দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

ইসরায়েল বলছে, গাজা শহরে বিমান হামলায় হামাসের সামরিক শাখার মুখপাত্র আবু উবাইদা নিহত হয়েছেন।
বিবিসি জানিয়েছে, রোববার (৩১ আগস্ট) ইসরায়েলের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরায়েল ক্যাটজ এ তথ্য নিশ্চিত করে সেনাবাহিনী (আইডিএফ) ও গোয়েন্দা সংস্থা শিন বেটকে অভিনন্দন জানান। তবে কবে এবং কোথায় এই অভিযান হয়েছে, সে বিষয়ে তিনি বিস্তারিত কিছু জানাননি।
ইসরায়েলি সেনাবাহিনী দাবি করেছে, শনিবার গাজার আল-রিমাল এলাকায় ‘একজন গুরুত্বপূর্ণ সন্ত্রাসীকে’ লক্ষ্য করে বিমান হামলা চালানো হয়। পরে দেশটির সংবাদমাধ্যমে জানানো হয়, সেই হামলার লক্ষ্য ছিলেন আবু উবাইদা।
তবে হামাস এখনো তার মৃত্যুর বিষয়টি স্বীকার করেনি। বরং তাদের দাবি, ওই হামলায় বহু সাধারণ মানুষ নিহত ও আহত হয়েছে। স্থানীয় সাংবাদিকরা জানিয়েছেন, অন্তত সাতজন নিহত ও ২০ জন আহত হয়েছেন, যাদের মধ্যে শিশু রয়েছে।
ইসরায়েলের সেনাবাহিনী ও শিন বেট যৌথ বিবৃতিতে জানিয়েছে, আগে থেকেই গোয়েন্দা তৎপরতায় আবু উবাইদার অবস্থান শনাক্ত করা হয়। এরপর ছয়তলা একটি ভবনের দ্বিতীয় ও তৃতীয় তলায় একইসঙ্গে পাঁচটি ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করা হয়। ভবনের ওই ফ্ল্যাটটি আগে একটি দন্ত চিকিৎসালয় হিসেবে ব্যবহৃত হতো। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, বিস্ফোরণের পর বিপুল পরিমাণ অর্থ ছড়িয়ে পড়ে, যার কিছু অংশ পরে হামাস সদস্যরা সংগ্রহ করে।
প্রায় ৪০ বছর বয়সী আবু উবাইদা হামাসের সামরিক শাখা আল-কাসাম ব্রিগেডের অন্যতম মুখপাত্র ছিলেন। সবসময় মুখ ঢাকা অবস্থায় টেলিভিশন বার্তায় তিনি ইসরায়েলবিরোধী বক্তব্য দিতেন এবং হামাস সমর্থকদের কাছে এক ধরনের প্রতীক হয়ে উঠেছিলেন। শুক্রবার তিনি শেষবারের মতো এক বক্তব্যে গাজা শহরে পরিকল্পিত ইসরায়েলি অভিযানের বিরুদ্ধে হুঁশিয়ারি দেন।
ইসরায়েলের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ক্যাটজ সতর্ক করে বলেছেন, গাজায় অভিযান আরও জোরদার হবে এবং আবু উবাইদার মতো আরও অনেকে লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হবেন।
উল্লেখ্য, গত বছরের ৭ অক্টোবর হামাসের হামলায় ইসরায়েলে প্রায় ১,২০০ জন নিহত এবং ২৫১ জন জিম্মা হওয়ার পর থেকেই গাজায় সামরিক অভিযান চালাচ্ছে ইসরায়েল। হামাস পরিচালিত গাজা স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের হিসাবে এ পর্যন্ত ৬৩ হাজারের বেশি ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন।
গাজা শহর দখলের জন্য সম্প্রতি ইসরায়েল নতুন পরিকল্পনা অনুমোদন করেছে। তবে জাতিসংঘ সতর্ক করেছে, এতে সাধারণ ফিলিস্তিনিদের জন্য ভয়াবহ পরিণতি নেমে আসতে পারে। গাজা শহরের প্রায় ৯০ শতাংশ ঘরবাড়ি ধ্বংস হয়ে গেছে এবং স্বাস্থ্য ও পানীয় জলের ব্যবস্থা ভেঙে পড়েছে। কয়েকদিন আগে প্রথমবারের মতো গাজা শহর ও আশপাশে আনুষ্ঠানিকভাবে দুর্ভিক্ষ পরিস্থিতি ঘোষণা করেছে জাতিসংঘ।
এমএস/