দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

বিশ্বজুড়ে আলোচিত এক দৃশ্য ধরা পড়ল বেইজিংয়ের তিয়েনআনমেন স্কয়ারে। উত্তর কোরিয়ার নেতা কিম জং উন, চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং এবং রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে একসঙ্গে হাঁটলেন।
বিশেষ করে কিমের জন্য এটি এক ঐতিহাসিক মুহূর্ত। দীর্ঘদিন পর তিনি আবারও বৈশ্বিক অঙ্গনে সম্মানের আসনে ফিরে এলেন। তিন নেতা দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের প্রবীণ যোদ্ধাদের সঙ্গে করমর্দন করেন এবং পরে অনুষ্ঠানের কেন্দ্রস্থলে অবস্থান নেন। খবর সিএনএনের।
গত কয়েক বছর ধরে উত্তর কোরিয়া চীনের চেয়ে রাশিয়ার দিকে বেশি ঝুঁকেছে। ইউক্রেন যুদ্ধের জন্য কিম পুতিনকে সেনা ও গোলাবারুদ সরবরাহ করেছেন। ফলে বেইজিং–পিয়ংইয়ং সম্পর্ক কিছুটা শীতল হয়ে ওঠে।
২০২৪ সালকে চীন–উত্তর কোরিয়ার ‘বন্ধুত্বের বছর’ ঘোষণা করা হলেও দুই দেশের শীর্ষ পর্যায়ের কোনো সফর হয়নি। বরং সেই বছরেই পুতিন পিয়ংইয়ং সফর করে কিমের সঙ্গে পারস্পরিক প্রতিরক্ষা চুক্তি স্বাক্ষর করেন।
তাই যখন জানা গেল শি ব্যক্তিগতভাবে কিমকে অনুষ্ঠানে আমন্ত্রণ জানিয়েছেন, তখন অনেকেই ভাবছিলেন— কিমকে কেমন অভ্যর্থনা দেওয়া হবে? কিন্তু বাস্তবে দেখা গেল, শি তাকে সমমর্যাদার অংশীদার হিসেবে কেন্দ্রস্থলে জায়গা দিয়েছেন। এটি স্পষ্ট বার্তা যে, শি কিমকে পাশ কাটাচ্ছেন না, বরং রাশিয়া ও উত্তর কোরিয়াকে নিয়ে পশ্চিমা প্রভাবের মোকাবিলায় নতুন জোট গড়ছেন।
সামরিক কুচকাওয়াজ উদ্বোধন করে শি জিনপিং সতর্ক করে বলেন, ‘আজ বিশ্বের সামনে বড় প্রশ্ন— আমরা শান্তি বেছে নেব নাকি যুদ্ধ।’
তিনি দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে চীনের অবদান স্মরণ করে বলেন, ‘চীনা জনগণ বিপুল আত্মত্যাগের মধ্য দিয়ে মানবসভ্যতা রক্ষা ও বিশ্বশান্তি প্রতিষ্ঠায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে।’
শি আরও বলেন, ‘ইতিহাস আমাদের মনে করিয়ে দেয়— মানবজাতির ভাগ্য একে অপরের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে জড়িত।’
এ সময় তিনি কালো ওপেন-টপ লিমুজিনে দাঁড়িয়ে সেনাদের উদ্দেশে বলেন, ‘সহযোদ্ধারা, তোমরা কষ্ট করেছ।” জবাবে সৈন্যরা একসঙ্গে স্যালুট দিয়ে গর্জে ওঠে— ‘আমরা জনগণের সেবা করি!’
এমএস/