দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

গাজায় যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পর ইসরায়েলি সেনারা শুক্রবার সকালে অঞ্চলটির কিছু অংশ থেকে আংশিকভাবে সেনা প্রত্যাহার করেছে বলে জানিয়েছে ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী।
ইসরায়েল বলছে, তারা চুক্তি অনুযায়ী নির্ধারিত স্থানে পিছু হটেছে, যদিও সৈন্যরা এখনো গাজার প্রায় অর্ধেক এলাকা দখলে রেখেছে।
যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পর হাজার হাজার ফিলিস্তিনিকে গাজার উত্তরাঞ্চলের দিকে হাঁটতে দেখা গেছে, যা গত কয়েক মাসে সবচেয়ে বেশি বোমাবর্ষণের শিকার হয়েছিল। অনেকেই ক্ষুধার্ত, দুর্বল ও নিঃস্ব অবস্থায় ২০ কিলোমিটার পর্যন্ত হাঁটছেন, হাতে তাদের অবশিষ্ট সামান্য জিনিসপত্র।
এই যুদ্ধবিরতি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের মধ্যস্থতায় হওয়া এক চুক্তির অংশ, যা বৃহস্পতিবার ইসরায়েলি সরকার অনুমোদন দেয়।
চুক্তি অনুযায়ী, সোমবার দুপুর পর্যন্ত হামাসকে সব ইসরায়েলি বন্দি মুক্তি দিতে হবে, যার মধ্যে ২০ জন জীবিত এবং আরও ২৮ জনের মরদেহ থাকতে পারে। ইসরায়েলও ২৫০ জন ফিলিস্তিনি বন্দিকে মুক্তি দেবে, যাদের মধ্যে ১০০ জন পশ্চিম তীরে এবং ৫ জন পূর্ব জেরুজালেমে ফিরবেন। গাজা থেকে আটক ১,৭০০ ফিলিস্তিনিকেও ছেড়ে দেওয়ার কথা রয়েছে।
এ ছাড়া, গাজার ক্ষতিগ্রস্ত জনগণের জন্য মানবিক সহায়তার ট্রাকগুলোকে অবাধে প্রবেশের অনুমতি দেওয়ার কথা রয়েছে। প্রতিদিন প্রায় ৬০০ ট্রাক ত্রাণ নিয়ে প্রবেশ করবে বলে আশা করা হচ্ছে।
জাতিসংঘের সহায়তায় করা এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আগস্ট মাসে প্রথমবারের মতো গাজার কিছু অংশে দুর্ভিক্ষ ঘোষণা করা হয়। সেখানে ৫ লাখের বেশি মানুষ ‘ক্ষুধা, দারিদ্র্য ও মৃত্যুর দ্বারপ্রান্তে’ রয়েছে।
ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী এক বিবৃতিতে জানায়, ‘আমাদের বাহিনী হালনাগাদ মোতায়েন লাইনে অবস্থান নিয়েছে এবং যে কোনো তাত্ক্ষণিক হুমকি প্রতিরোধে কাজ চালিয়ে যাবে।’
যুক্তরাষ্ট্রের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ২০০ মার্কিন সেনা গাজায় যুদ্ধবিরতি পর্যবেক্ষণের জন্য ইসরায়েলে পাঠানো হচ্ছে।
ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু টেলিভিশন ভাষণে বলেন, ‘আমরা প্রতিশ্রুতি পূরণ করছি—সব বন্দিকে ফিরিয়ে আনা হবে।’ তিনি আরও জানান, ইসরায়েলি বাহিনী এখনো ‘হামাসকে ঘিরে রেখেছে’ এবং যুদ্ধবিরতির পরবর্তী ধাপে ‘হামাসকে নিরস্ত্র ও গাজাকে সামরিকভাবে নিষ্ক্রিয়’ করা হবে।
অন্যদিকে হামাস জানায়, তারা গাজায় কোনো বিদেশি তত্ত্বাবধান মেনে নেবে না। এটি সম্পূর্ণ ‘আভ্যন্তরীণ ফিলিস্তিনি বিষয়’ বলে সংগঠনটি দাবি করেছে।
হামাস-নিয়ন্ত্রিত গাজা সিভিল ডিফেন্সের মুখপাত্র মাহমুদ বাসাল জানিয়েছেন, শুক্রবার প্রায় দুই লাখ মানুষ গাজার উত্তরাঞ্চলে ফিরে গেছেন। তাদের অনেকেরই ঘরবাড়ি ধ্বংস হয়ে গেছে, তবুও তারা ফিরছেন নিজের ভূমিতে।
২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর হামাসের আক্রমণের পর ইসরায়েলের পাল্টা অভিযানে এ পর্যন্ত ৬৭ হাজারের বেশি ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন, যার মধ্যে ১৮ হাজারের বেশি শিশু।
জাতিসংঘের তদন্ত কমিশন এবং আন্তর্জাতিক বিশেষজ্ঞরা ইসরায়েলের বিরুদ্ধে গণহত্যার অভিযোগ তুলেছেন, যা ইসরায়েল ‘মিথ্যা ও বিকৃত প্রতিবেদন’ বলে প্রত্যাখ্যান করেছে।
যুদ্ধবিরতি বাস্তবায়নের পর এখন দেখার বিষয়—গাজায় শান্তি ফিরবে নাকি এটি কেবল স্বল্পমেয়াদি বিরতি মাত্র।
সূত্র: বিবিসি
এমএস/