দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

কাবুলের একটি হাসপাতালে বিমান হামলায় ৪০০ জনেরও বেশি মানুষের মৃত্যু ও ২৫০ জন আহত হওয়ার ঘটনায় পাকিস্তান সরকারের ওপর তীব্র ক্ষোভ ঝেড়েছেন আফগান পেসার নাভিন-উল-হক। এর আগে আফগান সরকারের উপ-মুখপাত্র নিশ্চিত করেন, রাজধানীতে মাদকাসক্তদের একটি নিরাময় কেন্দ্রে বিমান হামলায় এই ব্যাপক প্রাণহানি ঘটেছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, সোমবার (১৬ মার্চ) স্থানীয় সময় রাত ৯টার দিকে শক্তিশালী বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যায়, যার ফলে রমজানের ইফতারের পর বাইরে থাকা সাধারণ মানুষ দিকবিদিক ছুটতে শুরু করেন।
আফগানিস্তানের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় ইতিমধ্যে নিশ্চিত করেছে, মাদক নিরাময় কেন্দ্রটি পুরোপুরি ধ্বংস হয়ে গেছে। পাকিস্তানের এই হামলার নিন্দা জানিয়ে নাভিন-উল-হক ইসরায়েল ও হামাসের মধ্যকার চলমান যুদ্ধের প্রসঙ্গ টেনে আনেন। বেসামরিক নাগরিকদের লক্ষ্যবস্তু করার দিকে ইঙ্গিত করে তিনি বলেন, পাকিস্তান ও ইসরায়েলি শাসনের মধ্যে কোনো পার্থক্য নেই।
ফেসবুকে এক পোস্টে নাভিন লেখেন, ‘ইসরায়েল এবং পাকিস্তানি শাসনের মধ্যে কোনো পার্থক্য খুঁজে পাওয়া কঠিন।’
বেসামরিক নাগরিকদের লক্ষ্যবস্তু করায় পাকিস্তানের সমালোচনা করা একমাত্র আফগান ক্রিকেটার নাভিন নন। এর আগে রশিদ খান এবং মোহাম্মদ নবীও দেশটিকে "যুদ্ধাপরাধ" সংঘটন এবং ঘৃণা ছড়ানোর জন্য তীব্র সমালোচনা করেছিলেন।
এছাড়া আফগান অলরাউন্ডার আজমতুল্লাহ ওমরজাইও এই জঘন্য কর্মকাণ্ডের নিন্দা জানিয়ে নিহতদের প্রতি সমবেদনা প্রকাশ করেছেন। এক্স-এ (সাবেক টুইটার) তিনি লিখেছেন, ‘আজ রাতে আমরা কাবুলে একটি শক্তিশালী বিস্ফোরণের শব্দ শুনেছি। এর কিছুক্ষণ পরই পাকিস্তানি বিমান হামলায় আক্রান্ত একটি হাসপাতাল থেকে আগুনের শিখা আকাশে উঠতে দেখা যায়। রমজান মাসে ইফতারের পর যখন মানুষ শান্তিতে ছিল, তখন নিরপরাধ প্রাণ ঝরে গেল এবং অনেকে আহত হলেন। শোকসন্তপ্ত প্রতিটি পরিবারের পাশে আমার হৃদয় রয়েছে। কাবুল আজ শোকাচ্ছন্ন। আমরা ন্যায়বিচার ও শান্তির জন্য প্রার্থনা করছি।’
রয়টার্সের তথ্য অনুযায়ী, কাবুলের হাসপাতালে হামলার অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেছে পাকিস্তান। দেশটির তথ্য মন্ত্রণালয় এই দাবিকে ‘মিথ্যা ও বিভ্রান্তিকর’ বলে অভিহিত করেছে এবং দাবি করেছে, তারা কেবল বিচ্ছিন্নতাবাদী বা সন্ত্রাসী আস্তানাগুলোকেই লক্ষ্যবস্তু করেছে।
গত সপ্তাহেও পাকিস্তানে বিমান হামলা চালিয়ে চারজনকে হত্যার অভিযোগ করেছিল আফগানিস্তান। পাল্টা জবাবে কাবুল জানিয়েছিল, তারা পাকিস্তানের একটি সামরিক ঘাঁটিতে আক্রমণ করেছে। তবে পাকিস্তান সেই দাবিও অস্বীকার করে জানায়, আফগান মদতপুষ্ট জঙ্গিদের পাঠানো তিনটি ড্রোন তারা ভূপাতিত করেছে।
গত ফেব্রুয়ারি মাসে পাকিস্তানি প্রতিরক্ষা মন্ত্রী খাজা আসিফ তালিবান সরকারের বিরুদ্ধে প্রকাশ্য যুদ্ধ ঘোষণার পর থেকে দুই দেশের মধ্যে সংঘাত তীব্র আকার ধারণ করেছে।