দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

ইরান সরকার ছয় যোদ্ধাকে ফাঁসি দিয়েছে, যাদের বিরুদ্ধে ইসরায়েলের সঙ্গে যোগসাজশ এবং সশস্ত্র হামলার অভিযোগ ছিল। রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম জানিয়েছে, দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলীয় খুজেস্তান প্রদেশে একাধিক হামলা ও বোমা বিস্ফোরণের ঘটনায় তাদের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয় শনিবার ভোরে।
ইরানের বিচারবিভাগীয় ওয়েবসাইট মিজান জানায়, অভিযুক্তরা ২০১৮ ও ২০১৯ সালে চার নিরাপত্তা সদস্য—দুই পুলিশ ও দুই বাসিজ বাহিনীর সদস্য—কে হত্যা করেছিল। এছাড়া তারা খোররামশাহরের একটি গ্যাস স্টেশন উড়িয়ে দেওয়ার মতো নাশকতামূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছে।
একই দিনে কুর্দি যোদ্ধা সামান মোহাম্মাদিকেও ফাঁসি দেওয়া হয়। তার বিরুদ্ধে অভিযোগ ছিল ২০০৯ সালে সানানদাজ শহরের ইমাম হত্যায় অংশগ্রহণ, সশস্ত্র ডাকাতি, অপহরণ ও এক সৈন্যকে হত্যা।
এর মাত্র এক সপ্তাহ আগে ইসরায়েলের হয়ে গুপ্তচরবৃত্তির অভিযোগে বাহমান চুবিয়াসল নামের একজনকে ফাঁসি দেয় ইরান। তিনি মসাদের কর্মকর্তাদের সঙ্গে দেখা করেছেন এবং সংবেদনশীল টেলিযোগাযোগ প্রকল্পে কাজ করেছেন বলে অভিযোগ করা হয়।
তেহরান দীর্ঘদিন ধরে ইসরায়েলকে প্রধান শত্রু হিসেবে দেখে এবং সাম্প্রতিক বছরগুলোতে মসাদের সঙ্গে সম্পর্ক থাকার অভিযোগে বহু মানুষকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছে।
গত জুনে ১২ দিনের যুদ্ধে ইসরায়েল ইরানের শীর্ষ সেনা কর্মকর্তা, পারমাণবিক বিজ্ঞানী ও বেসামরিক এলাকাগুলোতে বিমান হামলা চালায়। পাল্টা জবাবে ইরানও ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা করে। অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালের তথ্যমতে, ওই সংঘাতে অন্তত ১,১০০ ইরানি নিহত হয়।
মানবাধিকার সংগঠনগুলোর হিসাব অনুযায়ী, শুধু ২০২৫ সালেই ইরানে এক হাজারের বেশি মানুষকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছে। চীনের পর ইরানই বিশ্বের দ্বিতীয় সর্বাধিক মৃত্যুদণ্ড কার্যকরকারী দেশ।
সূত্র: আল জাজিরা
এমএস/