দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

‘গুরুত্বপূর্ণ কাজ’ ছাড়া ইন্টারনেট ব্যবহার না করার পরামর্শ দিয়েছেন পাকিস্তানের মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সচিব সৈয়দ সাজিদ মেহেদি। ঘন ঘন ইন্টারনেট ধীরগতির সমাধান হিসেবে রোববার দেশবাসীকে ইন্টারনেট কম ব্যবহার করার পরামর্শ দেন তিনি। পাকিস্তানে সাম্প্রতিক মাসগুলোতে ইন্টারনেটে ধীরগতি পাচ্ছেন ব্যবহারকারীরা। হোয়াটসঅ্যাপে মিডিয়া ডাউনলোড করতে অসুবিধায় পড়ছেন তারা। সারা দেশে মাঝে মাঝে সংযোগের সমস্যাও হচ্ছে। ইন্টারনেটকে একটি রাস্তার সাথে তুলনা করে মন্ত্রীপরিষদ সচিব বলেন, ‘যত বেশি মানুষ এটি ব্যবহার করবে, এটি তত বেশি যানজট হবে এবং লোকেরা ধীরে ধীরে চলাচল করবে। আমাদের ইন্টারনেটে প্রচুর লোড রয়েছে, ঠিক যেমনটা একটি যানজটপূর্ণ রাস্তায়। যানজট থাকলে গাড়ি ধীরগতিতে চলে। যদি ১০ জন লোক পাঁচজনের জন্য একটি রাস্তা ব্যবহার করে, তবে এটি সব কিছুকে ধীর করে দেবে।’ সচিব আরও বলেন, পাকিস্তানের ফাইবার নেটওয়ার্কের ক্ষমতা ভারতের ৪৫ শতাংশের তুলনায় মাত্র ১৫ শতাংশ। এটি ধীর ইন্টারনেটের আরেকটি কারণ। সমস্যাটি সমাধানের জন্য কাজ চলছে এবং খুব দ্রুত শেষ হবে। ইন্টারনেটের ‘অপ্রয়োজনীয়’ ব্যবহারকে রোধ করলে গতির উন্নতি হবে জানিয়ে মন্ত্রীপরিষদ সচিব বলেন, ‘আমি বলছি না ইন্টারনেট ব্যবহার বন্ধ করুন। তবে এটি শুধুমাত্র কাজের মতো গুরুত্বপূর্ণ উদ্দেশ্যে ব্যবহার করুন। অপ্রয়োজনীয় উদ্দেশ্যে নয়।’ ইন্টারনেটের ধীরগতির কারণে তথ্যপ্রযুক্তি খাতের আর্থিক ক্ষতি হচ্ছে এমন দাবির সঙ্গেও দ্বিমত পোষণ করেন সচিব। পাকিস্তানের সবচেয়ে জনপ্রিয় দৈনিক ‘ডন’ জানিয়েছে, সাইবার স্পেসে ‘প্রচার বা সন্ত্রাসবাদ’ ঠেকাতে সরকার কীভাবে ইন্টারনেট অ্যাক্সেসের বিষয়টি পরিচালনা করে তা নিয়ে হতাশা প্রকাশ করেছেন আইটি খাতের পেশাদাররা। আইটি বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এক ঘণ্টা ইন্টারনেট বিভ্রাট বা ব্যাঘাতের ফলে রপ্তানি ব্যবসাসহ পুরো সেক্টরের জন্য এক মিলিয়ন ডলারের বেশি ক্ষতি হয়। পাকিস্তান সফটওয়্যার হাউস অ্যাসোসিয়েশনের চেয়ারম্যান সাজ্জাদ মুস্তাফা সৈয়দ বলেন, ‘এক ঘণ্টার ইন্টারনেট স্লোডাউন জনগণের ওপর কোনো উল্লেখযোগ্য প্রভাব ফেলতে পারে না। তবে যে কোনো স্টক মার্কেট, বিমানবন্দর পরিষেবা, ব্যাঙ্কের গ্রাহকদের পরিষেবাতে বিঘ্ন ঘটাতে পারে। এভাবে চলতে থাকলে উন্নত দেশগুলো পাকিস্তানের আইটি খাতের উপর আস্থা হারাতে পারে।’