দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

ইউক্রেনের ওপর যুদ্ধ শুরুর পর থেকে সবচেয়ে বড় বিমান হামলার ঘটনায় রাশিয়ার বিরুদ্ধে আরও কঠোর নিষেধাজ্ঞা দেওয়ার হুমকি দিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।
রোববারের হামলায় অন্তত চারজন নিহত হন, তাদের মধ্যে একজন মা ও তার শিশু ছিল। এ ঘটনায় প্রথমবারের মতো ইউক্রেনের রাজধানী কিয়েভের প্রধান সরকারি ভবন ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ইউক্রেন জানিয়েছে, হামলায় অন্তত ৮১০টি ড্রোন ও ১৩টি ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করা হয়েছে।
এই হামলার পর পশ্চিমা দেশগুলোর ওপর রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের বিরুদ্ধে আরও কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার চাপ বেড়েছে। তবে ক্রেমলিনের মুখপাত্র দিমিত্রি পেসকভ বলেছেন, কোনো নিষেধাজ্ঞাই রাশিয়াকে তাদের অবস্থান পরিবর্তনে বাধ্য করতে পারবে না।
সংবাদমাধ্যমকে ট্রাম্প বলেন, তিনি পরিস্থিতি নিয়ে ‘খুশি নন’। এর আগে তিনি রাশিয়ার বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার হুমকি দিলেও বাস্তবে তেমন কিছু করেননি। রোববার তাকে প্রশ্ন করা হলে, তিনি দ্বিতীয় ধাপে রাশিয়ার বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেবেন কি না, জবাবে ট্রাম্প বলেন, ‘হ্যাঁ, আমি প্রস্তুত আছি।’ তবে বিস্তারিত কিছু জানাননি।
যুক্তরাষ্ট্রের অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট এনবিসিকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে বলেন, ইউরোপীয় দেশগুলো যদি রাশিয়ার তেল কিনে এমন দেশগুলোর ওপর বাড়তি শুল্ক আরোপে রাজি হয়, তবে রাশিয়ার অর্থনীতি ধসে পড়বে এবং পুতিনকে আলোচনার টেবিলে আসতে বাধ্য করবে।
তিনি বলেন, ‘এখন লড়াই হচ্ছে— কতদিন ইউক্রেনীয় সেনারা টিকতে পারে বনাম কতদিন রাশিয়ার অর্থনীতি টিকে থাকতে পারে।’
গত মাসে যুক্তরাষ্ট্র ভারত থেকে আমদানি হওয়া পণ্যে ৫০ শতাংশ শুল্ক বসায়, কারণ দিল্লি রাশিয়ার তেল কেনা চালিয়ে যাচ্ছে। ট্রাম্প ইঙ্গিত দিয়েছেন, এ ধরনের ব্যবস্থা অন্য দেশগুলোর ক্ষেত্রেও নেওয়া হতে পারে।
ট্রাম্প জানিয়েছেন, ইউরোপীয় কয়েকজন নেতা এ সপ্তাহের শুরুতে ওয়াশিংটন সফর করবেন যুদ্ধ বন্ধে নতুন কৌশল নিয়ে আলোচনা করতে। তিনি আরও জানিয়েছেন, শিগগিরই পুতিনের সঙ্গেও কথা বলবেন।
এদিকে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি ইউরোপীয় দেশগুলোকে আহ্বান জানিয়েছেন রাশিয়ার কাছ থেকে সব ধরনের জ্বালানি কেনা বন্ধ করতে। তিনি ট্রাম্পের শুল্ক আরোপের কৌশলকে সঠিক পদক্ষেপ বলে অভিহিত করেন।
গবেষণা প্রতিষ্ঠান সেন্টার ফর রিসার্চ অন এনার্জি অ্যান্ড ক্লিন এয়ার জানিয়েছে, পূর্ণমাত্রায় যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে (মার্চ ২০২২) রাশিয়া তেল ও গ্যাস বিক্রি করে প্রায় ৯৮৫ বিলিয়ন ডলার আয় করেছে। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি কিনেছে চীন ও ভারত। ইউরোপীয় ইউনিয়ন উল্লেখযোগ্যভাবে কমালেও এখনও পুরোপুরি বন্ধ করতে পারেনি।
অন্যদিকে রাশিয়া বিকল্প বাজার খুঁজছে। গত সপ্তাহে বেইজিংয়ে এক বৈঠকে মস্কো জানিয়েছে, তারা চীনে গ্যাস সরবরাহ আরও বাড়াবে। এছাড়া তেল উৎপাদনকারী দেশগুলোর জোট ওপেক+ উৎপাদন বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে, যা বৈশ্বিক তেলের দাম কমিয়ে পশ্চিমা দেশগুলোর চাপ প্রয়োগের কৌশলকে জটিল করে তুলতে পারে।
এমএস/