দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

তালেবান সরকার আফগানিস্তানের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে নারী লেখকদের লেখা সব বই নিষিদ্ধ করেছে। একই সঙ্গে মানবাধিকার ও যৌন হয়রানি বিষয়েও পড়ানো বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে।
মোট ৬৮০টি বইকে ‘শরিয়াহবিরোধী ও তালেবান নীতির পরিপন্থী” বলে চিহ্নিত করা হয়েছে। এর মধ্যে প্রায় ১৪০টি বই নারী লেখকদের লেখা। এমনকি ‘সেফটি ইন দ্য কেমিক্যাল ল্যাবরেটরি’ নামের একটি পাঠ্যবইও নিষিদ্ধ তালিকায় রয়েছে। এছাড়া বিশ্ববিদ্যালয়ে ১৮টি বিষয় পড়ানো বন্ধ হয়েছে, যার মধ্যে ৬টি সরাসরি নারীদের বিষয়ে—যেমন জেন্ডার অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট, উইমেন’স সোসিওলজি ও নারীর যোগাযোগে ভূমিকা।
তালেবান ২০২১ সালে ক্ষমতায় ফেরার পর থেকেই শিক্ষা ও সামাজিক জীবনে একের পর এক বিধিনিষেধ আরোপ করেছে। যেমন:
* ষষ্ঠ শ্রেণির পর থেকে মেয়েদের স্কুলে যাওয়া বন্ধ। * ২০২৪ সালের শেষ দিকে ধাত্রীবিদ্যা কোর্সও গোপনে বন্ধ করে দেওয়া হয়। * সম্প্রতি অন্তত ১০টি প্রদেশে ফাইবার-অপটিক ইন্টারনেটও বন্ধ করা হয়েছে।
বই যাচাই কমিটির এক সদস্য বিবিসি আফগানকে বলেছেন, ‘নারী লেখকদের কোনো বই পড়ানো যাবে না।’ সাবেক উপ-আইনমন্ত্রী ও নিষিদ্ধ হওয়া লেখকদের একজন জাকিয়া আদেলি বলেন, ‘তালেবানের নারী বিদ্বেষী নীতি দেখে এটা অবাক হওয়ার কিছু নয়। যখন মেয়েদের পড়তেই দেওয়া হচ্ছে না, তখন তাদের লেখা বইও অবশ্যই বাদ পড়বে।’
নিষিদ্ধ তালিকার ৩১০টি বই ইরানি লেখক বা প্রকাশকের। কর্মকর্তারা বলেছেন, এর মাধ্যমে বিশ্ববিদ্যালয়ে ‘ইরানি প্রভাব ঠেকানো’ হচ্ছে। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে পানি নিয়ে বিরোধসহ নানা কারণে আফগানিস্তান-ইরান সম্পর্ক উত্তপ্ত।
এক বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক আশঙ্কা প্রকাশ করে বলেন, ‘ইরানি অনুবাদ ও বইয়ের মাধ্যমেই আফগান বিশ্ববিদ্যালয়গুলো বিশ্ব একাডেমিক জগতের সঙ্গে সংযুক্ত ছিল। এগুলো সরিয়ে দিলে উচ্চশিক্ষায় বিশাল শূন্যতা তৈরি হবে।’ তিনি জানান, এখন শিক্ষকেরা নিজেরাই পাঠ্যবইয়ের অধ্যায় বানাতে বাধ্য হচ্ছেন, তবে সেগুলো আন্তর্জাতিক মান পূরণ করবে কি না, তা নিয়ে সন্দেহ রয়েছে।
সূত্র: বিবিসি
এমএস/