দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

বিচারক নামে আসা চিঠিতে ‘বিষাক্ত পাউডারের’ উপস্থিতির কারণে নিরাপত্তার কথা চিন্তা করে চিঠিপত্র ও কুরিয়ারে আসা পার্সেল গ্রহণের ক্ষেত্রে নতুন নিয়ম হচ্ছে লাহোরে হাইকোর্টে। বিচারকদের সুরক্ষায় নতুন ‘এসওপি’ (স্ট্যান্ডার্ড অপারেটিং প্রসিডিউর) প্রণয়নের পরিকল্পনা করছে আদালত কর্তৃপক্ষ।
শুক্রবার হাইকোর্ট প্রশাসন এক বিবৃতিতে বলেছে, “বিচারকদের চিঠিপত্র হস্তান্তরের ক্ষেত্রে নতুন এসওপি গ্রহণ করা হয়েছে।”
জিও নিউজ জানিয়েছে, এখন চিঠিপত্র আসলে সকল কুরিয়ার সার্ভিস কোম্পানি কিংবা ডাকপিয়নকে চিঠির উৎস পরিষ্কার করতে হবে। একজন
ডেপুটি পুলিশ সুপারিনটেনডেন্ট (ডিএসপি) পদমার্যাদার কর্মকর্তা চিঠিপত্রের নিরাপত্তা সংক্রান্ত খুঁটিনাটি বিষয় পরীক্ষা করবে। এরপর সেগুলো বিচারকদের কর্মকর্তাদের কাছে পাঠাবে।”
এর আগে আতিফ নামে এক ডাকপিয়ন হাইকোর্টের বিচারকের কাছে চিঠি নিয়ে আসেন। ওই চিঠিতে মেশানো হয়েছি ‘বিষাক্ত পাউডার’। বিষয়টি টের পেলে তোলপাড় শুরু হয়।
আতিফ জানান, চিঠি পাঠানো তার রুটিন দায়িত্ব। কিন্তু সেসব চিঠি কোন জায়গা থেকে এসেছে, সেটি তিনি জানতেন না।
ওই ঘটনার পরে পাকিস্তান ডাক বিভাগ কর্মীদের নিরাপত্তার জন্যও বিশেষ ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে। চিঠি ও অন্যান্য মেইলগুলো পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে যাচাইয়ের পদক্ষেপ নিয়েছে। কর্মীদের নিরাপত্তার জন্য মাস্ক ও হাতে পরার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। এছাড়া যেসব চিঠি বিচারক, কূটনীতিক এবং অন্যান্য ঊর্ধ্বতন ব্যক্তিত্বদের নামে আসে, সেগুলো সাবধানে আরো সতর্কতা মেনে যাচাইয়ের নির্দেশনাও দেওয়া হয়েছে।
বিচারকাজে গোয়েন্দাদের হস্তক্ষেপ নিয়ে হাইকোর্টের যে আট বিচারক অভিযোগ জানিয়েছিলেন, তাদের সবাইকে সাদা পাউডার লাগানো চিঠি পাঠিয়ে হুমকি দেওয়া হয়। ওই ঘটনার পর তারা সন্ত্রাসের অভিযোগে মামলা দায়ের করেন।
ওই চিঠিগুলোর একটিতে সন্দেহজনক রাসায়নিক পাউডার লাগানো ছিল। ওই পাউডার আবিষ্কারের পরই অন্য বিচারকদের চিঠি না খোলার জন্য দ্রুত অনুরোধ জানানো হয়। ঘটনার সম্ভাব্য বিপজ্জনক পরিস্থিতি সম্পর্কে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে অবহিত করা হয়।
বিষয়টি জেনে পুলিশ ইসলামাবাদ হাই কোর্টে ছুটে যায় এবং চিঠিগুলো উদ্ধার করে। কিন্তু এর মধ্যে চারটি চিঠি খুলে ফেলা হয়। চিঠিগুলো পাঠানো হয় তেহরিক নমুস-ই-পাকিস্তান নামে পরিচিত একটি সংগঠন থেকে। চিঠিতে বিচার ব্যবস্থার সমালোচনা করে হুমকি হিসেবে ‘ব্যাসিলাস অ্যানথ্রাসিস’ শব্দ ব্যবহার করে, যা মূলত অত্যন্ত বিপজ্জনক পরিস্থিতি নির্দেশ করে।
অ্যানথ্রাক্স ব্যাকটেরিয়া বা ব্যাসিলাস অ্যানথ্রেসিস মানুষের স্বাস্থ্যের জন্য গুরুতর। এর মাধ্যমে রক্তে শক্তিশালী বিষাক্ত রাসায়নিক যুক্ত হয়ে গুরুতর অসুস্থতা এমনকি মৃত্যুও হতে পারে। এর চিকিৎসার জন্য সাধারণত অ্যান্টিবায়োটিকের দীর্ঘ কোর্স দেওয়া হয়ে থাকে।