দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

আফগানিস্তানের তালেবান সরকার পাকিস্তানের বিরুদ্ধে কাবুলের সার্বভৌমত্ব লঙ্ঘনের অভিযোগ তুলেছে। শুক্রবার এক বিবৃতিতে দেশটির প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় ঘটনাটিকে ‘অভূতপূর্ব, সহিংস ও উসকানিমূলক’ বলে বর্ণনা করেছে।
অভিযোগের সূত্রপাত হয় বৃহস্পতিবার রাতে কাবুলে দুটি বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যাওয়ার পর।
তালেবান প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের দাবি, পাকিস্তান আফগানিস্তানের দক্ষিণ-পূর্ব সীমান্ত প্রদেশ পাকতিকা-তে একটি বেসামরিক বাজারে বোমা হামলা চালিয়েছে, যাতে একাধিক দোকান ধ্বংস হয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দারাও বিবিসি আফগান সার্ভিসকে ঘটনাটি নিশ্চিত করেছেন।
তবে পাকিস্তান সরকার এখনো এই হামলা চালানোর কথা স্বীকার বা অস্বীকার করেনি।
শুক্রবার পেশাওয়ারে এক সংবাদ সম্মেলনে পাকিস্তানের সামরিক মুখপাত্র জেনারেল আহমেদ শরীফ চৌধুরী অভিযোগ করেন, ‘আফগানিস্তানকে পাকিস্তানের বিরুদ্ধে সন্ত্রাসী হামলার ঘাঁটি হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে।’
তিনি আরও বলেন, ‘পাকিস্তানের জীবন ও সম্পদ রক্ষায় যেসব পদক্ষেপ প্রয়োজন, তা নেওয়া হবে।’
দীর্ঘদিন ধরেই পাকিস্তান অভিযোগ করে আসছে, আফগান তালেবান টিটিপি-কে মদদ দিচ্ছে । তবে কাবুল এ অভিযোগ সব সময় অস্বীকার করে এসেছে।
এদিকে গুজব ছড়ায়, কাবুলে শোনা বিস্ফোরণটি নাকি ছিল টিটিপি প্রধান নূর ওয়ালি মেহসুদের ওপর হামলা। পরে টিটিপি একটি অযাচাইকৃত ভয়েস বার্তা প্রকাশ করে, যেখানে মেহসুদ দাবি করেন তিনি এখনও জীবিত।
বিবিসির আফগান সংবাদদাতা জানান, সন্দেহভাজন বিস্ফোরণস্থলে কোনো স্পষ্ট ক্ষতির চিহ্ন পাওয়া যায়নি, তবে এলাকাজুড়ে তালেবান টহল ও চেকপোস্টের উপস্থিতি বেড়েছে।
তালেবান প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় সতর্ক করে বলেছে, ‘যদি পরিস্থিতি আরও খারাপ হয়, তার দায় পাকিস্তান সেনাবাহিনীকেই নিতে হবে।’
তবে বর্তমানে ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লিতে সফররত আফগান পররাষ্ট্রমন্ত্রী আমির খান মুত্তাকি কূটনৈতিকভাবে শান্ত বার্তা দিয়েছেন।
তিনি বলেন, ‘পাকিস্তান যেন এই ভুলটি পুনরায় না করে। আমাদের সমস্যা যুদ্ধ নয়, আলোচনার মাধ্যমেই সমাধান করা সম্ভব।’
বিশ্লেষকরা বলছেন, আফগানিস্তান ও পাকিস্তানের সম্পর্ক আবারও উত্তেজনাপূর্ণ হয়ে উঠেছে। একদিকে সীমান্তে নিরাপত্তা উদ্বেগ, অন্যদিকে কূটনৈতিক আলোচনার আহ্বান — এই দ্বৈত পরিস্থিতি দুই দেশের ভবিষ্যৎ সম্পর্ককে অনিশ্চিত করে তুলেছে।
সূত্র: বিবিসি
এমএস/