দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

ইন্দোনেশিয়ার পূর্ব জাভায় একটি স্কুল ভবন ধসে পড়ায় কমপক্ষে তিনজন নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন ৯৯ জন, যাদের মধ্যে অনেকের অবস্থা গুরুতর। ধ্বংসস্তূপে এখনও অন্তত ৩৮ জন আটকা আছেন, যাদের বেশিরভাগই শিক্ষার্থী।
ঘটনাটি ঘটে সোমবার (২৯ সেপ্টেম্বর) সিদোয়ারজো শহরের আল খোজিনি ইসলামিক বোর্ডিং স্কুলে। তখন শিক্ষার্থীরা নামাজে অংশ নিচ্ছিল।
স্থানীয় দুর্যোগ মোকাবিলা সংস্থা জানিয়েছে, দুইতলা ভবনের ভিত্তি ছিল দুর্বল। এর ওপর আরও দুটি তলা নির্মাণ করায় ভবনটি ভার সামলাতে পারেনি।
ভবনের অন্য অংশে থাকা ছাত্রীদের বেশিরভাগই অক্ষত অবস্থায় বের হয়ে আসতে সক্ষম হন। স্কুলটিতে ১২ থেকে ১৭ বছর বয়সী শিক্ষার্থীরা পড়াশোনা করত।
স্থানীয় টেলিভিশনে প্রচারিত ফুটেজে দেখা গেছে, পুরো ভবন ভেঙে কংক্রিটের স্তূপে পরিণত হয়েছে। ধ্বংসস্তূপ থেকে কান্না ও সাহায্যের জন্য আর্তচিৎকার শোনা যাচ্ছে। নিখোঁজদের খোঁজে রাতভর স্কুল প্রাঙ্গণে অপেক্ষা করেছেন তাদের স্বজনরা।
দুর্যোগ উদ্ধার সংস্থা বাসারনাস জানিয়েছে, ধসে যাওয়া ভবনটি ‘প্যানকেক স্ট্রাকচার’-এ রূপ নিয়েছে—অর্থাৎ একের পর এক কংক্রিটের স্তর তৈরি হয়েছে, যেগুলোর ফাঁকে জীবিত কেউ আটকা থাকতে পারেন। তবে এসব স্তর অস্থিতিশীল হওয়ায় ভারী যন্ত্রপাতি ব্যবহার করাও ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে।
১৩ বছরের সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী মোহাম্মদ রিজালুল কৈব বলেন, ‘প্রথমে ছোট ছোট পাথর পড়ার শব্দ শুনলাম, তারপর শব্দটা বাড়তেই থাকল। সঙ্গে সঙ্গে দৌড়ে বাইরে যাই।’
তিনি মাথায় ছাদের অংশ পড়ে আহত হলেও কোনোমতে ধ্বংসস্তূপ থেকে বের হয়ে আসতে পেরেছেন।
অন্য শিক্ষার্থী সোফা বলেন, ‘অনেকের হাড় ভেঙে গিয়েছিল। চারপাশে রক্তাক্ত অবস্থায় সহপাঠীদের দেখতে পাই।’
এক শিক্ষার্থীর মা রোসিদা জানান, তার ছেলে কাফা আহমাদ মৌলানা এখনো নিখোঁজ। তিনি বলেন, ‘ঘটনার আগের দিন শেষবার ছেলের সঙ্গে কথা হয়েছিল। তখন কিছু অস্বাভাবিক মনে হয়নি।’
স্কুলটির পরিচর্যাকারী আব্দুস সালাম মুজিব বলেছেন, ‘এটা আল্লাহর ইচ্ছা। আশা করি আল্লাহ এর চেয়ে ভালো কিছু দান করবেন।’
কিন্তু স্থানীয় প্রশাসনের দাবি, স্কুল কর্তৃপক্ষ ভবন সম্প্রসারণের জন্য কোনো সরকারি অনুমতি নেয়নি।
আল খোজিনি একটি ঐতিহ্যবাহী ইসলামি বোর্ডিং স্কুল বা পেসান্ত্রেন। সাধারণত এসব প্রতিষ্ঠানে কোরআন তিলাওয়াত, আরবি ভাষা ও শরিয়া আইন শেখানো হয়। তবে সরকারি স্কুলের মতো নজরদারি এখানে খুব একটা নেই।
ইন্দোনেশিয়ার নির্মাণ খাতে নিরাপত্তা পরিস্থিতি দীর্ঘদিন ধরেই খারাপ। আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থা (আইএলও) এ খাতকে বিশ্বের সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণগুলোর একটি হিসেবে চিহ্নিত করেছে। চলতি মাসেই পশ্চিম জাভায় আরেকটি ভবন ধসে চারজন নিহত হন। সূত্র: বিবিসি
এমএস/