দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

জাতিসংঘের নিষেধাজ্ঞা ফের জারি হতে যাচ্ছে—এমন প্রেক্ষাপটে ইরানের কট্টরপন্থি এমপিরা আবারও দেশকে পারমাণবিক বোমা তৈরির দাবি জানালেন। ইসরায়েলের সঙ্গে যুদ্ধ আবারও শুরু হওয়ার আশঙ্কার মধ্যেই এ আহ্বান এসেছে।
মাশহাদ শহরের এক কট্টরপন্থি এমপির নেতৃত্বে পার্লামেন্টের ৭০ জন সদস্য একটি চিঠিতে সই করেছেন। সেখানে বলা হয়েছে, দেশের প্রতিরক্ষা নীতি পরিবর্তন করা দরকার। এই চিঠি সরাসরি সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ খামেনি বরাবর পাঠানো হয়নি, কারণ তার সিদ্ধান্ত অন্য কারও পক্ষে প্রশ্ন করা যায় না। বরং এটি পাঠানো হয়েছে সর্বোচ্চ জাতীয় নিরাপত্তা কাউন্সিলের কাছে, যারা পারমাণবিক বিষয়গুলো দেখভাল করে।
ইরান বহুদিন ধরে বলে আসছে, তাদের পারমাণবিক কর্মসূচি শুধু শান্তিপূর্ণ উদ্দেশ্যে, বোমা বানানোর জন্য নয়। তবে ইসরায়েল মধ্যপ্রাচ্যের একমাত্র পারমাণবিক শক্তিধর দেশ। তাদের হুমকির মুখে অনেক এমপিই এখন ভিন্ন সুরে কথা বলছেন।
তারা যুক্তি দিচ্ছেন, খামেনি প্রায় ২০ বছর আগে একটি ধর্মীয় ফতোয়ায় পারমাণবিক অস্ত্র ব্যবহারে নিষেধ করেছিলেন। তবে এতে অস্ত্র তৈরি বা মজুত রাখাকে স্পষ্টভাবে নিষিদ্ধ করা হয়নি। এমপিদের দাবি, ইসরা্যেল এখন ‘উন্মত্ততার চূড়ায় পৌঁছেছে’—আন্তর্জাতিক আইন ভেঙে নিরীহ মানুষ হত্যা করছে।
কট্টর ইরানি মহলে এই বক্তব্য আরও জোরালো হয়েছে গত জুনে ইসরায়েলের আকস্মিক হামলার পর। সে সময় শুরু হয় ১২ দিনের যুদ্ধ, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রও ইসরায়েলের পক্ষ নিয়ে ইরানের প্রধান পারমাণবিক স্থাপনাগুলোতে হামলা চালায়।
গত রোববার (২১ সেপ্টেম্বর) ইরানের সর্বোচ্চ জাতীয় নিরাপত্তা কাউন্সিল ঘোষণা দিয়েছে—ফ্রান্স, জার্মানি ও যুক্তরাজ্যের পদক্ষেপের পর আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থা (আইএইএ)-এর সঙ্গে সহযোগিতা স্থগিত করা হয়েছে। ইউরোপের এই তিন দেশ ২০১৫ সালের ইরান পরমাণু চুক্তির অংশীদার হলেও এখন তারা জাতিসংঘে ‘স্ন্যাপব্যাক’ প্রক্রিয়া চালু করেছে। ফলে ২০১৫ সালে যে সব জাতিসংঘ নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার হয়েছিল, তা আবার রবিবারের মধ্যেই ফিরিয়ে আনা হবে—যদি শেষ মুহূর্তে নতুন কোনো সমঝোতা না হয়।
এদিকে, ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি সোমবার সকালে নিউইয়র্কে পৌঁছেছেন ইউরোপীয় ও অন্যান্য শক্তিধর দেশের সঙ্গে আলোচনা করতে। আর প্রেসিডেন্ট মাসউদ পেজেশকিয়ান মঙ্গলবার জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে যোগ দেবেন। এবারের অধিবেশনে মূলত গাজার যুদ্ধ এবং ফিলিস্তিন রাষ্ট্রকে স্বীকৃতি দেওয়ার বিষয়গুলো আলোচনায় আসবে।
আরাঘচি জানিয়েছেন, তিনি ইউরোপের কাছে একটি কার্যকরী প্রস্তাব দিয়েছেন। গণমাধ্যম সূত্রে জানা গেছে, এতে বলা হয়েছে—ইরান তাদের মজুত উচ্চমাত্রার ইউরেনিয়াম পুনরুদ্ধার ও হ্রাস করবে, এর বিনিময়ে নিষেধাজ্ঞা ফিরিয়ে আনার সিদ্ধান্ত পিছিয়ে দেওয়া হবে।
তবে তিনি অভিযোগ করেন, পশ্চিমা দেশগুলো নানা অজুহাত দিচ্ছে, এমনকি বলছে—পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় নাকি ইরানের পুরো রাজনৈতিক কাঠামোকে প্রতিনিধিত্ব করে না। কিন্তু আরাঘচি জোর দিয়ে বলেছেন—তার পেছনে সরকারের পূর্ণ সমর্থন আছে, যার মধ্যে সর্বোচ্চ জাতীয় নিরাপত্তা কাউন্সিলও রয়েছে।
সূত্র: আল জাজিরা
এমএস/