দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

ভারত আফগানিস্তানের তালেবান প্রশাসনের সঙ্গে সম্পর্কের নতুন অধ্যায় শুরু করেছে। শুক্রবার দেশটি ঘোষণা করেছে, ২০২১ সালে তালেবান ক্ষমতায় আসার পর বন্ধ করে দেওয়া কাবুলের ভারতীয় দূতাবাস পুনরায় খুলবে।
একইসঙ্গে, তালেবানও কূটনীতিক পাঠাবে নয়াদিল্লিতে। আফগান পররাষ্ট্রমন্ত্রী আমির খান মুত্তাকি এ তথ্য জানিয়েছেন।
মুত্তাকি বর্তমানে ছয় দিনের সফরে ভারতে রয়েছেন, জাতিসংঘের ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা থেকে সাময়িক ছাড় পেয়ে। এটি ২০২১ সালের পর কোনো তালেবান নেতার প্রথম ভারত সফর।
ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস. জয়শঙ্করের সঙ্গে বৈঠকে মুত্তাকি বলেন, ‘ভারত তার কারিগরি মিশনকে পূর্ণাঙ্গ কূটনৈতিক মিশনে উন্নীত করবে। দুই দেশ ধীরে ধীরে স্বাভাবিক সম্পর্কের দিকে ফিরে যাবে।’
২০২১ সালে মার্কিন নেতৃত্বাধীন ন্যাটো বাহিনী আফগানিস্তান ছাড়ার পর ভারত কাবুল দূতাবাস বন্ধ করে দেয়। তবে ২০২২ সালে মানবিক সাহায্য, বাণিজ্য ও চিকিৎসা সহায়তার জন্য একটি ছোট কারিগরি মিশন চালু করে নয়াদিল্লি।
বর্তমানে চীন, রাশিয়া, ইরান, পাকিস্তান ও তুরস্কসহ কয়েকটি দেশের দূতাবাস কাবুলে কার্যক্রম চালাচ্ছে। তবে এখন পর্যন্ত রাশিয়াই একমাত্র দেশ, যারা আনুষ্ঠানিকভাবে তালেবান প্রশাসনকে স্বীকৃতি দিয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, ভারতের এই পদক্ষেপ মূলত পাকিস্তান ও চীনের সঙ্গে বাড়তে থাকা উত্তেজনার প্রেক্ষিতে কৌশলগত সিদ্ধান্ত।
ভারতের পর্যবেক্ষণমূলক সংস্থা ‘অবজারভার রিসার্চ ফাউন্ডেশন’-এর বিদেশনীতি বিশেষজ্ঞ হর্স পান্ত বলেন, ‘তালেবানের সঙ্গে ভারতের সম্পৃক্ততা মানেই সমর্থন নয়। মানবাধিকার, নারী অধিকার ও সংখ্যালঘুদের বিষয়ে ভারত এখনও উদ্বিগ্ন। তবে বাস্তবতা বিবেচনায় সম্পর্ক বজায় রাখাই এখন ভারতের কূটনৈতিক নীতি।’
বৈঠকে তালেবান পররাষ্ট্রমন্ত্রী মুত্তাকি বলেন, ‘আমরা কারও বিরুদ্ধে সন্ত্রাসবাদে আফগানিস্তানের মাটি ব্যবহার করতে দেব না। ভারত ও আফগানিস্তান সরকারি পর্যায়ে সম্পর্ক বাড়াক, এই প্রত্যাশা করছি।’
অন্যদিকে, জয়শঙ্কর বলেন, ‘ভারত আফগানিস্তানের সার্বভৌমত্ব, ভৌগোলিক অখণ্ডতা ও স্বাধীনতার প্রতি সম্পূর্ণ প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। ঘনিষ্ঠ সহযোগিতা আমাদের জাতীয় উন্নয়ন ও আঞ্চলিক স্থিতিশীলতায় সহায়তা করবে।’
তিনি নিশ্চিত করেন, কাবুলে ভারতের ‘কারিগরি মিশন’ শিগগিরই পূর্ণাঙ্গ দূতাবাসে উন্নীত হবে, যদিও এ বিষয়ে কোনো সময়সীমা জানাননি।
বিশেষজ্ঞদের মতে, তালেবানের সঙ্গে ভারতের এই নতুন সম্পৃক্ততা কেবল কূটনৈতিক সম্পর্ক নয়, বরং আঞ্চলিক প্রভাব ও নিরাপত্তা ভারসাম্য রক্ষার অংশ। এটি দক্ষিণ এশিয়ায় একটি নতুন ভূরাজনৈতিক বাস্তবতার সূচনা বলেও তারা মনে করছেন।
সূত্র: রয়টার্স
এমএস/