দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

উত্তর কোরিয়া শুক্রবার রাতে এক বিশাল সামরিক কুচকাওয়াজ আয়োজন করে, যেখানে দেশটির সর্বাধুনিক আন্তঃমহাদেশীয় ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র প্রদর্শন করা হয়।
উত্তর কোরিয়ার রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম জানায়, নেতা কিম জং উন নিজে এই কুচকাওয়াজ তদারকি করেন।
এই আয়োজনটি দেশটির শ্রমিক পার্টির ৮০তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে অনুষ্ঠিত হয়। এর আগে বৃহস্পতিবারও বড় পরিসরে উদযাপন করা হয় এ দিবসটি।
কুচকাওয়াজে উপস্থিত ছিলেন চীনের প্রধানমন্ত্রী লি চিয়াং, রাশিয়ার প্রাক্তন প্রেসিডেন্ট দিমিত্রি মেদভেদেভ–এর নেতৃত্বে এক প্রতিনিধি দল এবং ভিয়েতনামের কমিউনিস্ট পার্টির প্রধান তো লামসহ আরও অনেকে।
রাষ্ট্রীয় প্রতিবেদনে বলা হয়, এই কুচকাওয়াজে উত্তর কোরিয়া তাদের সবচেয়ে উন্নত ক্ষেপণাস্ত্র ‘হওয়াসং-২০’ প্রদর্শন করে, যেটিকে বলা হয়েছে দেশের ‘সবচেয়ে শক্তিশালী পারমাণবিক কৌশলগত অস্ত্র ব্যবস্থা’।
‘হওয়াসং’ সিরিজের ক্ষেপণাস্ত্রগুলো উত্তর কোরিয়াকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মূল ভূখণ্ড পর্যন্ত আঘাত হানার সক্ষমতা দিয়েছে। তবে এখনো প্রশ্ন রয়ে গেছে, এসব ক্ষেপণাস্ত্রের টার্গেট নির্ভুলতা এবং পুনঃপ্রবেশের সময় ওয়ারহেডের টিকে থাকার ক্ষমতা নিয়ে।
যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক প্রতিষ্ঠান কার্নেগি এনডাউমেন্ট ফর ইন্টারন্যাশনাল পিস–এর বিশেষজ্ঞ অঙ্কিত পান্ডা বলেন, ‘হওয়াসং-২০ এখন পর্যন্ত উত্তর কোরিয়ার দীর্ঘ-পাল্লার পারমাণবিক সক্ষমতার সর্বোচ্চ উদাহরণ। সম্ভবত বছরের শেষ নাগাদ এই ক্ষেপণাস্ত্রের পরীক্ষামূলক উৎক্ষেপণ দেখা যেতে পারে।’
তিনি আরও বলেন, ‘এই ক্ষেপণাস্ত্র সম্ভবত একাধিক ওয়ারহেড বহন করতে সক্ষম। ফলে এটি যুক্তরাষ্ট্রের বিদ্যমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার ওপর বড় চাপ সৃষ্টি করবে এবং ওয়াশিংটনের ওপর আরও কার্যকর প্রতিরোধ তৈরি করবে।’
কুচকাওয়াজে কিম জং উন বলেন, ‘আমাদের সেনাবাহিনীকে এমন এক অজেয় বাহিনীতে পরিণত হতে হবে, যারা সব ধরনের হুমকি ধ্বংস করতে সক্ষম।’
তিনি আরও উল্লেখ করেন, উত্তর কোরিয়ার সৈন্যদের সাহসিকতা শুধু দেশের প্রতিরক্ষায় নয়, বরং ‘সমাজতান্ত্রিক নির্মাণের অগ্রভাগেও’ দৃশ্যমান হবে।
এদিন কিম জং উন রাশিয়ার প্রতিনিধি দিমিত্রি মেদভেদেভ–এর সঙ্গেও বৈঠক করেন। মেদভেদেভ বলেন, ‘রাশিয়ার ইউক্রেন অভিযানে উত্তর কোরিয়ার সৈন্যদের অবদান দুই দেশের গভীর আস্থার প্রতীক।’
সূত্র: রয়টার্স
এমএস/