দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

৩০০ মেগাওয়াট ক্ষমতাসম্পন্ন একটি ভাসমান সৌর বিদ্যুৎ প্রকল্প বাতিল করেছে পাকিস্তান। প্রকল্পটির জন্য বিশ্বব্যাংক ৩০০ মিলিয়ন ডলার ঋণ দেওয়ার প্রস্তাব দিয়েছিল। শনিবার (২১ ডিসেম্বর) এক্সপ্রেস ট্রিবিউনকে সরকার নিশ্চিত করেছে যে তারা ‘বিশ্বব্যাংককে ৩০০ মেগাওয়াট ভাসমান সৌর প্রকল্পের প্রস্তুতি স্থগিত রাখতে বলেছে’। ২০২৪-২০৩৪ সালের নির্দেশিত বিদ্যুৎ উৎপাদন ক্ষমতা সম্প্রসারণ পরিকল্পনা (আইজিইসিইপি)-তে প্রকল্পটি অন্তর্ভুক্ত না থাকায় বিদ্যুৎ বিভাগ ঋণসহ প্রকল্পটি বাতিল করেছে। সরকারি নথি অনুযায়ী, বিদ্যুৎ বিভাগ ২০ ডিসেম্বর ভাসমান সৌর বিদ্যুৎ (এফপিভি) প্রকল্প বাতিলের সিদ্ধান্ত অর্থ মন্ত্রণালয় ও বিশ্বব্যাংককে জানিয়েছে। অথচ প্রকল্পটি অত্যন্ত সাশ্রয়ী ছিল এবং মাত্র পাঁচ বছরের মধ্যেই বিদেশি ঋণ পরিশোধ সম্ভব ছিল। শুক্রবার (২০ ডিসেম্বর) অর্থ সচিব ড. কাজিম নিয়াজকে লেখা বিদ্যুৎ বিভাগের এক স্মারকে বলা হয়েছে, ‘আইজিইসিইপি ২০২৪-৩৪ এর খসড়ায় প্রস্তাবিত প্রকল্পটি অন্তর্ভুক্ত হয়নি, যদিও এটি প্রণয়নের চূড়ান্ত পর্যায়ে ছিল।’ স্মারকে আরও বলা হয়, ‘বিদ্যুৎ বিভাগ এমন কোনো প্রকল্পে ঋণ নেওয়ার সুপারিশ করে না যেখানে বিদ্যুৎ ক্রেতা বা সিপিপিএ-জি (কেন্দ্রীয় বিদ্যুৎ ক্রয় সংস্থা-গ্যারান্টি) নিশ্চিত নয়।’ তারবেলা ও গাজী বারোথা জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের জলাশয়ে এই প্রকল্পটি নির্মাণের পরিকল্পনা ছিল। ২০২১ সালে সরকার প্রকল্পটির সম্ভাব্যতা যাচাইয়ের অনুমোদন দিয়েছিল। গাজী বারোথা ও তারবেলা প্রকল্পের কাছে অবস্থিত হওয়ায় নতুন ট্রান্সমিশন লাইনের প্রয়োজন ছিল না। ২০২৭ সালের মে মাসের মধ্যে প্রকল্পটি জাতীয় গ্রিডের সঙ্গে সংযুক্ত করার এবং ২০২৬ সাল থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদন শুরু করার পরিকল্পনা ছিল। নথিপত্র অনুযায়ী, প্রস্তাবিত ভাসমান সৌর প্ল্যান্টের বিদ্যুৎ ৮৬টি বিদ্যমান তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রের চেয়েও কম খরচে উৎপাদন সম্ভব ছিল। ভাসমান সৌর প্রকল্প ৬৪টি তাপীয় বিকল্পের তুলনায় ৬০% এরও বেশি এবং ৫৫টি তাপীয় ইউনিটের তুলনায় ১০০% এরও বেশি সস্তা হতো। অভ্যন্তরীণ মূল্যায়নে দেখা গেছে, পাকিস্তান পাঁচ বছরে মোট মূলধন ব্যয় উদ্ধার করে বার্ষিক ৭২ মিলিয়ন ডলারেরও বেশি বৈদেশিক মুদ্রা সাশ্রয় করতে পারত। ভাসমান সৌর প্যানেল স্থাপনের ফলে পাকিস্তান ব্যয়বহুল ও অদক্ষ তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রের ব্যবহার কমিয়ে বিদ্যুৎ উৎপাদনের ব্যয় কমাতে পারত। সূত্র মতে, জ্বালানি আমদানিকারকদের প্রভাবের কারণেই প্রকল্পটি বাতিল করা হয়েছে। পরিবেশগত সুবিধা বাদ দিলেও সৌর প্রকল্পের অর্থনৈতিক রিটার্ন হার (ইআরআর) ছিল ৪২.৪% এবং পরিবেশগত সুবিধাসহ ৫১%। বর্তমানে দেশটির বেশিরভাগ শহর ঘন কুয়াশায় ঢাকা এবং জনগণ স্বাস্থ্যগত সমস্যার সম্মুখীন হওয়ায় পরিবেশ ও স্বাস্থ্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বিড়ম্বনার বিষয় হলো, প্রকল্পটি বাতিলের একদিন আগে জল ও বিদ্যুৎ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (ওয়াপদা) বিদ্যুৎ বিভাগকে জানিয়েছিল যে ‘প্রকল্পের ব্যয় ২৩৮ মিলিয়ন ডলারে নামিয়ে আনা হয়েছে’। ওয়াপদা জানায়, প্রকল্পের জীবনকাল ৩০ বছর বাড়ালে ট্যারিফ আরও কমে ২.৯৮ মার্কিন সেন্ট প্রতি ইউনিটে নেমে আসবে। এই ট্যারিফ ‘পাকিস্তানের জন্য উল্লেখযোগ্য অর্থনৈতিক সুবিধা’ বয়ে আনত। প্রকল্প বাতিলের ফলে নবায়নযোগ্য শক্তির ব্যবহার বৃদ্ধিতে পাকিস্তান ক্ষতিগ্রস্ত হবে। বিশ্বব্যাংকের নথি অনুযায়ী, পাকিস্তানের বিদ্যুৎ উৎপাদন ক্ষমতা চাহিদার চেয়ে কম। অকেজো প্ল্যান্ট, জলবায়ুগত, অর্থনৈতিক ও বৈদেশিক মুদ্রার সীমাবদ্ধতার কারণে ৪৩,৭০০ মেগাওয়াট স্থাপিত ক্ষমতা থাকলেও গ্রীষ্মে ৩০,০০০ মেগাওয়াটের চূড়ান্ত চাহিদা মেটাতে পারে না। জ্বালানি মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র জানিয়েছেন, সরকার দীর্ঘমেয়াদী জ্বালানি চাহিদা ও বিদ্যুৎ উৎপাদন পরিকল্পনা পুনর্মূল্যায়ন করছে। এজন্য আইজিইসিইপি আপডেট করা হচ্ছে। তিনি আরও বলেছেন, বিশ্বব্যাংক পাকিস্তানের জ্বালানি রূপান্তরে সহায়তা করছে। সরকারের জ্বালানি খাতের রূপান্তরের জন্য আরও সময় প্রয়োজন। আইজিইসিইপি আপডেট হলে সরকার প্রকল্পটি পুনর্বিবেচনা করতে পারে।