দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

দুই বছর আগেও গাজার সবচেয়ে বড় শহর ছিল প্রাণচঞ্চল। শ্রেণিকক্ষে ভরা থাকত স্কুলশিশু, বাজারে ভিড় জমাতেন ক্রেতারা, আর সমুদ্রপাড়ের ক্যাফেতে আড্ডা দিতেন অনেকে।
হাজার বছরের ইতিহাস সমৃদ্ধ গাজা নগরী অতীতে বহু সভ্যতার দখলে ছিল। ১৯৪৮ সালে ইসরায়েল প্রতিষ্ঠার সময় বাস্তুচ্যুত ফিলিস্তিনিদের জন্য এই শহরই ছিল অন্যতম আশ্রয়স্থল। এ কারণেই ২০০৭ সালে গাজা দখলে নেওয়ার পর হামাস এখানেই তাদের কার্যত রাজধানী গড়ে তোলে।
বছরের পর বছর সংঘাত, অবরোধ আর হামাসের একক শাসন ফিলিস্তিনিদের জীবনকে কঠিন করেছে। তবুও কাতারসহ আঞ্চলিক দেশগুলোর সহায়তা আর জাতিসংঘের ত্রাণ কার্যক্রম কিছুটা হলেও জীবনযাত্রার কাঠামো তৈরি করেছিল। মাটির নিচের সুড়ঙ্গপথ দিয়ে গাজার মানুষ বাইরের জগতের স্বাদ পেয়েছিল। জীবন সহজ না হলেও তখন শহরে ক্যাফেতে ম্যাচা লাটে খাওয়া বা পার্কে হাঁটার সুযোগ ছিল।
কিন্তু আজ সেই সাংস্কৃতিক ও অর্থনৈতিক প্রাণকেন্দ্র ভেঙে পড়েছে ধ্বংসস্তূপে। হামাসের ইসরায়েলে প্রাণঘাতী হামলার প্রায় দুই বছর পর শুরু হওয়া ইসরায়েলি আগ্রাসনে গাজা শহর পরিণত হয়েছে ধ্বংসস্তূপে। আবারও ফিলিস্তিনিরা দাঁড়িয়ে গেছে টিকে থাকার আতঙ্কের মুখে, কারণ ইসরায়েল নতুন করে হামলা চালানোর প্রস্তুতি নিচ্ছে।
হামাসের হামলার পর ইসরায়েলের পাল্টা আক্রমণে স্বাভাবিক জীবন পুরোপুরি ভেঙে পড়ে। হামাসের নিরাপত্তা বাহিনী ভেঙে পড়ায় হাজারো মানুষ এখন বিধ্বস্ত ভবনে আশ্রয় নিয়েছে। তাদের প্রতিদিনের অপেক্ষা—কখন আসবে খাবারের চালান, অথবা বাথরুমের পাইপ থেকে কখন টুপটাপ করে আসবে লবণাক্ত পানি, যাতে অন্তত একবার গোসলের সুযোগ পাওয়া যায়।
গাজায় সাংবাদিকদের প্রবেশ করতে দেয় না ইসরায়েল। তবে স্থানীয়রা সিএনএনকে শহরের ভয়াবহ চিত্র বর্ণনা করেছেন।
ইসরায়েলের অসংখ্য বিমান হামলায় আকাশছোঁয়া টাওয়ারগুলো ভেঙে পড়েছে। রাস্তায় জমেছে আবর্জনা আর পয়োঃনিষ্কাশনের পানি। জ্বালানি সংকটে মানুষ প্লাস্টিক আর কাঠ পুড়িয়ে রান্না করছে, যার কালো ধোঁয়ায় আকাশ ঢেকে যাচ্ছে। চারদিকে গুনগুন শব্দ তুলছে ড্রোন, তার সঙ্গে মিলেমিশে শোনা যাচ্ছে হঠাৎ বিস্ফোরণের শব্দ।
রাস্তায় বিদ্যুৎ সরবরাহ হয় এলোমেলো তার টেনে বসানো জেনারেটর থেকে, যা কিনতে সক্ষম কেবল সামর্থ্যবানরা। বাজারে পাওয়া যাচ্ছে কয়েকটি খাদ্যপণ্য, যার দাম আকাশছোঁয়া। অনেক সময় সেগুলোও লুট করা হয় সামান্য কিছু সাহায্যবাহী ট্রাক থেকে।
অচল হয়ে পড়েছে হাসপাতাল ও ফার্মেসি। চিকিৎসা সামগ্রী বা স্বাস্থ্যসেবা কিছুই নেই। ভিটামিন, খাবার আর পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার সামগ্রী না থাকায় ফিলিস্তিনিরা অসুস্থ ও দুর্বল হয়ে পড়ছেন।
সূত্র: সিএনএন
/অ