা করে’।
মার্কিন সাবেক ভাইস প্রেসিডেন্ট মাইক পেন্স এবং সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী মাইক পম্পেওও গ্রেপ্তা্রগুলোকে নিন্দা জানিয়েছেন।
চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র লিন জিয়ান একটি সংবাদ সম্মেলনে বলেন, তিনি এই ঘটনায় অবগত নন। তিনি বলেন, ‘চীনের সরকার ধর্মীয় কার্যক্রম আইন অনুযায়ী পরিচালনা করে এবং নাগরিকদের ধর্মীয় স্বাধীনতা রক্ষা করে। আমরা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের হস্তক্ষেপের প্রতিবাদ করি’।
এ ঘটনা যুক্তরাষ্ট্র-চীন সম্পর্কের নতুন উত্তেজনার কারণ হতে পারে। দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্য সম্পর্ক ইতিমধ্যেই শুল্ক ও রপ্তানি নিয়ন্ত্রণ নিয়ে উত্তেজনাপূর্ণ।
চীনে জায়ন চার্চ ২০০৭ সালে মাত্র ২০ জন সদস্য দিয়ে শুরু হয়। বর্তমানে এটি ৪০টি শহরে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে নিয়ে ভূগর্ভস্থ সবচেয়ে বড় চার্চগুলোর মধ্যে একটি।
২০১৮ সালে পার্টি সরকারী চাপের মুখে চার্চ বন্ধের নির্দেশ দেয়। জিন মিংরি এবং অন্যান্য চার্চ নেতাদের সাময়িকভাবে গ্রেপ্তার করা হয়। এরপরেও চার্চ ছোট গ্রুপে মিলিত হয়ে ইন্টারনেটে ধর্মসভা পরিচালনা করে।
চায়না এড এই গ্রেপ্তার অভিযানকে ‘৪০ বছরের মধ্যে সবচেয়ে সমন্বিত ও বিস্তৃত ধর্মীয় নিপীড়ন’ হিসেবে বর্ণনা করেছে।
জিন মিংরির স্ত্রী লিউ চুনলি লিখেছেন, তার হৃদয় ‘অবাক, শোকাহত, দুঃখিত ও রুষ্ট’ অনুভূতিতে ভরে গেছে। তিনি উল্লেখ করেছেন, জিন মিংরি ‘শুধু একজন বিশ্বাসী পাদ্রি হিসেবে কাজ করেছেন এবং তিনি নির্দোষ’।
মার্কিন চার্চের পাদ্রি শ্যন লং জানিয়েছেন, জিন মিংরি এই ধরনের অভিযানকে আগেই প্রস্তুত ছিলেন এবং এটি নতুন প্রেরণার সুযোগ হিসেবে দেখেন। সূত্র: বিবিসি
এমএস/