দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

গাজায় খাদ্য ও ওষুধ নিয়ে যাওয়া নৌযান বহরে ইসরায়েলি সেনারা বুধবার রাতে অভিযান চালালে বিশ্বজুড়ে কোটি মানুষ সরাসরি সেই দৃশ্য দেখেছে। স্কটল্যান্ডের গ্লাসগোতে থাকা দুই ওয়েব ডেভেলপার রিয়েল টাইমে প্রতিটি নৌকার অবস্থা আপডেট করেন এবং দখলের ভিডিও প্রকাশ করেন। মাত্র দুই দিনে ওয়েবসাইটটিতে ভিজিট হয়েছে প্রায় ৬ মিলিয়ন, যা নজিরবিহীন বলে জানিয়েছেন আয়োজকদের প্রযুক্তি সহায়তাকারীরা।
‘গ্লোবাল সুমুদ ফ্লোটিলা’ নামের এই অভিযানে ৪০টির বেশি বেসামরিক নৌকা অংশ নেয়, যাতে ছিলেন প্রায় ৫০০ জন সংসদ সদস্য, আইনজীবী ও কর্মী। সুইডিশ জলবায়ু আন্দোলনকর্মী গ্রেটা থানবার্গও ছিলেন এ বহরে। নৌযানগুলো গাজায় পৌঁছাতে না পারলেও এটি হয়ে ওঠে ইসরায়েলের অবরোধের বিরুদ্ধে সবচেয়ে আলোচিত প্রতিরোধ। এ সাড়া জাগানো ঘটনার পর আরও ১১টি নৌকা সমুদ্রপথে রওনা দিয়েছে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম, আধুনিক জাহাজ-ট্র্যাকিং প্রযুক্তি আর শক্তিশালী সংগঠনগত প্রচারণার কারণে ফ্লোটিলাটি দ্রুত বৈশ্বিক মনোযোগ কাড়ে। ইসরায়েল দাবি করেছে, তাদের নৌ অবরোধ বৈধ এবং ফ্লোটিলা কেবল উসকানি। তবে বিশ্বজুড়ে অনেক দেশ ও জনগণ এ অভিযানের পক্ষে দাঁড়িয়েছে।
নৌযান আটকানোর পর ইউরোপ, লাতিন আমেরিকা ও এশিয়ার বিভিন্ন শহরে বিক্ষোভ হয়। ইতালিতে শ্রমিক ইউনিয়নগুলো বন্দর অবরোধ করে এবং ৩ অক্টোবর সাধারণ ধর্মঘট ডাকে।
শুরু থেকেই ফ্লোটিলার প্রতি ছিল বিপুল সমর্থন। অংশ নিতে ২০ হাজার আবেদন আসে। ইতালির একটি সংগঠন পাঁচ দিনে ৪০ টনের বদলে ৫০০ টন সাহায্য সংগ্রহ করে। গ্রিসসহ ইউরোপের বিভিন্ন দেশ থেকে ২৫টি নৌকা সংগ্রহ হয়।
বুধবার রাতে লাইভ ক্যামেরায় দেখা যায়, ইসরায়েলি সেনারা অস্ত্র ও নাইট ভিশন গগলস পরে নৌকায় ওঠে, আর কর্মীরা লাইফ জ্যাকেট পরে হাত উঁচু করে বসে আছেন। গ্লাসগো থেকে প্রযুক্তি দল প্রতিটি নৌকার অবস্থা লাইভ আপডেট করে বিশ্বজুড়ে ছড়িয়ে দেয়।
ওয়েব ডেভেলপার লিজি ম্যালকম বলেন, ‘মানুষ কতটা আগ্রহ নিয়ে এগুলো দেখছে, তা আমরা বুঝতে পেরেছি। এতে একটা শক্তি আছে—মনে হয় যেন সবাই একসঙ্গে ওদের গন্তব্যে পৌঁছাতে উৎসাহ দিচ্ছে।’
সূত্র: রয়টার্স
এমএস/