দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

আফগানিস্তানে টেলিযোগাযোগ পুরোপুরি বন্ধ করে দিয়েছে তালেবান সরকার। এর আগে কয়েক সপ্তাহ ধরে ধাপে ধাপে ফাইবার-অপটিক ইন্টারনেট সংযোগ কেটে দেওয়া হচ্ছিল। এখন দেশজুড়ে সম্পূর্ণ ইন্টারনেট ব্ল্যাকআউট চলছে বলে জানিয়েছে নজরদারি সংস্থা নেটব্লকস।
এর ফলে আন্তর্জাতিক সংবাদ সংস্থাগুলো রাজধানী কাবুলে তাদের অফিসের সঙ্গে যোগাযোগ হারিয়েছে। মোবাইল ইন্টারনেট ও স্যাটেলাইট টিভি সেবাও মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়েছে।
তালেবান এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো কারণ জানায়নি। শুধু জানিয়েছে, ‘পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত’ এ টেলিযোগাযোগ বন্ধ থাকবে।
স্থানীয় সংবাদমাধ্যমগুলো জানাচ্ছে, কাবুল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অন্তত আটটি ফ্লাইট বাতিল হয়েছে। ব্যাংকিং ও ই-কমার্স কার্যক্রমও বন্ধ হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা করছে কূটনৈতিক মহল।
অনেক বাসিন্দা জানিয়েছেন, সোমবার বিকেল পাঁচটার দিকে তাদের ফাইবার ইন্টারনেট বন্ধ হয়ে যায়। ফলে ব্যবসা-বাণিজ্য ও দৈনন্দিন কাজকর্মে বড় ধরনের প্রভাব পড়বে।
কাবুল থেকে জানা গেছে, একটি বিশেষ কমিটি ফাইবার-অপটিক ইন্টারনেট ‘ফিল্টারিং’ করার বিষয়টি খতিয়ে দেখছে। এর উদ্দেশ্য—‘অসামাজিক কার্যকলাপ ঠেকানো’।
ইন্টারনেট বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ায় সাধারণ মানুষ চরম ভোগান্তিতে পড়েছে। অনেক শিক্ষার্থী অনলাইন ক্লাসে অংশ নিতে পারছে না। কেউ কেউ বলছে, পড়াশোনা ও অনলাইন চাকরির স্বপ্ন ভেঙে গেছে।
প্রবাসে থাকা আফগান নারী সংসদ সদস্য মারিয়াম সোলায়মানখিল এক পোস্টে লিখেছেন, ‘আফগানদের কণ্ঠস্বর ছাড়া দেশের ভেতর থেকে যে নীরবতা তৈরি হয়েছে, তা বধির করার মতো।’
আন্তর্জাতিক মহল বলছে, এই ব্ল্যাকআউট কার্যত আফগানিস্তানকে উত্তর কোরিয়ার মতো বিচ্ছিন্ন করে ফেলেছে।
তালেবান ২০২১ সালে ক্ষমতায় ফেরার পর থেকেই নারী শিক্ষা, মানবাধিকার, বই নিষিদ্ধকরণসহ একের পর এক কড়াকড়ি আরোপ করছে। এবার ইন্টারনেট বন্ধ করে তাদের নিয়ন্ত্রণ আরও কঠোর হলো। সূত্র: বিবিসি
এমএস/