দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

ফিলিপাইনের দক্ষিণ উপকূলে শুক্রবার সকালে ৭.৪ মাত্রার শক্তিশালী ভূমিকম্প আঘাত হেনেছে। এতে অন্তত একজন নিহত, বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ হয়ে গেছে এবং কয়েকটি অঞ্চলে বিদ্যালয় বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। ভূমিকম্পের পর ফিলিপাইন ও ইন্দোনেশিয়া উভয় দেশেই সুনামি সতর্কতা জারি করা হয়।
ভূমিকম্পের পর কর্তৃপক্ষ কেন্দ্রীয় ও দক্ষিণ ফিলিপাইনের উপকূলীয় এলাকাগুলোর বাসিন্দাদের সরিয়ে নেওয়ার নির্দেশ দেয়। সতর্কবার্তায় বলা হয়, স্বাভাবিক জোয়ারের চেয়ে এক মিটার (৩.৩ ফুট) উঁচু ঢেউ আছড়ে পড়তে পারে।
রাজধানী দাভাও সিটির কাছাকাছি এলাকাগুলোতে হাসপাতালের বাইরে রোগীদের চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। স্থানীয় গণমাধ্যমের ভিডিওতে দেখা গেছে, ভূমিকম্পের সময় বৈদ্যুতিক তার দুলছে, রাস্তায় গাড়িগুলো থেমে যাচ্ছে।
দাভাও ওরিয়েন্টাল প্রদেশের গভর্নর এডউইন জুবাহিব স্থানীয় টেলিভিশনে বলেন, ‘কম্পন এতটাই তীব্র ছিল যে কিছু ভবন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, মানুষ আতঙ্কে দৌড়াতে থাকে।’
দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কর্মকর্তা রিচি ডিউইয়েন জানান, ভূমিকম্পে অনেক শিক্ষার্থী অজ্ঞান হয়ে পড়ে। তিনি বলেন, ‘আমি এখনও ভয় পাচ্ছি। এমন ভূমিকম্প জীবনে প্রথম দেখলাম।’
ফিলিপাইন ভূমিকম্প, আগ্নেয়গিরির অগ্ন্যুৎপাত ও ঘূর্ণিঝড়প্রবণ প্রশান্ত মহাসাগরীয় ‘রিং অব ফায়ার’ অঞ্চলে** অবস্থিত। দেশটি সম্প্রতি একের পর এক প্রাকৃতিক দুর্যোগে বিপর্যস্ত।
ফিলিপাইন আগ্নেয়গিরি সংস্থার প্রধান তেরেসিতো বাকলকল বলেন, ‘আমাদের এই বাস্তবতা মেনে নিতে হবে—সময় সময় ভূমিকম্প, আগ্নেয়গিরি বিস্ফোরণ ও সুনামি ঘটবেই। ভয় না পেয়ে প্রস্তুত থাকতে হবে।’
এর মাত্র এক সপ্তাহ আগে, ৪ অক্টোবর সেবু প্রদেশে ৬.৯ মাত্রার ভূমিকম্পে ৭৪ জন নিহত হয়েছিলেন। গত মাসে দেশটির উত্তরাঞ্চলে একটি প্রবল টাইফুনে ১১ জনের মৃত্যু হয়।
প্রাথমিকভাবে ফিলিপাইন কর্তৃপক্ষ ‘বিধ্বংসী ও প্রাণঘাতী সুনামির আশঙ্কা’ জানালেও এক ঘণ্টা পর প্রশান্ত মহাসাগরীয় সুনামি সতর্কতা কেন্দ্র জানায়, বড় ঢেউয়ের ঝুঁকি কেটে গেছে। তবে এখনো ২.৬ থেকে ৪.৯ মাত্রার আফটারশক অব্যাহত রয়েছে।
ইন্দোনেশিয়ার উত্তর সুলাওয়েসির তালাউদ দ্বীপপুঞ্জে ক্ষুদ্র সুনামি ঢেউ (সর্বোচ্চ ১৭ সেন্টিমিটার) পর্যবেক্ষণ করা হয়েছে। শিক্ষার্থীদের বাড়ি পাঠানো হলেও পরিস্থিতি সেখানে নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, ফিলিপাইনে এই ধারাবাহিক ভূমিকম্প দেশটির **দুর্যোগ ক্লান্ত জনগণকে আরও বিপর্যস্ত করে তুলছে।
সূত্র: বিবিসি
এমএস/