দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

যুক্তরাষ্ট্রের টেনেসি অঙ্গরাজ্যের একটি সামরিক বিস্ফোরক তৈরির কারখানায় ভয়াবহ বিস্ফোরণে ১৯ জন নিখোঁজ হয়েছেন। স্থানীয় সময় শুক্রবার সকালেই এই দুর্ঘটনা ঘটে।
হাম্প্রিজ কাউন্টির শেরিফ ক্রিস ডেভিস জানান, বিস্ফোরণে চার থেকে পাঁচজন আহত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন এবং কয়েকজনের মৃত্যু হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে ঠিক কতজন নিহত হয়েছেন, তা এখনো নিশ্চিত করা যায়নি।
শেরিফ ডেভিস সাংবাদিকদের বলেন, ‘বলার মতো কিছুই নেই—সব শেষ হয়ে গেছে।’
বিস্ফোরণটি ঘটে বাকসনোর্ট শহরে, যা ন্যাশভিল শহর থেকে প্রায় ৯০ কিলোমিটার দক্ষিণ-পশ্চিমে অবস্থিত। কারখানাটি ‘অ্যাকিউরেট এনারজেটিক সিস্টেমস’ নামে একটি কোম্পানির, যেখানে সামরিক মানের বিস্ফোরক তৈরি ও সংরক্ষণ করা হতো।
ড্রোন ফুটেজে দেখা গেছে, পুরো এলাকা পুড়ে ছাই, ধোঁয়ায় মোড়ানো গাড়ি আর পোড়া ধ্বংসাবশেষ ছাড়া কিছুই অবশিষ্ট নেই।
শেরিফ ডেভিস জানান, বিস্ফোরণের সময় কারখানায় কাজ চলছিল। প্রাথমিক বিস্ফোরণের পর আরও কয়েকটি বিস্ফোরণ ঘটে, যার কারণে উদ্ধারকর্মীদের কিছু সময় অপেক্ষা করতে হয়।
তিনি আবেগাপ্লুত হয়ে বলেন, ‘এরা শুধু মানুষ নয়, আমরা ১৯টি আত্মাকে হারিয়েছি।’
বিস্ফোরণের ধাক্কায় অর্ধ বর্গমাইল এলাকা জুড়ে ধ্বংসস্তুপ ছড়িয়ে পড়ে। ২৫ কিলোমিটার দূরের ওয়েভারলি শহরেও বিস্ফোরণের শব্দ ও কম্পন অনুভূত হয়।
স্থানীয় হাসপাতাল ট্রাইস্টার হেলথের মুখপাত্র কেসি স্ট্যাপ জানান, তিনজন আহত ব্যক্তি চিকিৎসা নিতে হাসপাতালে এসেছিলেন; তাঁদের মধ্যে দুজনকে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে, একজন এখনও চিকিৎসাধীন।
বিস্ফোরণের পরপরই ঘটনাস্থলে ছুটে আসে এফবিআই এবং অ্যালকোহল, টোব্যাকো, ফায়ারআর্মস অ্যান্ড এক্সপ্লোসিভস ব্যুরো। তারা এলাকা সুরক্ষিত ঘোষণা করেছে এবং তদন্ত শুরু করেছে।
শেরিফ ডেভিস বলেন, তদন্ত ‘ধীর কিন্তু পদ্ধতিগতভাবে’ চলবে এবং এতে ফেডারেল সংস্থাগুলোর কয়েকটি দল অংশ নিচ্ছে।
একই স্থানে ২০১৪ সালেও আরেকটি বিস্ফোরণ ঘটে, যখন কারখানাটি রিও অ্যামিউনিশন নামে অন্য একটি কোম্পানির অধীনে ছিল। তখন একজন নিহত ও তিনজন আহত হয়েছিলেন।
বিস্ফোরক প্রকৌশলী ইনস্টিটিউটের সাবেক সভাপতি কেন ক্রস জানান, ‘বিস্ফোরক উৎপাদন অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ কাজ। যথাযথ নিরাপত্তা ও প্রশিক্ষণ থাকলে দুর্ঘটনা বিরল হলেও, একটু গাফিলতিই প্রাণঘাতী হতে পারে।’
তিনি আরও বলেন, ‘বিশ্বজুড়ে প্রায় প্রতি সপ্তাহেই এ ধরনের কারখানায় বিস্ফোরণের খবর আসে—বিশেষ করে যেখানে নিরাপত্তা মান ও তদারকি দুর্বল।’
বিস্ফোরণটি টেনেসির দুটি কাউন্টির সীমান্তে অবস্থিত প্রায় ১,৩০০ একর জমির ওপর নির্মিত কারখানায় ঘটে। বর্তমানে কারখানার সব কার্যক্রম বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে, এবং কোম্পানির প্রায় ৭৫ কর্মীর মধ্যে অনেকের ভাগ্য এখনো অজানা।
রাজ্যের গভর্নর বিল লি সামাজিক মাধ্যমে এটিকে ‘দুঃখজনক ঘটনা’ বলে অভিহিত করেছেন এবং জানিয়েছেন, রাজ্য ও ফেডারেল উভয় সংস্থা যৌথভাবে উদ্ধার ও তদন্ত কার্যক্রম চালাচ্ছে।
সূত্র: বিবিসি
এমএস/